Monday, September 28, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে ও পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরদখল-চাঁদাবাজিতে রাজধানীতে আতঙ্ক

দখল-চাঁদাবাজিতে রাজধানীতে আতঙ্ক

রাজধানীতে হঠাৎ করেই শুরু হয়েছে দখল ও চাঁদাবাজির মহোৎসব। শুক্রবার রাতে মিরপুরে সুবিধাবঞ্চিত মা ও শিশুদের জন্য প্রতিষ্ঠা করা ৫২ বছরের পুরোনো রাড্ডা এমসিএইচ-এসপি সেন্টারে (রাড্ডা হাসাপতাল) হামলা চালিয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। গত শনিবার রাতে মাটিকাটা ইসিবি চত্বর এলাকায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ স্টুডিও’ ভেঙে লন্ডভন্ড করে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। একই দিন মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যানে জমি দখলের জন্য ২০০-২৫০ লোক একযোগে হামলা চালায় একটি অফিসে। চাঁদা না পেয়ে আদাবরের শ্যামলী হাউজিংয়ের এক বাড়িতে সশস্ত্র দূর্বৃত্তরা হামলা চালিয়েছে।

এসব ঘটনায় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ চাঁদাবাজির জন্য এ হামলা চালানো হয়। গত কয়েক দিন চলমান প্রত্যেকটি ঘটনার সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। পুলিশ বলছে, চাঁদাবাজি নয়, বিরোধপূর্ণ জমি পাল্টাপাল্টি দখলকে কেন্দ্র এসব ঘটনা ঘটেছে। প্রত্যেকটি ঘটনার আলাদা করে তদন্ত হচ্ছে। তদন্তে যাদের নাম আসবে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

ঘটনাগুলোর ছায়া তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সংস্থাটির প্রধান শফিকুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, ‘প্রতিটি ঘটনা আলাদা করে তদন্ত চলছে। প্রাথমিকভাবে আমরা নিশ্চিত হয়েছি বিরোধপূর্ণ জমি দখল ও পাল্টা দখলকে কেন্দ্র করে এসব ঘটনা ঘটেছে। তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততা আসবে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই দেখা হবে, কারো রাজনৈতিক পরিচয় দেখা হবে না।’

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা চাঁদাবাজির কারণে নয়, প্রায় ৩৫ কাঠা জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ঘটেছে। প্রাথমিকভাবে ‘নিউ গিনি প্রপার্টিজ’ নামে বিল্ডার্স প্রতিষ্ঠান এবং এক অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তার পক্ষের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধের তথ্য মিলেছে। অবসরপ্রাপ্ত ওই সামরিক কর্মকর্তার পক্ষে কিছু লোক রাতে জমিটি দখলের চেষ্টা করে। ওই স্থাপনার মধ্যে মুক্তাদিরের টিনশেড ঘর ছিল, যেখানে তিনি কনটেন্ট তৈরি করতেন। সেটিও ভাঙচুর করা হয়। মুক্তাদির ‘ভিকটিমাইজড’ হয়েছেন।

গুলি করতে করতে ঢোকে দুর্বৃত্তরা

মুক্তাদিরের স্টুডিওটি ইসিবি চত্বরের নিউগিনি প্রপার্টিজে অবস্থিত। হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের সময় আশপাশের কয়েকটি বাড়ি ও স্থাপনাতেও হামলা করা হয়। নিউগিনি প্রপার্টিজের কর্মকর্তা পল্লব আলী জানান, হামলাকারীরা পাঁচটি পিকআপে করে এসেছিল। তাদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। তারা গুলি করতে করতে হাউজিংয়ের ভেতরে প্রবেশ করে। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত চার ব্যক্তিকে আটক করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। আটকরা হলেনÑভাষানটেক বস্তির মো. মামুন, মজুমদারের মোড়ের আসলাম ও মুন্না।

এদিকে মুক্তাদির অভিযোগ করে বলেন, বিএনপির লোকজন তার কাছে চাঁদা দাবি করেছিলেন। দিতে অস্বীকার করায় প্রতিশোধ হিসেবে স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে দুর্বৃত্তদের একটি দল হঠাৎ স্টুডিওতে ঢুকে ভাঙচুর শুরু করে। তাদের কয়েকজনের হাতে চাপাতি ও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। হামলার সময় স্টুডিওর কর্মকর্তারা টয়লেটে আশ্রয় নিলে সেখানে গিয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাদের মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে যাওয়া হয়।

