আফগানিস্তানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মসজিদে গিয়ে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায়ের নির্দেশ আবারও কঠোরভাবে মনে করিয়ে দিয়েছে দেশটির ইসলামী আমিরাত সরকার। নির্দেশনা অমান্য করলে সতর্কবার্তা থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রশাসনিক শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
এই নির্দেশনার সূচনা ২০২৪ সালের আগস্টে। তখন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা সরকারি কর্মীদের নির্ধারিত সময়ে জামাতে নামাজ আদায়ের আদেশ জারি করেন। আদেশ অনুযায়ী, যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া কেউ জামাতে অনুপস্থিত থাকলে প্রথমে তাঁকে সতর্ক করা হবে। বারবার একই ঘটনা ঘটলে নেওয়া হতে পারে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা।
সে সময় অনুপস্থিত কর্মীদের বেতন কেটে নেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে। তবে ২০২৪ সালের ২৩ আগস্ট সরকারের মুখপাত্র জবিহুল্লাহ মুজাহিদ তা অস্বীকার করেন। তিনি জানান, নামাজে অনুপস্থিত কর্মীদের ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের পরামর্শ দেওয়া হবে, বেতন কাটা সরকারের নীতি নয়।
চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। আফগানিস্তান ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২২ সেপ্টেম্বর আখুন্দজাদার দপ্তর থেকে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে নতুন আচরণবিধি পাঠানো হয়। নানগারহার বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো ওই নির্দেশনায় জামাতে নামাজের বাধ্যবাধকতা পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি দাড়ির দৈর্ঘ্য, চুল, পোশাক এবং নামাজের সময় পাগড়ি পরার বিষয়েও নিয়ম বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
আচরণবিধি লঙ্ঘনের জন্য বেতন কর্তন, পদাবনতি, সাময়িক বরখাস্ত ও চাকরিচ্যুতির মতো শাস্তির কথা নির্দেশনায় উল্লেখ রয়েছে। তবে নামাজে প্রতিবার অনুপস্থিতির জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেতন কাটা হবে কি না, তা প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়নি।
এই নির্দেশনার মাধ্যমে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে ইসলামি অনুশাসন বাস্তবায়নে নিজেদের অবস্থান আরও স্পষ্ট করল আফগান সরকার।
