Sunday, April 26, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদাওয়াভ্রষ্ট দলবাদীর আড়ালে মুখোশধারী চিনে রাখুন।

ভ্রষ্ট দলবাদীর আড়ালে মুখোশধারী চিনে রাখুন।

[১]

.

দ্বীনের কল্যানে যেকোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, দল কিংবা ফিরকার রদ করা শার’ঈ মানহাজের অন্তর্ভুক্ত। এ-নিয়ে দ্বিমত করার সুযোগ নেই। তবে আদল -ইনসাফ করা আবশ্যক। প্রত্যেক রদকারীর রদ-এর ধরন ও উদ্দেশ্য একই রকম হয় না। কেউ বই লিখে রদ করেন, কেউবা বক্তব্যের মাধ্যমে করেন। কেউ ব্যক্তির প্রতি রাগ-ক্ষোভ মেঠাতে রদ করেন, আবার কেউবা ব্যক্তির অনিষ্ট থেকে জনসাধারণকে বাঁচাতে ও ভ্রান্তি উন্মোচনে রদ করেন। আপনাকে দলীল-আদিল্লা বিশ্লেষণ করে অত:পর উন্মুক্ত মন ও বিবেক দিয়ে চিন্তা করতে হবে রদকারীর উদ্দেশ্য কি, আর কেনইবা তিনি এ-কাজটি করছেন।

.

আপনার জেনে রাখা দরকার যে, বাতিলের উপর ঐক্যবদ্ধ থাকার চেয়ে হক্বের উপর একাকী থাকা উত্তম। আরও জানা দরকার, ভ্রষ্ট দলবাদী, বিদ’আতী আক্বীদাহ-মানহাজ এর ধারক-বাহক ও প্রচারকদের ক্ষেত্রে নাম ধরে উন্মুক্ত রদ করা আহলুস সুন্নাহর মানহাজ। এক্ষেত্রে ব্যক্তিকে জানানো জরুরী নয়। এ প্রসঙ্গে ইমাম সালিহ আল-ফাউযান (হাফিযাহুল্লাহ্) বলেন, “ব্যক্তির পর্যালোচনা করে যদি তার ‘আদালত (ন্যায়পরায়ণতা), তাওসীক্ব (গ্রহণযোগ্যতা) তার দ্বারা অন্যরা ধোঁকায় পতিত হয় এরকম কোন বিষয়ে হয়ে থাকে, বিশেষত যে ব্যক্তিদের প্রভাব ও ভক্ত রয়েছে। যেমন; বিভিন্ন আন্দোলনের নেতাদের ক্ষেত্রে তাদের ভুল-ত্রুটি বর্ণনা আল-জারহু ওয়াত-তা‘দীল ও জীবনী গ্রন্থসমূহে বিদ্যমান। যদি ব্যক্তির মাঝে বাস্তবেই এই ভুল-ত্রুটি থেকে থাকে তাহলে তা বর্ণনা করাতে কোন সমস্যা নাই। বরং তাদের দোষ-ত্রুটি বর্ণনার উদ্দেশ্য হলো তাদের অবস্থা উল্লেখ করে লোকজনকে তাদের থেকে সতর্ক করা। তাদের ভুল-ভ্রান্তি ও দোষ-ত্রুটি ছড়ানো উদ্দেশ্য নয়।” — [১]।

.

তিনি (হাফিযাহুল্লাহ্) আরো বলেন,”সালাফী মানহাজের দাঈগণ বিদ’আতী, ভ্রষ্ট, দলবাদী দাঈদের থেকে, তাদের বই-পুস্তক থেকে সতর্ক করা — এমনকি প্রয়োজনে তাদের ব্যক্তিত্বের সমালোচনা করাকেও দাঈদের পথরুদ্ধ করা মনে করে না। বরং বিদ’আতী ও তাদের বই-পুস্তক থেকে সতর্ক করাকে আহলুস সুন্নাহ্ ওয়াল জাম’আতের মানহাজ মনে করে। সুন্নাহ্ এবং জারাহ্ ওয়াত তা‘দীলের কিতাবাদিতে এ বিষয়ে অনেক প্রমাণ বিদ্যমান। সালাফী মানহাজের দাঈগণ বিদ’আতী ও তাদের বই-পুস্তক থেকে সতর্ক করার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য কামনা করে।” — [২]।

.