সরেজিমন গিয়ে জানা গেছে, ওই হামলা ও দখলে নেতৃত্ব দেন শ্রমিক দল নেতা সোহাগ। তিনি আগে শ্রমিক লীগ নেতা ছিলেন। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর তিনি শ্রমিক দল নেতা হয়ে যান। তার সঙ্গে অন্য যারা হামলায় অংশ নেন তারাও শ্রমিক দলের কর্মী বলে স্থানীয়রা দাবি করেন।

পুলিশ বলছে, মুক্তাদিরের স্টুডিওটি নিউগিনি প্রপার্টিজ নামে একটি হাউজিং কোম্পানির জমিতে। যার মালিক নাজিম উদ্দিন রাজু। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে তিনি আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি ছিলেন। জুলাই বিপ্লবের পর তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা হয়। মামলায় তিনি জেলও খাটেন। মামলা থেকে খালাস পেয়ে নিজেকে বিএনপিকর্মী হিসেবে পরিচয় দেন। নাজিমের কাছ থেকে ৫,০০০ বর্গফুট জায়গা ভাড়া নিয়ে মুক্তাদির স্টুডিও বসিয়েছেন। স্থানীয়রা জানান, হামলার সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ গেলে হামলাকারীদের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। সন্ত্রাসীদের বেপরোয়া গুলির মুখে পুলিশ পিছু হটে। পরে হামলাকারীরা সেখান থেকে চলে যান।

স্থানীয় বাসিন্দা সাব্বির জানান, আবাসন ব্যবসায়ীদের মধ্যে এখানে জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। যে পক্ষ থেকে সোহাগ গ্যাংকে টাকা বেশি দেন, তার পক্ষ হয়ে তিনি এ এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করেন। তাকে ঘিরে এলাকায় আতঙ্ক রয়েছে। তিনি অস্ত্রশস্ত্র ও দলবল নিয়ে চলেন। মুক্তাদিরের স্টুডিওতে সোহাগ চাঁদা দাবি করেছিলেন।

গতকাল দুপুরে ইসিবি চত্বরের গলির মধ্যে মুক্তাদিরের স্টুডিওতে গিয়ে দেখা যায়, স্টুডিওটি তছনছ হয়ে পড়ে আছে। মেঝেতে পড়ে আছে কাচের টুকরা, ভাঙা সোফা, বাদ্যযন্ত্র ও বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্র। একটি কক্ষের আসবাব ও ড্রয়ারগুলো তছনছ করা। কোথাও সিসিটিভির তার কেটে ফেলা হয়েছে। স্টুডিওর এমন কোনো অংশ নেই, যেখানে হামলার চিহ্ন নেই।

হামলার বিষয়ে নিউগিনি প্রপার্টিজের মালিক নাজিম উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনাটি নিছক কোনো আকস্মিক হামলা নয়। চাঁদা দাবি এবং জমি দখলের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়। এর পেছনে সংঘবদ্ধ চক্র কাজ করছেন।

তিনি জানান, মূল সমস্যা প্রকল্পের এ জায়গা নিয়ে নয়। সমস্যা হচ্ছে, এ ১০ কাঠার পাশে আরেকটি জায়গা আছে, যা তিনি আমাকে দিয়ে ডেভেলপ (মাটি ভরাট) করিয়েছেন। আমার কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন, কিন্তু রেজিস্ট্রি করে দিচ্ছেন না। বিরোধপূর্ণ ওই জমির মালিক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন।

এদিকে গতকাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার মাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে আমাদের কাছে মনে হয়েছে, জমিকে কেন্দ্র করে বা জমির দখল-বেদখলকে কেন্দ্র করে বিবাদ থাকতে পারে। এটা নিয়ে আমরা তদন্ত করছি।

