Sunday, June 7, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরআন্তর্জাতিকঅস্ত্র সমর্পণ করবে না হামাস

অস্ত্র সমর্পণ করবে না হামাস

ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস জানিয়েছে, তারা এখনই নিজেদের অস্ত্র হস্তান্তর করবে না। চলমান নিরস্ত্রীকরণের দাবির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে সংগঠনটি বলেছে, তাদের সামরিক অস্ত্রভাণ্ডারের চূড়ান্ত ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা হবে অন্যান্য ফিলিস্তিনি উপদলগুলোর সঙ্গে বিস্তৃত আলোচনার পর।

সম্প্রতি কাতার ভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হামাসের শীর্ষ নেতা হুসাম বদরান এ কথা জানান।

বদরান বলেন, “যখন এই ফিলিস্তিনি কমিটি, অর্থাৎ গাজ্জা প্রশাসনের জাতীয় কমিটি, গাজ্জা উপত্যকার দায়িত্ব নিতে আসবে, তখন গাজ্জার সড়ক ও অলিগলিতে এই কমিটির সরকারি অস্ত্র ছাড়া আর কোনো দৃশ্যমান অস্ত্র থাকবে না। এই কমিটিই হবে সরকারি ফিলিস্তিনি পুলিশ। গাজ্জা উপত্যকায় আমরা যে ধরনের সশস্ত্র উপস্থিতি দেখতে অভ্যস্ত ছিলাম, সেরকম কোনো সশস্ত্র প্রকাশ আর থাকবে না।”

তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এর অর্থ আনুষ্ঠানিকভাবে অস্ত্র সমর্পণ নয়।

তিনি বলেন, “আমরা অস্ত্র হস্তান্তরের কথা বলছি না। আমরা অন্তত এ কথা বলছি যে ফিলিস্তিনি পুলিশের সরকারি অস্ত্র ছাড়া অন্য অস্ত্র দৃশ্যমান থাকবে না। এই বিষয়ের বিস্তারিত একটি জাতীয় কাঠামোর মধ্যে আলোচনা করা হবে।”

হামাসের এ অবস্থান এমন সময় সামনে এলো, যখন একটি অবহিত সূত্র আল জাজিরাকে জানিয়েছে, সংগঠনটি নতুন করে আলোচনার জন্য নিজেদের প্রতিনিধিদল কায়রো পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই সপ্তাহান্তে এসব আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

হামাস অল্প সময়ের জন্য আলোচনায় অংশগ্রহণ বিলম্বিত করেছিল। তাদের দাবি ছিল, সামরিক কমান্ডার ইজ্জুদ্দিন আল-হাদ্দাদ ও মুহাম্মদ ওদেহকে সাম্প্রতিক হত্যার মতো চলমান ইসরাইলি গুপ্তহত্যা বন্ধ করতে হবে, যাতে আলোচনার জন্য তুলনামূলক অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত হয়।

হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজ্জা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার, আমেরিকার মধ্যস্থতায় ২০২৫ সালের অক্টোবরে হওয়া যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার সবচেয়ে বড় অচলাবস্থার বিষয় হয়ে আছে।

কায়রোতে উপদলীয় ঐকমত্যের চেষ্টা

আসন্ন কায়রো বৈঠকে একক জাতীয় অবস্থান গঠনের জন্য আটটি গুরুত্বপূর্ণ ফিলিস্তিনি উপদল অংশ নেবে। বদরান নিশ্চিত করেছেন, হামাস, ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদ, পপুলার ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অব প্যালেস্টাইন, ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অব প্যালেস্টাইন, পিএফএলপি-জিসি, ন্যাশনাল ইনিশিয়েটিভ, পপুলার রেজিস্ট্যান্স কমিটিস এবং ফাতাহ আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডেমোক্রেটিক রিফর্ম কারেন্টের প্রতিনিধিরা এতে উপস্থিত থাকবেন।

এসব আলোচনার লক্ষ্য হলো আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতিকে রক্ষা করা। তবে বদরান বলেন, ইসরাইল প্রথম ধাপের দায়বদ্ধতার ৩০ শতাংশও বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে পরবর্তী ধাপে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

