Thursday, February 22, 2024

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

হোমদৈনন্দিন খবরকচুরিপানায় তৈরি হচ্ছে দৃষ্টিন্দন হস্তশিল্প

কচুরিপানায় তৈরি হচ্ছে দৃষ্টিন্দন হস্তশিল্প

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার মদনেপাড়া গ্রামে কচুরিপানা দিয়ে বাহারি হস্তশিল্পের বিভিন্ন সামগ্রি তৈরি করছেন নারীরা। কচুরিপানাকে অনেকেই অপ্রয়োজনীয় ও পচনশীল উদ্ভিদ বলে মনে করেন। কিন্তু এই কচুরিপানা দিয়ে বাহারি হস্তশিল্পের নকশা করে দৃষ্টি কেড়েছেন সুভাষ চন্দ্র।
 সুভাষ চন্দ্র বর্মণ জানান, শুকনো কচুরিপানার ডাঁটার ব্যতিক্রমী হস্তশিল্প তৈরি করছেন তিনি। প্রতি মাসে অন্তত ৩ থেকে ৪ লাখ টাকার কচুরিপানা কিনে থাকেন। এসব আবার নিজ উদ্যোগে গড়ে তুলেছেন কচুরিপানাকেন্দ্রিক চারটি হস্ত ও কুটির শিল্প প্রতিষ্ঠান। যেখানে গ্রামের আড়াই শতাধিক নারী ও কিশোরী কাজ করেন। যাদের হাতের নিপুণ ছোঁয়ায় তৈরি হয় নজরকাড়া ফুলের টব, ব্যাগ, বালতিসহ বাস্কেট নিত্য নতুন জিনিসপত্র। তবে এসব পণ্যের চাহিদা দেশে কম থাকলেও রপ্তানি হয় আমেরিকা নেদারল্যান্ডসহ বিশ্বের কয়েকটি দেশে।
মদনেপাড়া গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে দেখা মেলে এমন চিত্রের। গ্রামের নারী ও কিশোরীরা এক সঙ্গে বসে কচুরিপানার ডাঁটা দিয়ে তৈরি করছেন নানা ধরনের সৌখিন পণ্য। সংসারের সচ্ছলতা ফেরাতে বাড়ির সব কাজ শেষ করে নারীরা নেমে পড়েছেন এই কাজে। সেই সঙ্গে কিশোরীরাও যোগ দিয়েছেন। কচুরিপানা দিয়ে তৈরি করছেন ব্যাগ, বালতি, ফুলের টবসহ নিত্য নতুন সৌখিন পণ্য। স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় অবসর সময়টা এভাবেই কাটছে শিক্ষার্থীদের। এতে করে পড়ালেখার পাশাপাশি নিজের খরচ ছাড়াও মাস শেষে আট থেকে দশ হাজার টাকা আয় করছেন শিক্ষার্থীরা। এখানে কাজ করতে আসা জাফরিন বেগম নামে এক গৃহিণী বলেন, সংসারের কাজ শেষ করে শুকনো কচুরিপানার ডাঁটা দিয়ে ফুলের টব বানাতে আসি। দৈনিক সাত থেকে আটটা টব বানাই। এখানকার আয় থেকে নিজের খরচ মেটানোর পাশাপাশি প্রয়োজনে সংসারেও দিতে পারছি। ফুলমিরা রানী নামে আরেকজন বলেন, বাড়ির কাছাকাছি হওয়ায় অনেক সুবিধা হয়েছে। বাড়ির কাজ করতে কোনো সমস্যা হয় না। সংসারে বাড়তি আয় হওয়ায় আমরা অনেক খুশি।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় কিশোরীরাও এখানে কাজ করে বাড়তি আয় করছে। কলেজছাত্রী সুমাইয়া আক্তার বলেন, করোনার কারণে কলেজ বন্ধ থাকায় বাড়িতে বসে অবসর সময় কাটছিল। সেই অবসর সময়টাকে কাজে লাগাতে প্রথমে কাজটা শিখে এখন দৈনিক দেড়শ থেকে দুইশ টাকা আয় করতে পারছি।
তবে সুভাষ চন্দ্র বর্মণ বলেন, প্রথমে ছোট পরিসরে শুরু করি। এখন জেলার চারটি পয়েন্টে আড়াই শতাধিক নারী ও কিশোরী এই কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। তাদের প্রতিদিন মজুরি দিতে হয় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। তবে সরকারি ঋণ সহায়তা পেলে কচুরিপানার এই হস্ত ও কুটির শিল্প প্রতিষ্ঠানটি আরও বড় পরিসরে গড়ে তোলা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

18 − 2 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য