শির্কের একটা সর্বগ্রাসী প্রভাব আছে। শির্কের বিস্তার শুরু হলে সেটা শুধু বিস্তৃতই হতে থাকে। যেমনটা আমরা ইবনু আব্বাসের [রা.] বর্ণনা থেকে জানি যে নূহ [আ.] এর পূর্বে কিভাবে শির্কের বিস্তার ঘটেছিল। অর্থাৎ শুরুটা ছোট মনে হলেও ধীরে ধীরে তা ব্যাপকতা লাভ করে।
এজন্য ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে শির্কের সাথে জিরো টলারেন্স। যেসকল হাদিসে শির্কের ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে সেখানে দেখবেন شَيْئًا বলা হয়েছে, যেমন يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا। আরবিতে شَيْء অর্থ thing, something. অর্থাৎ সে আল্লাহর সাথে কোনো কিছুকে শরীক করে…
ইসলাম আল্লাহ তাআলার সাথে সামান্যতম কিছুর শরীক করাকেও বরদাস্ত করেনা। কেননা আল্লাহর সাথে কোনো কিছুই শরীক হতে পারেনা তা সেটা ছোট কিছু হোক বা বড় কিছু। তার ওপর এই দরজা একবার খুলে দিলে সৃষ্ট জীব প্রায় সকল বিষয়েই শরীক স্থির করে বসে। এমন কি অনেকের শির্কের মূল কার্যকারণ হচ্ছে নফস বা প্রবৃত্তি। অর্থাৎ প্রবৃত্তির কামনাবাসনাকে আল্লাহর সাথে শরীক করে ছেড়েছে সে, যেমন ইবলিস নিজে।
কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে ইসলামী বিশ্বাসের মূল, “শির্কের ব্যাপারে নেতিবাচকতা” আমাদের মাঝ থেকে বিদায় নেয়ার পথে। সম্ভবত এর কারণ হচ্ছে মানুষের সচেতনতাকে রোধ করা। একটু বুঝিয়ে বলি। একটা সময় আলহামদুলিল্লাহ শির্কের যাবতীয় দিক নিয়েই ভালো আলোচনা চলছিল, এতে অনেকেই সচেতন হচ্ছিল। মানুষ মূর্তির শির্ক থেকে নিয়ে শাসনকর্তৃত্বের শির্ক নিয়েও জানছিল ও সচেতন হচ্ছিল। যে কোনো দাওয়াতেই বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ির সহাবস্থান থাকে। এজন্য এমন একটা দল থাকা আবশ্যক যারা সঠিক পথ প্রদর্শন করবে। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন, “আর যেন তোমাদের মধ্য থেকে এমন একটি দল হয়, যারা কল্যাণের প্রতি আহবান করবে, ভাল কাজের আদেশ দেবে এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করবে। আর তারাই সফলকাম।” [সূরা আলে ইমরান: ১০৪]
তাওহিদের দাওয়ার ব্যাপারে হতে পারে এরকম ব্যক্তিত্ব আমরা কম দেখেছি। অন্যদিকে একটা বিশাল সংখ্যায় জ্ঞানী (!) ব্যক্তিরা ধর্মীয়, দলীয়, রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত কারণে একে ডাউন গ্রেড করেছে। ফলে মানুষের মাঝ থেকে এই আলোচনাই হারিয়ে গেছে।
ফলে গ্র্যাজুয়ালি শির্ক তার সর্বগ্রাসী প্রভাব বিস্তার করেছে। এখন দেখা যাচ্ছে শির্কে আসলী, যার ব্যাপারে কারও দ্বিমত নেই, সেই মূর্তি পূজাকেও মানুষ বিশেষ কিছু ভাবছেনা।
এর ফল গ্র্যাজুয়ালি সামনে আরও প্রকট হবে, এটা আমি লিখে রাখলাম। আপনারা মনে রাখতে পারেন। এটা আসলে অবশ্যম্ভাবী, যদি না তাওহিদ ও শির্ক বিষয়ক দাওয়াহকে আবারও চাঙ্গা করা যায়।
এখন আমরা ঐ পর্যায়ে আবারও পৌঁছে যাচ্ছি যে,
وَمَا یُؤۡمِنُ أَكۡثَرُهُم بِٱللَّهِ إِلَّا وَهُم مُّشۡرِكُونَ
“অধিকাংশ মানুষ আল্লাহতে বিশ্বাস করে, কিন্তু সাথে সাথে শিরকও করে।” [সূরা ইউসুফ: ১০৬]
© উস্তায Manzurul Karim