বদরান বলেন, “আমরা মানবিক সহায়তার কথা বলছি… রাফাহ ক্রসিংয়ের ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো এবং গুপ্তহত্যার কথা বলছি। ধারণাটি ছিল একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতির। কিন্তু প্রায় ১ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। ইসরাইল ৩০ শতাংশও বাস্তবায়ন করেছে বলা বাড়িয়ে বলা হবে।”

চুক্তি অনুযায়ী দৈনিক ৬০০টি সহায়তাবাহী ট্রাক গাজ্জা উপত্যকায় প্রবেশ করার কথা। কিন্তু প্রবেশ করছে মাত্র ১৫০ থেকে ২৫০টি ট্রাক। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ, হাসপাতাল ও জ্বালানির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সম্পূর্ণভাবে বিধ্বস্ত অবস্থায় রয়েছে।

‘নিরস্ত্রীকরণ’ ঘিরে অচলাবস্থা

ফিলিস্তিনি উপদলগুলো যখন প্রথম ধাপের জীবনরক্ষাকারী শর্তগুলো পূরণের দাবি জানাচ্ছে, তখন ইসরাইলি কর্মকর্তারা এবং ট্রাম্পের “বোর্ড অব পিস”-এর গাজ্জাবিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধি নিকোলাই ম্লাদেনভ দ্বিতীয় ধাপে যাওয়ার শর্ত হিসেবে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিরস্ত্রীকরণকে সামনে আনছেন।

অচলাবস্থা কাটাতে ম্লাদেনভ সম্প্রতি যুদ্ধবিরতির নিশ্চয়তাদাতা পক্ষগুলোর তৈরি ১৫ দফা “রোডম্যাপ” উপস্থাপন করেন।

২০২৬ সালের মে মাসে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে দেওয়া এক ব্রিফিংয়ে ম্লাদেনভ এই পরিকল্পনার পক্ষে অবস্থান নেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পরিকল্পনাটির কাঠামো পারস্পরিকতা ও যাচাইয়ের কঠোর নীতির ওপর দাঁড়িয়ে আছে।

ফিলিস্তিনিদের উদ্বেগের জবাবে ম্লাদেনভ স্পষ্ট করেন, রোডম্যাপে পরিষ্কারভাবে বলা আছে, “কোনো ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে তাদের অস্ত্র ইসরাইলের কাছে হস্তান্তর করতে বাধ্য করা হবে না।” বরং অস্ত্র নিষ্ক্রিয় করার প্রক্রিয়া হবে ধাপে ধাপে, পর্যায়ক্রমে এবং ফিলিস্তিনিদের নেতৃত্বে। সব অস্ত্র গাজ্জা প্রশাসনের জাতীয় কমিটির কাছে হস্তান্তর করা হবে।

ম্লাদেনভ জানান, এই নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া সরাসরি ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর পিছু হটার সঙ্গে যুক্ত। পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়সূচি অনুসারে ইসরাইল তার বাহিনী পর্যায়ক্রমে গাজ্জার সীমান্তবর্তী পরিসরে সরিয়ে নেবে। তবে তা অস্ত্র নিষ্ক্রিয়করণে যাচাইকৃত অগ্রগতি এবং বাফার হিসেবে কাজ করার জন্য একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েনের ওপর নির্ভর করবে।

রোডম্যাপ প্রত্যাখ্যানের ভয়াবহ পরিণতি নিয়েও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে সতর্ক করেন ম্লাদেনভ। গাজ্জার ৮৫ শতাংশ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “যেখানে অস্ত্র নামিয়ে রাখা হয়নি, সেখানে পুনর্গঠনের অর্থায়ন যাবে না।”

তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো সমঝোতা না হলে গাজ্জা বিভক্তই থেকে যাবে। সে ক্ষেত্রে ভূখণ্ডটির অর্ধেকেরও কম অংশে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখবে হামাস।

আলোচনার সময় ও ইসরাইলি বিস্তার

তবে ফিলিস্তিনিরা এই ১৫ দফা কাঠামোকে সময়ক্ষেপণের কৌশল হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, এর মাধ্যমে ছাড় আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সময়ে ইসরাইল তার দখলদারিত্ব আরও গভীর করছে।

ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বিশ্লেষক উইসাম আফিফা আল জাজিরাকে বলেন, ইসরাইল ধারাবাহিক উত্তেজনা বৃদ্ধির মাধ্যমে জনগণকে ক্লান্ত করে তুলতে আলোচনার সময় ব্যবহার করছে।

