Tuesday, October 27, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে ও পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবররমজানের আগেই ভোজ্যতেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়াতে চান ব্যবসায়ীরা

রমজানের আগেই ভোজ্যতেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়াতে চান ব্যবসায়ীরা

রমজান সামনে রেখে নিত্যপণ্যের বাজারে নতুন করে দাম ও সরবরাহের হিসাব কষতে শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি ও পরিবহন ব্যয় বাড়ার কথা জানিয়ে ভোজ্যতেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। একই বৈঠকে খেজুর আমদানির শুল্ক কমানোর দাবিও উঠেছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার বৈঠকে এসব প্রস্তাব দেওয়া হয়। রমজানে প্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি প্রস্তুতি, সরবরাহের সম্ভাব্য বাধা এবং বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

তবে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। খেজুরে শুল্কছাড়ের বিষয়টি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

আমদানিকারকদের হিসাবে, বর্তমানে খেজুর আমদানিতে শুল্ক ও কর মিলিয়ে প্রায় ৫৫ শতাংশ দিতে হয়। তাঁদের দাবি, উচ্চ শুল্ক মূল্যের সঙ্গে পরিবহন ব্যয় যোগ হওয়ায় আমদানি খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিও সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি করছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বিকল্প পথে পণ্য আনতে গিয়ে পরিবহন ব্যয় বাড়ছে। পাশাপাশি ঋণপত্র বা এলসি খোলার জটিলতা অব্যাহত থাকলে রমজানের আগে সরবরাহে সমস্যা দেখা দিতে পারে বলেও আশঙ্কা তাঁদের।

বাণিজ্যমন্ত্রী খেজুরের জাত, মান ও দামের পার্থক্যের ভিত্তিতে স্বচ্ছ ও যৌক্তিক শুল্ক কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। মিসর, সৌদি আরব, ইরাক ও আলজেরিয়াসহ প্রায় এক ডজন দেশ থেকে বিভিন্ন মানের খেজুর আসে বাংলাদেশে। সব খেজুরের জন্য একই শুল্কায়নমূল্য নির্ধারণ করলে জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে বৈঠকে আলোচনা হয়।

ব্যবসায়ীদের দাবি, নির্ধারিত শুল্কায়নমূল্যের পরিবর্তে প্রকৃত মান ও আমদানি দামের ভিত্তিতে শুল্ক নির্ধারণ করা হোক। সাধারণ মানের খেজুরের ক্ষেত্রেও প্রকৃত দামের চেয়ে বেশি শুল্কায়নমূল্য নির্ধারণের কারণে আমদানি ব্যয় বেড়ে যায় বলে তাঁদের অভিযোগ।

ফল আমদানিতেও আরও নমনীয় করব্যবস্থা চেয়েছেন আমদানিকারকেরা। তাঁদের মতে, উচ্চ শুল্কের কারণে অনেক ফল সাধারণ ক্রেতার নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

বৈঠকে খেজুর আমদানিতে বিদ্যমান শুল্কছাড়ের সুবিধা দ্রুত কার্যকর করার বিষয়েও আলোচনা হয়। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ সংক্রান্ত অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

রমজানের আগে আমদানি বেড়েছে

সরকারি হিসাবে, রমজানের আগে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি নিত্যপণ্যের আমদানি গত বছরের তুলনায় ইতিমধ্যেই বেড়েছে।

বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ভোজ্যতেল আমদানি হয়েছে ৮ লাখ ২৩ হাজার টন। গত বছরের একই সময়ে তা ছিল ৭ লাখ ৫ হাজার টন। অর্থাৎ আমদানি বেড়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার টন।

ভোজ্যতেল আমদানির জন্য এলসি খোলা হয়েছে ৮ লাখ ৫ হাজার টনের, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ লাখ ৩১ হাজার টন বেশি।

চিনি আমদানি হয়েছে ৬ লাখ ৮৭ হাজার টন, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১ লাখ ৫৩ হাজার টন বেশি। একই সময়ে চিনি আমদানির এলসি খোলা হয়েছে ৮ লাখ ১০ হাজার টনের।

