সংবিধানের চার মূলনীতি বহাল রাখার পাশাপাশি ইসলামের সঙ্গে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টধর্মকেও রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। একই সঙ্গে ধর্মীয় ও জাতিগত বৈষম্য দূর করা এবং সংসদসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে সংখ্যালঘুদের জনসংখ্যার অনুপাতে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি।
বুধবার সন্ধ্যায় সংবিধান সংশোধনে গঠিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের কাছে ই-মেইলে এসব সুপারিশ পাঠায় ঐক্য পরিষদ।
সুপারিশপত্রে স্বাক্ষর করেছেন সংগঠনটির তিন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার ও নির্মল রোজারিও এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ।
আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য, স্বাধীনতা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সংবিধানের চার মূলনীতি জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা বহাল রাখার আহ্বান জানিয়েছে ঐক্য পরিষদ। পাশাপাশি বৈষম্যহীন, মানবিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সংবিধান থেকে ধর্মীয় ও জাতিগত বৈষম্য দূর করার উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করেছে তারা।
প্রয়োজনে সংবিধানের ২ক অনুচ্ছেদ সংশোধন করে ইসলামের পাশাপাশি হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টধর্মকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি। বর্তমানে এই অনুচ্ছেদে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাহী কমিটির সভায় গৃহীত আরেকটি সুপারিশে জাতীয় সংসদ এবং বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও সরকারি কর্ম কমিশনসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জনসংখ্যার অনুপাতে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
ঐক্য পরিষদ জানায়, সংবিধান সংস্কার নিয়ে আলোচনায় অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ না পাওয়ায় সংগঠনটির নির্বাহী কমিটি ৮ অক্টোবরের সভায় এসব সুপারিশ চূড়ান্ত করে। ই-মেইলে তারা উল্লেখ করেছে, বিশেষ সংসদীয় কমিটি বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা শুরু করলেও ঐক্য পরিষদকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এ কারণে বিবেচনার জন্য কমিটির সভাপতির কাছে সরাসরি প্রস্তাবগুলো পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় সংগঠনটি।
সূত্রঃ দ্য ডেইলি স্টার