আফিফা বলেন, “তারা ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনা থেকে সরে এখন ১৫ দফার নতুন কাঠামো সামনে এনেছে। এই কাঠামোর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটিমাত্র বিষয়: নিরস্ত্রীকরণ।”

তিনি বলেন, ফিলিস্তিনি প্রতিরোধকে কোণঠাসা করা হয়েছে এবং প্রকৃত নিশ্চয়তা ছাড়াই বড় ধরনের ছাড় দিতে বলা হয়েছে। একই সময়ে ইসরাইলি সরকার নিজেদের ভূখণ্ডগত লক্ষ্য এগিয়ে নিতে আলোচনাকে ব্যবহার করছে।

আফিফার মতে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অভ্যন্তরীণ নির্বাচনী লাভের জন্য আলোচনাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন। তিনি গাজ্জায় ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণ ৬০ শতাংশ থেকে ৭০ শতাংশ বা তারও বেশি পর্যন্ত বিস্তৃত করছেন।

এই বিস্তার এমন সময় ঘটছে, যখন সিভিল-মিলিটারি কোঅর্ডিনেশন সেন্টারের মতো তদারকি ব্যবস্থাগুলো সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে এবং পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়াকে অচল করে দিয়েছে।

আফিফা বলেন, “আমরা এমন এক পরিস্থিতির মুখোমুখি, যেখানে দখলদার শক্তি নিজেদের শর্তে যুদ্ধবিরতিকে নতুন রূপ দিয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, ম্লাদেনভ বাস্তবে নিরস্ত্রীকরণের দাবি জানিয়ে এবং “পরবর্তী দিন” নিয়ে স্পষ্ট কোনো রাজনৈতিক দিগন্ত না দেখিয়ে ইসরাইলি ও আমেরিকান দৃষ্টিভঙ্গিই গ্রহণ করেছেন।

জাতীয় কমিটি ঘিরে জটিলতা

চলমান এই বিস্তার ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলছে। হামাস ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে আছে, এমন অভিযোগের মধ্যে সংগঠনটির মুখপাত্র হাজেম কাসেম আবারও বলেন, হামাস কায়রোভিত্তিক জাতীয় কমিটির কাছে সব প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা দায়িত্ব হস্তান্তরে পুরোপুরি প্রস্তুত।

বদরানও নিশ্চিত করেন, হামাস হস্তান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা ফাইল প্রস্তুত করেছে।

তবে গাজ্জা প্রশাসনের জাতীয় কমিটি নিজেই বড় ধরনের কার্যকরী বাধার মুখে রয়েছে। আফিফার ভাষায়, কমিটি ইসরাইলি চাপের কাছে এক ধরনের “জিম্মি” হয়ে পড়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আল জাজিরার সঙ্গে কথা বলা কমিটির একজন সদস্য গাজ্জায় শিগগিরই কমিটির প্রবেশের খবর দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেন। তিনি ক্ষমতা গ্রহণের জন্য কঠোর শর্তের কথা তুলে ধরেন।

সূত্রটি জানায়, কমিটি ইসরাইল নিয়ন্ত্রিত “ইয়েলো লাইন”-এর পেছনে কাজ করতে বা বর্তমানে গাজ্জা উপত্যকায় সক্রিয় ইসরাইল-সমর্থিত সশস্ত্র মিলিশিয়াদের সঙ্গে সহযোগিতা করতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

এ ছাড়া সূত্রটি জোর দিয়ে বলেন, ইসরাইলি বাহিনী ও ফিলিস্তিনি এলাকাগুলোর মাঝের বাফার জোনগুলোতে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েন না হওয়া পর্যন্ত কমিটি গাজ্জায় প্রবেশ করবে না।

রাজনৈতিক অচলাবস্থা চলতে থাকলেও মানবিক ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে। জাতিসংঘ ব্রিফিংয়ে ম্লাদেনভ স্বীকার করেছেন, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন অব্যাহতভাবে বেসামরিক মানুষকে হত্যা করছে এবং মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করছে।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে চলমান ইসরাইলি সামরিক পদক্ষেপে ৯৩৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ২ হাজার ৮৬৮ জন আহত হয়েছেন। এতে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২ হাজার ৯৪২ জনে। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭২ হাজার ৯৬৭ জন।

সুত্র: আল জাজিরা

Sourceinsaf24

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

eleven + two =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য