ইমাম রাবী বিন হাদী আল মাদখালী (হাফিযাহুল্লাহ্) বলেন, “সালাফরা বিদআতীদের খন্ডন করে বই লিখেছেন। তারা কখনোই জারাহ-তা’দীলকে বর্ণনাকারীদের জন্য খাস করেননি। তারা স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন, উমুক বিদআতী, হাদীসের অনুসারী নয়, উমুক জাহমী, উমুক মুতাযীলী বা মুরজি’ঈ ইত্যাদি ইত্যাদি। এমনকি ওই ব্যক্তির হাদীসের কোন সানাদের সাথে সম্পর্ক না থাকলেও সালাফরা তার সমালোচনা করেছেন ,এটি জারাহ’। তাও কেমনে লোকেরা বলে যে ‘জারাহ’ এর দরজা বন্ধ হয়ে গেছে? শুনে রাখো, কিয়ামতের রোজ পর্যন্ত যতদিন বিদ’আত থাকবে, ততদিন জারাহ্ ও তা’দীল টিকে থাকবে।”— ৩]।.তিনি আরও বলেন, “কেউ যদি প্রমাণ ছাড়া জারাহ্ করে, তাহলে তার কথার কোন মূল্য নেই। পক্ষান্তরে, যদি প্রমাণ সহকারে জারাহ্ করে, তাহলে ওই জারাহকারীর বিরোধীদের জন্য তার আনুগত্য করা, সত্য ও সঠিক পথের দিকে প্রত্যাবর্তন করা এবং হুজ্জত তথা দলীলের অনুসরণ করা ওয়াজিব। অথচ এমন বহুলোক রয়েছে, যারা সত্যকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে ও সত্যকে উপেক্ষা করে। এটা খুবই বিপজ্জনক একটি ব্যাপার!” — [৪]।

.

[২]

.

ফেইসবুক আর ইউটিউব-এর কল্যাণে রাতারাতি সেলিব্রিটি বনে যাওয়া আবু ত্বহা আদনান নামে বঙ্গদেশের এক চরমপন্থী যাহিল বক্তার ভ্রান্তি উন্মোচন করে তার থেকে জাতিকে সতর্ক করেন এদেশের সিনিয়র আলিমেদ্বীন ড.আবুবকর মুহাম্মদ যাকারিয়া ও ড.মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ আল মাদানী (হাফিযাহুমুল্লাহ্)। এর কয়েকদিন পরেই ছেলেটা গুম হয়! জানিনা এটা সত্যিই গুম ছিল, নাকি গুমের নাটক ! যাইহোক, পূর্বে মামুনুল হক সাহেবের বেলায় এমন নাটক দেখেছি। প্রথমে তাকওয়া পুলিশরা বলল সবই মিথ্যা, পরে দেখা গেল সবই সত্য। যারা মামুনুল হক সাহেবের বেলায় আবেগে এদিক-সেদিক তীর ছুঁড়েছিল, তারাই এখন যাকারিয়া স্যারদের দিকে গালির তীর-ধনুক ছুঁড়ছে। এমনকি উনাদের হত্যা করা ফরয — এমন ফাতওয়াও দিয়ে ফেলছে! আল ইয়াযু বিল্লাহ। আহলুস সুন্নাহর হিতাকাঙ্ক্ষী কারা — তা ফিতনার সময়ে বুঝা যায়। এই চরমপন্থী ছেলেটার জন্য একদল লোক সালাফীদের উপর হামলে পড়ে, আর আরেকদল বসে বসে তামাশা দেখে। উলামাদের বেইজ্জতি যেন তাদেরকে স্পর্শই করেনি। যখনই সালাফীদের মধ্যে (নবাগত) দু’চারটা ছেলে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখায় — ঠিক অমনি ইনারা ‘আখলাক কার্ড’ নিয়ে হাজির! আশ্চর্য!

.

আপনি কি দেখেননি ভোলায় আহলে-হাদীস মসজিদ পুড়ে ছাঁই, অথচ উল্টো আহলে-হাদীসদেরই নসীহত শুনিয়ে দিল। আপনি কি দেখেননি সালদার মসজিদে আগুন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ফরিদপুরে ভাংচুর কিংবা সিলেটে মসজিদে তালা দেয়ার পরও উল্টো সুন্নাহপন্থীদেরকেই “চরম বিভেদ সৃষ্টিকারী” বলা হল। গলাকাটা তাওহীদের কথা আর নাইবা বললাম। আপনি কি আরও দেখেননি ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে সালাফী মাসলাককেই চেপে ধরার প্রবনতা? তবুও আপনি এদেরকে আপনার হিতাকাঙ্ক্ষী ভাবছেন!? প্রত্যেকটা ঘটনার পরে এদের অদ্ভুত আচার-আচরণ কি আপনার নজরে পড়ে-নি? আমরা বলি, সবসময় সব জায়গায় নসীহত ফেরি করা ঠিক না। এদিকে এক-চামচ, ওদিকে এক-চামচ এমন বদস্বভাব ত্যাগ করা উচিত। যারা একটা সেনটেন্স লিখতে বা বলতে হাজারবার ভক্তকুলের কথা মাথায় রাখে তারা আসলে জনপ্রিয়তার ধোঁকায় পড়েছে। এই বিজনেসম্যানরা সালাফীদের জন্য বিষফোঁড়া। এরা সবকিছুর আগে বই বিক্রি, পাঠকের দৃষ্টিভঙ্গি, ফাউন্ডেশনের জন্য টাকা, দান-খয়রাত, ফ্যান-ফলোয়ার, মানুষের মন যোগানো — এসব মাথায় রাখে। সুতরাং এদের থেকে আর কিইবা আশা করা যায়?!

