Tuesday, September 8, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরঅসহায় নারীদের জন্য নিবেদিতপ্রাণ এক রাজকুমারী

অসহায় নারীদের জন্য নিবেদিতপ্রাণ এক রাজকুমারী

রাজকুমারী তিজকার খাতুন ছিলেন সুলতান রোকনুদ্দিন বাইবার্সের কন্যা এবং মিসরের ইতিহাসে একজন অনন্য সাধারণ মুসলিম নারী। যিনি তাঁর ধন-সম্পদ সাধারণ মানুষের কল্যাণে উৎসর্গ করেছিলেন। বিশেষত তিনি শিক্ষা, নারী শিক্ষা, অসহায় নারীদের আশ্রয় দান ও চিকিৎসাকেন্দ্র নির্মাণে বিশেষ অবদান রাখেন।

তাঁর পিতা সুলতান মালিক জহির রোকনুদ্দিন বাইবার্স ছিলেন ইতিহাসের অন্যতম সফল মুসলিম শাসক ও সাহসী বীর সেনাপতি।

তিনি সপ্তম ক্রুসেড যুদ্ধে ইউরোপের সম্মিলিত বাহিনীকে এবং আইনে জালুতের যুদ্ধে মোঙ্গলীয় বাহিনীকে পরাজিত করেন। উভয় যুদ্ধে তাঁর বিজয় ইতিহাসের বাঁক বদলে দিয়েছিল। যদিও তিনি চতুর্থ মামলুক শাসক ছিলেন, তবু তাকেই মামলুক সাম্রাজ্যের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়।
নারী আশ্রয়কেন্দ্র : ৬৮৪ হিজরিতে সুলতান বাইবার্স ইন্তেকাল করার পর রাজকুমারী তিজকার খাতুন জনকল্যাণমূলক কাজে আত্মনিয়োগ করেন। তাঁর জনকল্যাণমূলক কাজগুলোর শীর্ষে ছিল নিরাশ্রয়, অসহায় ও বৃদ্ধা নারীদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করা। তারা তালাকপ্রাপ্তা হওয়া, অভিভাবক বা স্বামীর নিরুদ্দেশ ও মৃত্যু—যে কারণে পরিবারহীন হোক না কেন এই আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই পেত। তাঁর এই আশ্রয়কেন্দ্র অসহায় ও বৃদ্ধা নারীদের সামাজিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

আশ্রয় পেত সবাই : ঐতিহাসিকরা তাঁর আশ্রয়কেন্দ্রকে ‘রিবাত’ নামে উল্লেখ করেছেন। রিবাত অর্থ ঘাঁটি। রিবাত উত্তর আফ্রিকার মুসলিম দেশগুলোর সীমান্তবর্তী এমন ঘাঁটিকে বলা হতো, যেখানে একই সঙ্গে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জ্ঞানচর্চা করত, পীর ও তার মুরিদরা আধ্যাত্মিক সাধনা করত এবং সৈনিক সামরিক অনুশীলন করত। সম্ভবত নারী আশ্রয়কেন্দ্রে সব ধরনের নারীদের আশ্রয় মেলায় এটাকে রিবাত নাম দেওয়া হয়েছিল। একবার আশ্রয় পাওয়ার পর বিয়ে, সক্ষমতা লাভ বা মৃত্যু পর্যন্ত নারীরা রিবাতে অবস্থান করতে পারত।

সম্পদ ওয়াকফ করা : নারীদের আশ্রয়কেন্দ্র পরিচালনার জন্য বিপুল পরিমাণ সম্পদ ওয়াকফ করেন তিজকার খাতুন। আর তিনি তা করেছিলেন যেন তাঁর মৃত্যুর পরও আশ্রয়কেন্দ্রটি যথানিয়মে পরিচালিত হয় এবং আশ্রয় নেওয়া নারীরা আশ্রয়হীন হয়ে না পড়ে। ঐতিহাসিকরা বলেন, তিনি এত বিপুল পরিমাণ সম্পদ ওয়াকফ করেছিলেন যে তাঁর মৃত্যুর পর বহু আশ্রয়কেন্দ্রটি নির্বিঘ্নে পরিচালিত হয়।

আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠদান : আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নেওয়া নারীদের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে শাহজাদি তিজকার খাতুন সময়ের শ্রেষ্ঠ বিদ্যান নারীদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেন। নারীরা এখানে কোরআন, হাদিস ও ফিকহের (ইসলামী আইন) উচ্চতর জ্ঞান লাভ করত। এমনকি তারা চাইলে পবিত্র কোরআন হিফজ করার সুযোগ পেত। পাঠদানকারী নারীদের মধ্যে সর্বপ্রথম ছিলেন জয়নব বিনতে আবিল বারাকাত বাগদাদিয়া (রহ.)। ৭৯৬ হিজরিতে ইন্তেকালের আগ পর্যন্ত তিনি এখানে পাঠদান করেন।

পাঠদানকারী নারীদের মধ্যে পাণ্ডিত্যের জন্য খ্যাতি অর্জন করেন ফাতিমা বিনতে আব্বাস বাগদাদিয়া (রহ.)। জ্ঞানে-গুণে অগ্রণী এই নারী আধ্যাত্মিক সাধনায়ও সাফল্য অর্জন করেন। ইমাম জাহাবি (রহ.) একবার রিবাতে এসে ফাতিমা বিনতে আব্বাসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন এবং আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহ.) এই নারীর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

আল্লাহ এই মহীয়সী নারীর কবরকে শীতল করুন। আমিন

ইসলাম হিস্টোরি ডটকম অবলম্বনে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

16 + one =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য