মোহাম্মদপুরে জমি দখল-ভাঙচুর

মোহাম্মদপুরের চাঁদ হাউজিং এলাকায় জমি দখল ও হামলা ভাঙচুর করা হয়েছে। এরপর গতকাল ঘটনাস্থলে নতুন করে টিনের বেড়া দেওয়া হয়েছে। জায়গাটির প্রবেশমুখ বাঁশ দিয়ে আটকানো হয়েছে। একটি অফিসের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত দেখা গেছে। সেখানে আগের সাইনবোর্ড সরিয়ে নতুন লাল রঙের সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে। ক্রয়সূত্রে ওই জমির মালিক হিসেবে তিনজনের নাম লেখা রয়েছে।

জমির মালিক দাবিদার আলম হোসেনের ম্যানেজার মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, ভোলার বাসিন্দা খোকন চৌধুরী ওই এলাকায় ১০ কাঠা জমি কিনে ভবন তৈরি করেছেন। হামলার পেছনে সাঈদ ইকবাল মাহমুদ (বস টিটু), সহিদুর আলম প্রিন্স, কাজী মঞ্জু হোসেন ও রেজাউল করিম খন্দকারসহ কয়েকজনের ইন্ধন রয়েছে।

খোকন চৌধুরী জানান, জমিটি তাদের কেনা সম্পত্তি এবং সেটি পুনরুদ্ধারকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে হামলা ও দখলের চেষ্টা হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে মোহাম্মদ মোস্তাকের রহমান খোকন চৌধুরী বলেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন। দখলবাজ আলম হোসেন যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানকের ঘনিষ্ঠ। বর্তমানে আত্মগোপনে থেকে অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে তিনি আগের মতোই ক্ষমতা দেখাচ্ছেন।

সরেজমিন গেলে লোকজন অভিযোগ করেন, শনিবারের ওই দখলে সম্পৃক্ত ছিলেন মোহাম্মদপুর থানার ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক নুরুল ইসলাম ও যুগ্ম সম্পাদক নান্নু। তাদের সঙ্গে ছিলেন বিএনপিকর্মী নুর নবী দেওয়ান ও জামাল হোসেনসহ কয়েকজন। তাদের নির্দেশেই লুটপাট ও ভাঙচুর করা হয়।

হামলার কারণ জানতে চাইলে নুরুল ইসলাম বলেন, ‘এ হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় আমি কিছুই জানি না। আমি মূলত ওই জমিতে থাকা স্থাপনা আলম হোসেনের ম্যানেজার সাদেকের কাছ থেকে কিনেছি। চার মাস ধরে আমি স্থাপনা ভাঙছি। আমি জমির বিষয় কিছুই জানি না।’

তিনি আরো দাবি করেন, ‘স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের নামধারী কিছু লোক এ হামলা ও লুটপাট করেছে। তাদের মদত দিয়েছে তৃতীয় একটি পক্ষ, যারা এখন জমির মালিককানা দাবি করছেন। আমার কেনা মালপত্রও লুট হয়েছে।’

ডিএমপির তেজগাঁও জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার জুয়েল রানা জানান, জমিটির মালিকানার বিষয়ে দুপক্ষই কাগজপত্র থাকার দাবি করছে। এটি দেওয়ানি বিষয়।

চাঁদা না পেয়ে হামলা

আদাবরের শ্যামলী হাউজিং এলাকায় গত শনিবার ভোরে একটি আটতলা বাড়িতে সশস্ত্র হামলা ও দখলের চেষ্টার খবর পাওয়া গেছে। বাড়ির মালিক ব্যবসায়ী আমিনুর রহমানের ভাতিজা মনির হোসেনের দাবি, ভোর সাড়ে ৬টার দিকে ১৫-২০ জনের একটি দল রামদা, চাপাতি ও পিস্তল নিয়ে বাড়িটির সামনে আসে। তারা গেট খুলে বাসিন্দাদের বের হয়ে যেতে বলে। গেট না খোলায় হামলাকারীরা ফটকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপাতে থাকে। তারা সিসিটিভি ক্যামেরা ও জানালার কাচ ভাঙচুর করে। পরে ইট ছুড়ে আরো কয়েকটি জানালার কাচ ভাঙা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, হামলার সময় পুলিশকে ফোন দিলে প্রায় তিন ঘণ্টা পর পুলিশ আসে। আদাবর থানায় এ বিষয়ে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

