Sunday, May 31, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদাওয়াআক্বীদাহ ও মানহাজ

আক্বীদাহ ও মানহাজ

প্রশ্নোত্তরে আক্বীদাহ ও মানহাজ [শেষ পর্ব]
·
রচয়িতা: শাইখ আব্দুল আযীয বিন মুহাম্মাদ আশ-শা‘আলান (হাফিযাহুল্লাহ)
·
৫১. রিয়া (লৌকিকতা) কাকে বলে?
উত্তর: মানুষ দেখবে এবং প্রশংসা করবে—এ উদ্দেশ্যে ইবাদত করাকে রিয়া বলা হয়।


৫২. রিয়ার বিধান কী?
উত্তর: রিয়া করা হারাম। এটা ছোটো শির্কের পর্যায়ভুক্ত। দলিল—নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী, أَخْوَفُ مَا أَخَافُ عَلَيْكُم : الشِّرْكُ الأَصْعَر، فَسُئِلَ عَنْهُ فَقَالَ: الرِّيَاء “আমি ছোটো শির্ককে তোমাদের জন্য সবচেয়ে বেশি ভয় করি।” তাঁকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, “এটা রিয়া (লোক-দেখানো ইবাদত)।” [আহমাদ, ৫/৪২৮; সিলসিলা সহিহাহ, হা/৯৫১; সনদ: সহিহ (তাহকিক: আলবানি)]


৫৩. তোমার নবি কে?
উত্তর: আমার নবি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল মুত্তালিব বিন হাশিম। হাশিম এসেছে কুরাইশ থেকে, কুরাইশ এসেছে কিনানাহ থেকে, কিনানাহ এসেছে আরব থেকে, আর আরব এসেছে ইসমাইলের সন্তানদের থেকে, আর ইসমাইল হলেন ইবরাহিম আলাহিস সালামের পুত্র।

৫৪. মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওতের সবচেয়ে বড়ো নিদর্শন (দলিল) কী?
উত্তর: মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওতের সবচেয়ে বড়ো নিদর্শন মহাগ্রন্থ আল-কুরআন। এটা আল্লাহর কথা এবং এটাই সঠিক পথের দিশা, রোগের প্রতিকার ও নুর (আলো)। মহান আল্লাহ বলেছেন, قُلْ لَئِنِ اجْتَمَعَتِ الْإِنْسُ وَالْجِنُّ عَلَىٰ أَنْ يَأْتُوا بِمِثْلِ هَٰذَا الْقُرْآنِ لَا يَأْتُونَ بِمِثْلِهِ وَلَوْ كَانَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ ظَهِيرًا “বল, এ কুরআনের মতো একটি কুরআন আনার জন্য যদি সমগ্র মানবজাতি আর জিন একত্রিত হয়, তবুও তারা তার মতো আনতে পারবে না; যদিও তারা পরস্পর পরস্পরকে সাহায্য-সহযোগিতা করে।” [সুরা ইসরা/বানি ইসরাইল: ৮৮]


৫৫. নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সবচেয়ে বড়ো অধিকার কী কী?
উত্তর: নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সবচেয়ে বড়ো অধিকারগুলো হচ্ছে—তাঁর প্রতি সত্যিকারের ইমান আনা, এ ইমান রাখা যে, আল্লাহ তাঁকে পুরো মানবজাতি ও জিনদের কাছে পাঠিয়েছেন এবং তাঁর আনুগত্য করা ও তাঁর নাফরমানি থেকে বেঁচে থাকা আবশ্যক। তাঁর আনুগত্য ও অনুসরণ করা, তাঁর আদর্শকে সম্মান করা; পরিবারপরিজন, সন্তানসন্ততি ও সমগ্র মানবজাতির চেয়ে তাঁকে বেশি ভালোবাসা, তাঁকে মর্যাদা দেওয়া, সম্মান করা, তাঁর ওপর দরুদ পাঠ করা, তাঁর ব্যাপারে বাড়াবাড়ি না করা এবং আল্লাহ তাঁকে যে মর্যাদা দিয়েছেন তার চেয়ে বেশি মর্যাদায় তাঁকে উন্নীত না করা প্রভৃতির সবই তাঁর অধিকার।
·
৫৬. জাদু কী?
উত্তর: জাদু এক ধরনের শয়তানি কর্ম, যা সত্যিই সৃষ্টিজীবের অন্তরে ও শরীরে প্রভাব ফেলে। চোখে প্রভাব ফেলে, অথচ তার বাস্তবতা নেই—এমন খেয়াল দেখানো কর্মকাণ্ড‌ও জাদুর অন্তর্ভুক্ত।
৫৭. গণকবৃত্তি বা ভাগ্য গণনা কাকে বলে?
উত্তর: জিনদের ব্যবহার করে ইলমুল গায়েব তথা অদৃশ্যের জ্ঞান জানার দাবিকে গণকবৃত্তি বা ভাগ্য গণনা বলে।


