Tuesday, October 27, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে ও পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদাওয়া‘সুন্নাহ আমলেই আমাদের মুক্তি, এখানে খাটবে না কোনো যুক্তি’: আব্দুল হাই মোহাম্মদ...

‘সুন্নাহ আমলেই আমাদের মুক্তি, এখানে খাটবে না কোনো যুক্তি’: আব্দুল হাই মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ

‘সুন্নাহ আমলেই আমাদের মুক্তি, এখানে খাটবে না কোনো যুক্তি’—এমন মন্তব্য করেছেন ইসলামিক স্কলার আব্দুল হাই মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। রোববার তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

আরেকটি ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘শিক্ষার্থীর প্রতি শাসন, স্নেহ ও যত্নেরও সীমারেখা আছে। বিশেষত ধর্মীয় শিক্ষকের ক্ষেত্রে এই নৈতিকতা হতে হবে আরও কঠোর। “পিতার মতো” কিংবা “বড় ভাইয়ের মতো”—কোনো পরিচয়ই সীমালঙ্ঘনের বৈধতা দিতে পারে না। যিনি স্নেহ ও শাসনের সীমা বোঝেন না, শিক্ষকতার নৈতিক দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা নিয়েই তার প্রশ্নের মুখে পড়া উচিত। অভিযোগ উঠলে নিরপেক্ষ তদন্ত চাই, অপরাধ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। আবার তদন্তের আগেই পক্ষপাতদুষ্ট সিদ্ধান্তও নয়। সত্য জানতে হবে, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

‘ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অনৈতিকতা ধামাচাপা দেওয়া দ্বিগুণ ক্ষতিকর। এতে অপরাধের বিচার বাধাগ্রস্ত হয়, প্রতিষ্ঠানের গ্রহণযোগ্যতাও নষ্ট হয়। “নিজেদের অন্যায় আড়াল করব, আর অন্যের অন্যায়ে সরব হব”—এ কেমন নৈতিকতা? এটি আবার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান কীভাবে হবে? কোদালকে কোদাল বলতে না পারলে, আমরা নিজেরাই যদি শুধরাতে না পারি, তাহলে বাকিদের ওয়াজ করব কোন যোগ্যতায়? ন্যায়বিচারের মানদণ্ড ব্যক্তি, পদ কিংবা প্রতিষ্ঠানভেদে বদলাতে পারে না। সব কথার শেষ কথা—“নিজ সন্তানের নিরাপত্তায় কোনো ছাড় নেই।” এটাই শেষ কথা। কে কী ভাবল আর বলল, তাতে গুলি মারেন।’

বিভিন্ন স্ট্যাটাসে তিনি আরো লেখেন, ‘উথাল-পাথাল গান, সাময়িক উত্তেজনা আর তার পরপরই বিড়ি-সিগারেটের ধোঁয়ায় হারিয়ে যাওয়া, আস্তে আস্তে নেশার ছোবলে পড়া, ক্রেজি ও মেজাজি ভাব নিয়ে আলট্রা মডার্ন সাজা—এমন বিনোদন তরুণসমাজের জন্য কোনো ইতিবাচক বার্তা বহন করে না। আমরা চাই, তরুণদের আনন্দ তাদের সুস্থতার কারণ হোক, ধ্বংসের নয়। তাদের উচ্ছ্বাসে জাগুক জীবনের প্রতি ভালোবাসা, নৈতিকতা ও সমাজ পরিবর্তনের প্রত্যয়।’

আরেকটি স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘সীমান্ত দিয়ে মাদক চোরাচালান কীভাবে বন্ধ করা যায়, তরুণ প্রজন্মকে কীভাবে এই ভয়াবহ বিপর্যয় থেকে রক্ষা করা যায়, তা নিয়ে প্রশাসনিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক। মাদকমুক্ত তরুণ প্রজন্ম শুধু আমাদের প্রত্যাশা নয়, এটি রাষ্ট্রেরও দায়িত্ব। আসুন, নৈতিক আহ্বানের পাশাপাশি কার্যকর রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ নিশ্চিত করার দাবি জানাই।’

মসজিদের ভূমিকা নিয়ে তিনি লেখেন, ‘একটি মসজিদ কেবল সালাত আদায়ের স্থান কিংবা একটি ইমারতের নাম নয়; বরং মসজিদ হতে পারে সামাজিক মিলনমেলা এবং কমিউনিটির কল্যাণে বহুমুখী উদ্যোগের কেন্দ্র। নিজ নিজ এলাকায় মসজিদগুলোকে প্রাণবন্ত করে তোলা প্রয়োজন। যারা মসজিদ কমিটিতে আছেন, তাদের প্রতি আহ্বান—আল্লাহর ঘরের দায়িত্বকে নিছক সম্মান কিংবা পদমর্যাদা মনে করবেন না। এমন কিছু উদ্যোগ নিন, যা আপনাকে দুনিয়া ও আখিরাতে সম্মানিত করবে। আর নিজেরা যদি এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে সক্ষম না হন, তাহলে যাঁরা পারবেন, তাঁদের হাতে দায়িত্ব তুলে দিন এবং পেছন থেকে সহযোগিতা করুন। মসজিদের দায়িত্ব মানে শুধু একটি ভবন পরিচালনা নয়; বরং মসজিদকে কেন্দ্র করে একটি আলোকিত সমাজ গড়ে তোলার দায়িত্ব।’

সম্পদ অর্জন ও মানুষের কল্যাণ নিয়ে তিনি লেখেন, ‘আমরা সম্পদ অর্জন করব, কিন্তু সম্পদের গোলাম হব না। সম্পদ থাকবে আমাদের হাতে, আমরা সম্পদের হাতে বন্দী হব না। ব্যবসা-বাণিজ্য ও সম্পদ অর্জনের পথে এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি আমাদের মনে রাখতে হবে, প্রকৃত সাফল্য কেবল কতটুকু সম্পদ অর্জন করলাম, তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সেই সম্পদ দিয়ে কত মানুষের উপকার করতে পারলাম, কতটা কল্যাণ সৃষ্টি করতে পারলাম এবং আমার দুনিয়া ছাড়ার পরও তা সদকায়ে জারিয়া হিসেবে অব্যাহত থাকবে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।’

উল্লেখ্য, আব্দুল হাই মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ কুষ্টিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-হাদিস ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে স্নাতক পর্যায়ে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন এবং স্নাতকোত্তরে প্রথম স্থান অধিকার করে রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে স্বর্ণপদক পান। এরপর তিনি তুলনামূলক ধর্ম বিষয়ে এমফিল ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি বাংলা, ইংরেজি, আরবি ও উর্দু—চারটি ভাষায় দক্ষ। তেলাওয়াতুল কোরআন প্রতিযোগিতায় তিনবার স্বর্ণপদক পেয়েছেন তিনি। এ ছাড়া বিতর্ক প্রতিযোগীয় কৃতিত্ব রেখেছেন।

তিনি তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বে পিএইচডি গবেষণারত। তিনি ঢাকার মাসজিদুল জুমা কমপ্লেক্সের খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। টেলিভিশন, ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি পরিচিত ও জনপ্রিয় একজন দাঈ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

1 × 3 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য