.

[৩]

.

সুপ্রিয় পাঠক, উস্তায আবুবকর মুহাম্মদ যাকারিয়া হলেন একজন মুজাহিদ। কোনো নিন্দুকের নিন্দা পরোয়া না করে, কে তাঁর পক্ষে বা বিপক্ষে গেল—তা না দেখে তিনি বিদ‘আতীদের বিরুদ্ধে এক অসম যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন। সালাফিয়্যাহ’র চাদর গায়ে দিয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে বিদ‘আতের বিষাক্ত বিষ ছড়িয়ে দেওয়া ভণ্ড দা‘ঈ ও লেখকরা উস্তাযের বিরুদ্ধে সূক্ষ্মভাবে প্রচার-প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে। আমাদের উচিত এই মুজাহিদকে ডিফেন্ড করা এবং বাতিলপন্থীদের প্রতারণাপূর্ণ কূটকৌশলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া।

.

আর এখন বাঙালি দা‘ঈদের আসল পরিচয় জানার সময় এসেছে। যেহেতু এখন ইখওয়ানী-খারিজীদের মুখোশ উন্মোচন করে এবং তাদের ভয়াবহ বিদ‘আত প্রকাশ করে তাদের থেকে সতর্ক করা হচ্ছে। কিছু দা‘ঈ এ ব্যাপারে তাঁদের অবস্থান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়ে ইখওয়ানী-খারিজীদের থেকে সতর্ক করছেন, আমরা তাঁদেরকে মুবারকবাদ জানাই। পক্ষান্তরে কিছু দা‘ঈ ‘সমালোচনার ক্ষেত্রে নরম করে ভুল ধরা উচিত’, ‘নাম ধরে সমালোচনা করা উচিত না’, ‘আমাদের কট্টরপন্থী হওয়া উচিত না’ ইত্যাদি নানান কিসিমের কথিত নসীহত করে প্রকারান্তরে হকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। সালাফী ভাইদেরকে বলব, এই কার্ডধারী লোকগুলোকে চিনে রাখবেন। এরা সালাফিয়্যাহ’র মোড়কে ইখওয়ানী-খারিজী-হিজবিয়্যাহ্ মতাদর্শ প্রচার করছে (জেনে অথবা না জেনে) এবং এটা করতে গিয়ে বিভিন্ন বাতিল মূলনীতিকে সালাফী মূলনীতি বলে চালিয়ে দিচ্ছে। আল্লাহ’র কাছে এদের প্রতারণা থেকে পানাহ চাচ্ছি।

.

পরিশেষে শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ্ (রাহিমাহুল্লাহ্-র একটি প্রাসঙ্গিক উক্তি দিয়ে শেষ করছি। তিনি (রাহিমাহুল্লাহ্) বলেন, “যে ব্যক্তি নিজেকে বিদ’আতীদের সাথে সম্বন্ধ করবে, অথবা তাদের প্রতিরক্ষা করবে, অথবা তাদের প্রশংসা করবে, তাদের বই-পুস্তককে মূল্যবান মনে করবে, অথবা তাদেরকে সাহায্য-সহযোগিতা করবে, অথবা তাদের সমালোচনা করাকে অপছন্দ করবে, অথবা তাদের পক্ষে ওকালতি করবে — তাকে শাস্তি দেয়া উচিত। বরং প্রত্যেক যে ব্যক্তিই বিদ’আতীদের অবস্থা জানার পরেও তাদের মুকাবিলা করার ক্ষেত্রে সাহায্য করবে না তাকেই শাস্তি দেয়া ওয়াজিব। কেননা বিদ’আতীদের মুক্বাবিলা করা বড়ো ওয়াজিব।” — [৫]।.মহান আল্লাহ্ আমাদেরকে সালাফিয়্যাহ’র ওপর অটল রাখেন এবং সত্যান্বেষী ভাইদেরকে সালাফী বানিয়ে আমাদের শক্তিশালী করেন। আমীন।. ❏ তথ্যসূত্র: .১. — [আল আজউয়িবাতুল মুফীদাহ ‘আন আসইলাতিল মানাহিজিল জাদীদাহ: ১৩০]।২. — [আল আজউয়িবাতুল মুফীদাহ ‘আন আসইলাতিল মানাহিজিল জাদীদাহ: ১৩১]।৩. — [মাজমূ‘উশ শাইখ রাবী, খণ্ড: ১; পৃষ্ঠা: ২৪৬]।৪. — [মাজমূ‘উশ শাইখ রাবী, খণ্ড: ১; পৃষ্ঠা: ৪৯০]।৫ .— [মাজমু‘ঊ ফাতওয়া ইবন তাইমিয়্যাহ: ২/১৩২]।▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

seven + 17 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য