সবচেয়ে বড় উল্লম্ফন দেখা গেছে ছোলার আমদানিতে। ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত এসেছে ৮২ হাজার টন ছোলা। গত বছরের একই সময়ে আমদানি হয়েছিল মাত্র ১২ হাজার টন। অর্থাৎ এক বছরে বেড়েছে ৭০ হাজার টন। ছোলার জন্য এলসি খোলা হয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার টনের।

মসুর ডাল আমদানি হয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার টন, আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬৪ হাজার টন বেশি। এ পণ্যের জন্য এলসি খোলা হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার টনের।

খেজুরও এসেছে গত বছরের চেয়ে বেশি। এ সময়ে আমদানি হয়েছে ১১ হাজার টন, যেখানে গত বছরের একই সময়ে ছিল ৪ হাজার টন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রমজানে ভোজ্যতেল, চিনি, মসুর ডাল, ছোলা, খেজুর, মুরগি ও ডিমের চাহিদা স্বাভাবিক মাসের তুলনায় দ্বিগুণ হয়ে যায়।

তিনি বলেন, “এ জন্য আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। তাদের আমদানির প্রস্তুতি ও কোনো সমস্যা রয়েছে কি না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।”

ডিম-মুরগিতে বড় ঘাটতির শঙ্কা নেই

পোল্ট্রি খাতের প্রতিনিধিরা বৈঠকে জানিয়েছেন, বর্তমানে ডিম ও মুরগির উৎপাদন স্বাভাবিক রয়েছে। খামার পর্যায়ে ডিমের দাম কিছুদিন আগের প্রতি পিস সাড়ে ১১ টাকা থেকে কমে ১০ টাকার নিচে নেমেছে, যা উৎপাদন ব্যয়ের কাছাকাছি।

খামারে উল্লেখযোগ্য রোগবালাই না থাকায় রমজানে উৎপাদন ও সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতির আশঙ্কা নেই বলে তাঁরা জানিয়েছেন।

তবে রমজানে সকালের নাশতার অভ্যাস বদলে যাওয়ায় ডিমের চাহিদা কিছুটা কমতে পারে। বিপরীতে ঈদের পর মুরগির চাহিদা বাড়লে বাজারদরে প্রভাব পড়তে পারে।

বর্তমান আমদানি নীতি অনুযায়ী, সরকারের বিশেষ অনুমতি ছাড়া ডিম ও মাংস আমদানি করা যায় না।

আন্তর্জাতিক বাজারেও নজর

ট্যারিফ কমিশনের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেল ও ছোলার দাম কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী, তবে মসুর ডালের দাম কমেছে।

বর্তমানে ছোলা ও মসুর ডাল আমদানিতে কোনো শুল্ক-কর নেই। অন্যদিকে চিনি ও ফলের বিদ্যমান শুল্ক কাঠামোয় যৌক্তিক সমন্বয় করা গেলে বাজারদর সহনীয় রাখতে সহায়ক হতে পারে বলে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

রমজানে চিনির চাহিদা এক মাসেই প্রায় ৩ লাখ টনে পৌঁছে যায়। একই সময়ে ভাজাপোড়া ও ইফতারি তৈরির কারণে সয়াবিন ও পাম তেলের ব্যবহার বেড়ে যায়। ছোলা, খেজুর ও মসুর ডালের চাহিদাও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে।

মুরগি ও ডিম ছাড়া এসব পণ্যের অধিকাংশ চাহিদাই আমদানির মাধ্যমে পূরণ করতে হয়। ফলে রমজানের বাজার নিয়ন্ত্রণে আগেভাগে পর্যাপ্ত আমদানি ও সরবরাহ নিশ্চিত করাকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে দেখছে সরকার।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সভাপতিত্বে বৈঠকে ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাদের পাশাপাশি বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন, এনবিআর, টিসিবি, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, এফবিসিসিআই, পুলিশ, ডিজিএফআই ও এনএসআইয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

4 + 3 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য