Monday, April 27, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরহারানো ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন দেখে স্পেনের মুসলিমরা

হারানো ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন দেখে স্পেনের মুসলিমরা

গ্রানাডা দক্ষিণ স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল আন্দালুসিয়ার একটি ঐতিহ্যবাহী নগরী। এখানের বড় মসজিদটি গ্রানাডা গ্র্যান্ড মসজিদ নামে পরিচিত। এর অধীনে স্থানীয় মুসলিমরা একটি ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র পরিচালনা করে। ধর্মীয় বিভিন্ন কাজের পাশাপাশি কেন্দ্রটি মুসলিমদের পুরনো দিনের ঐতিহ্য সংরক্ষণেও কাজ করছে। এখানের মুসলিমরা স্বপ্ন দেখে, স্পেনের ভূমিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা তাদের হারানো ঐতিহ্য তারা একদিন পুনরুদ্ধার করবে। এ বিষয়ে গ্রানাডা ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের প্রধান আব্দুল কাদির শালির (৪০) তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদুলু এজেন্সিকে একটি সাক্ষাতকার দিয়েছেন। আলজাজিরা থেকে এর সংক্ষিপ্ত ভাষান্তর এখানে তুলে দেয়া হলো।

আব্দুল কাদির শালির বলেন, স্পেনের মুসলিমরা জানে- এখানে মুসলিম শাসনকালের অসংখ্য স্মৃতিচিহ্ন ও পুরনো ঐতিহ্য রয়ে গেছে, যদিও সেগুলো বিলীন করতে ব্যাপক চেষ্টা করা হয়েছে এবং হচ্ছে- এরপরও তারা একদিন সেগুলো পুনর্জীবিত করবে- ওই বিশ্বাস তারা রাখে। আমার বয়স যখন নয় তখন থেকেই আমি পরিবারের সঙ্গে গ্রানাডায় থাকছি। কিছু সময় জাপান ও ব্রিটেনেও কাটিয়েছি। গত চার বছর ধরে গ্রানাডার ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের প্রধানের দায়িত্ব পালন করছি। গ্রানাডার সময়টিতে প্রায়ই আমি ঐতিহাসিক ‘কাসরুল হামরা’ বা আল হামরা প্যালেস অবলোকন করি আর আমি বিস্ময়াবিভূত হই। (এটি স্পেনে মুসলিম শাসনামলের (৭১১-১৪৯২ সাথে) ঐতিহাসিক একটি স্থাপনা। বর্তমানে গ্রানাডা গ্র্যান্ড মসজিদের সামনেই এর অবস্থান) আমি যতবারই তার দিকে তাকাই ততবারই আমি এক সুখানুভূতি অনুভব করি। পর্যটকদের দেখি, তারাও আমার মতো অপলক চোখে আগ্রহভরে ‘কাসরুল হামরা’ দেখছে। অনেকে সেদিকে তাকিয়ে মুসলিম-শাসনামলের সোনালি যুগের কথা স্মরণ করে অঝোরে কাঁদে তখন তাদের দেখে আমার চোখও অশ্রু বর্ষণ করে। মুসলিম পর্যটকরা পৃথিবীর যে প্রান্তেই কাসরুল হামরার মতো ঐতিহাসিক মুসলিম স্থাপনা ও স্মৃতিচিহ্নগুলো দেখে, অতপর জানতে পারে যে এগুলো এক সময় তাদের পূর্ববর্তী মুসলিমদের পদচারণায় মুখরিত থাকত। কিন্তু আজ এখানে কোনো মুসলমানের উপস্থিতি ও কর্তৃত্ব নেই তখন তারা বিগত দিনের স্মৃতিচারণ করে আবেগাপ্লুত হয় এবং এসব জায়গায় নিজেদের আধিপত্য হারিয়ে তাদের আফসোস করা ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না। কাসরুল হামরা যে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ও ঐতিহাসিক স্থাপনা- এটি সবার-ই জানা কথা। কিন্তু এর ইতিহাস যে ইসলাম ও মুসলমানদের সঙ্গে জড়িত- স্পেনেরই অনেক মানুষ স্পষ্টভাবে তা জানে না। কারণ, প্রায় ৫০০ বছর আগে শুরু হওয়া স্পেনে ক্যাথলিকদের শাসন এ ভূখণ্ড থেকে ইসলামী স্মৃতিচিহ্নগুলো বিলুপ্ত করতে ব্যপক অপতৎপরতা চালিয়েছে এবং আজও চালাচ্ছে। ১৪৯২ সালে তৎকালীন ক্যাথলিক সরকার মরিস্কো মুসলিমদের প্রসাদে ঢুকিয়ে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করে, ক্ষেত-খামারে অবস্থানকারী কৃষকশ্রেণিও ওই দিন তাদের অগ্নিযজ্ঞ থেকে রেহাই পায়নি। একইভাবে মধ্য গ্রানাডার একটি স্কয়ারে মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় গ্রন্থ পবিত্র কোরআনে কারিমের প্রতিলিপিও তারা আগুনে পোড়ায়- তাদের এই কুৎসিত অপকীর্তি ইতিহাস কখনো ভুলবে না। এ সময়ে গ্রানাডায় বসবাসরত সাধারণ মুসলিমদের সংরক্ষণও তারা ধ্বংস করে, মসজিদ পুড়িয়ে ওই স্থানে তৈরি করে গির্জা।

এভাবে শত শত বছর যাবত স্পেন ও আন্দালুসিয়া থেকে ইসলামী ইতিহাস ও ঐতিহ্য মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে। এরপরও এখানের মুসলিমরা তাদের ইসলামী সোনালি অতীতের সঙ্গে যোগসূত্র তৈরিতে কাজ করছে এবং ওই সময়ের চেতনা দৈনন্দিন জীবনে ফিরেয়ে আনতে চেষ্টা করছে। ক্যাথলিকরা যেসব স্মৃতিচিহ্ন পুড়িয়েছে বা ধ্বংস করেছে সেগুলো মুসলিমরা সন্ধান করতে চায় এবং বর্তমান জীবনযাত্রা ও রীতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সেগুলো পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন দেখে তারা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

4 × two =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য