Saturday, June 6, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeনিবন্ধরেবেল মাইন্ডসেট

রেবেল মাইন্ডসেট

ফেইসবুকে কোন কোন ভাই সুদাইসি বা মাহের আর মুয়াকলির ভিডিও দিয়েছেন যেখানে তাঁরা ফিলিস্তিন বা আক্বসার জন্য দুআ করছেন। তো কতিপয় যুবকেরা যাদের হয়তো দ্বিনের পথে এসেছে এক বছরও হয়নি মন্তব্য করে বসে,
“মায়াকান্না দেখায় যান, ওদিকে ফিলিস্তিন পুড়ে যাক”
“দুআ করেই চুপ, আর কিছু করা লাগবেনা”
এরা জানে কি যে তারা নিজের অজান্তেই জিন্দিক, কে জানে!!! ইসলামের রুকনের মধ্যে সবচাইতে বড় রুকন হলো নামায। নামায মানেই দুআ। তাহলে তারা দুআকে এত তাচ্ছিল্য করবার কারন কি???

এক ভাইয়ের লেখা চোখে পড়েছিলো। তিনি এমনটা বলেছেন যে,
“তোমরা বলছো কেন কতিপয় মুসলিম শাসকরা সাহায্য করছে না?” কিন্তু এটা ভেবে দেখেছো কি, “কেন আল্লাহ্-র সাহায্য আসছে না?”


বর্তমান মুসলিম সমাজে মুসলমানিত্ব খুব অল্প। বরং কতিপয় বিদ্রোহী মতধারার মাধ্যমে তারা ইনফ্লুয়েন্সড। সেটা দেশ বা বর্ডারলাইন পেরিয়ে জাষ্ট একটু এগিয়ে “মুসলিম কম্যুনিটি”তে গিয়ে ঠেকেছে। তাই তারা বলে থাকে “তোমরা শিয়া সুন্নী লড়াই করো, ওরা ফিলিস্তিন সিরিয়া নিয়ে যাক”। কথাগুলো শুনতে খুব স্মার্ট লাগে, কিন্তু এগুলো ইসলামের কোন মতামত বহন করেনা। প্রকৃতপক্ষে ইসলাম মেনে চললে শুধু শিয়া সুন্নী না, এমনকি হুলুলী ব্রেলভি, জাহমী, মুতাজিলা এসবের সাথেও আপনার চরম সংঘাত থাকবার কথা।


কিন্তু প্রবলেম হলো বেশিরভাগ মুসলিমদের মধ্যে একটা ফিবেল রেবেল মাইন্ডসেট থাকে। যেমন এক ভাইকে দেখলাম মুহাম্মাদ বিন সালমানকে “দাজ্জাল ম্যাক্স প্রো” বলে দিলেন। আমি মুহাম্মাদ বিন সালমানের প্রশংসা করছিনা, তবে বলি, ইয়াজিদ বা হাজ্জাজ বিন ইউসুফ বা মামুন এদের সম্পর্কে বিন্দুমাত্র ধারনা হয়তো সেই ভাইটি রাখেননা। যদি সময় থাকে, তাদের সম্পর্কে পড়বার পর দেখবেন তো, কোন তৎকালীন আহলুস সুন্নাহ্-র কেউ, কেউ বলতে একজন হলেও তাদের “দাজ্জাল” বলেছেন? কিন্তু আজকালকার সময়ে এটা অহরহ। কেন জানেন? কারন দাজ্জাল সম্পর্কে কোন আইডিয়া তাদের নাই। তারা পড়েও দেখে নাই। ইউটিউবে দুচারটে শর্ট ভিডিও ছাড়া।

ফিরআউন বা নমরুদ এদের ভয়াবহতা প্রচন্ডরকমের ছিলো বিধায়ই এদের সময়ে নবী প্রেরণ মেন্ডেটরি ছিলো। ফিরআউন কতটা ডিপ ডিভাইন তাগুত ছিলো, সেটা যতক্ষণ আপনি দলিলগুলো তাফাসিরগুলো, হাদীছগুলো না ঘাটবেন ততক্ষণ বুঝবেননা। কিন্তু আপনার কাছে অত্যাচারী শাসক মানেই ফিরআউন।
শাইখ নাসিরুদ্দিন আলবানীর একটা কথা কিছু ভাই বলে বেড়িয়েছেন কয়দিন। সেটা হলো, “ফিলিস্তিনের মানুষরা যতদিন সঠিক পথে না আসবে ততদিন মুক্তি পাবেনা” এমনটাইপ একটা কথা।

এটা শুধু ফিলিস্তিন না, সমস্ত মুসলিম বিশ্বই যতদিন সালাফরা যেভাবে ইসলামকে বুঝেছেন, সেভাবে না বুঝবেন ততদিন তারা কোথাও বিজয়লাভ করতে পারবে না। পারলেও সেটা হবে সাময়িক। আর তাই তাদের কাছে দুআ করা “অকেজো” মনে হবে। কারন একচুয়ালি তো দেখতেসে যে সাহায্য আসছে না। অকেজো ভাবলে আরও আসবেনা। তাদের কাছে তাওহীদকে “গলাকাটা” বলতেও দ্বিধা হবেনা। হউকনা এরপর ব্যাট দিয়ে মশা মারার মাসলা ইম্পর্ট্যান্সি বেশি পেয়ে গেছে।


যাকগে এসব কথা বলে লাভ নেই। কারন আপনি বাজারে বইয়ের স্টল খুলুন, এক পাশে তাফসির রাখুন, আর একপাশে কোন একটা আর্গুমেন্টেটিভ বই রাখুন। দেখুন কোনটা বিক্রি হয়। যেখানে ক্বুরআনের ব্যাখ্যার মূল্য নেই, সেখানে আল্লাহ্-র সাহায্য আশা করাটাও আল্লাহ্-র শানে বড় বেয়াদবি।
প্রচ্ছদ কৃতজ্ঞতায়ঃ সুজন বিন আব্দুর রহমান

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

twenty − 5 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য