আদাবর থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম বলেন, বাড়িটি নিয়ে বিরোধ আছে। আগেও ঝামেলা হয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টে বাড়িটি দখলের পর আদালতের নির্দেশে পিবিআই তদন্ত করে এবং গত ১২ মার্চ তারা বাড়িটির দখল ফিরে পান।

রাড্ডা হাসপাতালে হামলার নেতৃত্বে যারা

গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মিরপুর ১ নম্বরে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট হয়। ওই ঘটনায় হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার বাদী হয়ে শাহ আলী থানায় মামলা করেন। পুলিশ রাতে অভিযান চালিয়ে সোহেল (২২), জুয়েল (২৩), জিহাদ হাসান (২১) ও রাব্বিকে (২০) গ্রেপ্তার করে। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।

জানা গেছে, স্থানীয় তিনটি গ্রুপ বহু বছর ধরে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জায়গা দখলে নেওয়ার চেষ্টায় ছিল। রাড্ডার ১০ কাঠা জমি তাদের পারিবারিক সম্পত্তি বলে একটি গ্রুপ দাবি করে। ওই পরিবারের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতা আছে। আওয়ামী সরকারের পতনের পর গ্রুপটি এলাকা ছাড়া। এছাড়া স্থানীয় বিএনপির দুটি গ্রুপ ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে জায়গাটি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করে। জমিটি নিয়ে পাল্টাপাল্টি মামলা ও রিট আছে।

রাড্ডা কর্তৃপক্ষ ও বিএনপির একাধিক নেতার অভিযোগÑএকটি গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। দখলদার সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতির সদস্য তালিকায় তার নাম আছে।

রাড্ডার নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন বলেন, জায়গাটি গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ছিল। তারা এটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে দিয়েছেন। এ জায়গায় টিকা ও স্বাস্থ্যসেবামূলক কার্যক্রম চালাতে রাড্ডাকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অনাপত্তিপত্র দিয়েছে। কয়েক দশক ধরে রাড্ডা জায়গা ব্যবহার করছে। জায়গাটি পেতে রাড্ডার পক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে রিট রয়েছে, যা এখনো নিষ্পত্তি হয়নি।

পুলিশি তদন্ত ও স্থানীয়দের দাবি মতে, রাড্ডা হাসপাতালে হামলা ও ভাঙচুরের নির্দেশদাতা মিষ্টি। হামলায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অংশ নেন বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা জগলুল পাশা পাপেল, মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য হানিফ মিয়া, বহিষ্কৃত বিএনপিকর্মী আবুল কালাম আজাদ লেলিন ওরফে শুটার লেলিন, শাহ আলী থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খলিল চৌধুরী ওরফে ফরমা খলিল, স্বেচ্ছাসেবক দলের দারুস সালাম থানার সাধারণ সম্পাদক হাফিজ, শাহ আলী থানা ছাত্রদলের সহসভাপতি মো. সজিব, সাধারণ সম্পাদক আল-আমীন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আওলাদ, সি ব্লক বিএনপি ইউনিটের সভাপতি মো. আনোয়ার, নিউ ‘সি’ ব্লক ইউনিট বিএনপির সভাপতি চানমিয়া, মো. হাছান, শ্রমিক নেতা মো. হারুন, শ্রমিক দলের মো. মনি, বক্সনগরের স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মিশু, বহিষ্কৃত যুবদল নেতা ইটা বাবু, যুবদল নেতা চা লিটন, নূর আলম ও মিষ্টির দেবর মো. শামীম।

রাড্ডা হাসপাতাল ভাঙচুরের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি মিষ্টি আমার দেশকে বলেন, এ হামলা-ভাঙচুরের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমি এ ঘটনায় কোনোভাবেই জড়িত নই। আমি চাই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হোক, যারা এ ঘটনায় দায়ী তাদের শাস্তি হোক।

শাহ আলী থানার ওসি প্রত্যাহার

রাড্ডা ক্লিনিকে হামলার ঘটনায় শাহ আলী থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাকে কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তরের সদর দপ্তর ও প্রশাসন বিভাগে সংযুক্ত করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

four × one =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য