৫৮. জ্যোতিষী (الْعَرَّاف) কাকে বলে?
উত্তর: যে লোক এমন কতিপয় ভূমিকার মাধ্যমে গায়েবি বিষয় জানার দাবি করে, যেসব দিয়ে সে চুরি যাওয়া বস্তু ও হারানো বস্তু কোথায় পাওয়া যাবে, সে সম্পর্কে নির্দেশনা লাভ করে, তাকে জ্যোতিষী বলে। কেউ বলেন, গণক, তারকা দেখে ভবিষ্যদ্বাণীকারী, বালিতে রেখা টেনে ভবিষ্যদ্বাণীকারী প্রমুখ, যারা কিনা জিনের মাধ্যমে গায়েবি বিষয় জানার দাবি করে, তাদের সবাইকে জ্যোতিষী বলে। তাদের কার্যক্রম: তারকাগণনা (Astrology), হস্তরেখাপাঠ (Palmistry), পেয়ালাপাঠ (Cup Reading) এবং এসবের মাধ্যমে গায়েবি বিষয়ের নির্দেশনা লাভ করা।


৫৯. জোতিষী ও গণক প্রমুখের কাছে গমনের হুকুম কী, যারা ইলমুল গায়েব তথা অদৃশ্যের জ্ঞান জানার দাবি করে?
উত্তর: জাদুকর, জ্যোতিষী ও গণকের কাছে যাওয়া হারাম। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, مَنْ أَتَى عَرَّافًا فَسَأَلَهُ عَنْ شَىْءٍ لَمْ تُقْبَلْ لَهُ صَلاَةٌ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً “যে ব্যক্তি জ্যোতিষীর কাছে যায়, অতঃপর তাকে কোনো বিষয় সম্পর্কে প্রশ্ন করে, চল্লিশ দিন অবধি তার নামাজ কবুল করা হয় না।” [সহিহ মুসলিম, হা/২২৩০; সালাম অধ্যায় (৪০); পরিচ্ছেদ: ৩৫] আবু হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু কর্তৃক বর্ণিত, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, مَنْ أَتَى كَاهِنًا أَوْ عَرَّافًا فَصَدَّقَهُ بِمَا يَقُولُ فَقَدْ كَفَرَ بِمَا أُنْزِلَ عَلَى مُحَمَّدٍ “যে ব্যক্তি কোনো জ্যোতিষী বা গণকের কাছে যায় এবং তার বক্তব্যকে সত্যায়ন করে, সে মুহাম্মাদের ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছে তার প্রতি কুফরি (অস্বীকার/অবিশ্বাস) করে।” [আহমাদ, হা/৯৫৩৬; সহিহুল জামি, হা/৫৯৩৯; সনদ: সহিহ (তাহকিক: আলবানি)]


৬০. জাদু করা এবং তা শেখার বিধান কী?
উত্তর: জাদুর সবই হারাম ও কুফর; শেখা-শেখানো উভয়ই হারাম ও কুফর। জাদুর কোনো কিছুই বৈধ নয়। মহান আল্লাহ বলেছেন, وَمَا كَفَرَ سُلَيْمَانُ وَلَٰكِنَّ الشَّيَاطِينَ كَفَرُوا يُعَلِّمُونَ النَّاسَ السِّحْرَ “সুলাইমান কুফরি করেনি, বরং শয়তানরাই কুফরি করেছিল, তারা মানুষকে জাদু শিক্ষা দিত।” [সুরা বাকারা: ১০২]
·
৬১. রাশিফল পাঠ করা এবং তাতে বিশ্বাস করার বিধান কী?
উত্তর: এটা জাহেলি যুগের লোকদের কাজ। জ্যোতিষী ও গণকরা যে অদৃশ্যের জ্ঞান জানার দাবি করে, তাতে তাদেরকে সত্যায়ন করার অন্তর্ভুক্ত হবে—এই রাশিফল পাঠ ও তাতে বিশ্বাস করা। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, مَنْ اقْتَبَسَ عِلْمًا مِنَ النُّجُومِ، اقْتَبَسَ شُعْبَةً مِنَ السِّحْرِ زَادَ مَا زَاد “যে ব্যক্তি তারকা গণনার একটি অংশ গ্রহণ করল, সে যেন জাদুরই একটি অংশ গ্রহণ করল। যে যত বেশি গ্রহণ করবে, তার ততই বেশি হবে (পাপ কিংবা জাদুর অংশ)।” [আবু দাউদ, হা/৩৯০৫; সনদ: হাসান (তাহকিক: আলবানি)]


৬২. তাবিজ-কবচ (التَّمَائِم) কাকে বলে?
উত্তর: আরবি ‘তামাইম’ শব্দটি ‘তামিমাহ’ শব্দের বহুবচন। বিপদ ঘটার আগেই তা প্রতিরোধ করা অথবা বিপদ ঘটার পরে তার প্রতিকার করার উদ্দেশ্যে যেসব পুঁতি, অস্থি (হাড়), লিখিত বস্তু, ফিতা, সুতো, বা বস্ত্রখণ্ড—শিশুদের গলায়, বা বাজুতে, কিংবা বাড়িতে, বা গাড়িতে লটকানো হয়, সেগুলোই তামাইম তথা তাবিজ-কবচ।


৬৩. তাবিজ-কবচের বিধান কী?
উত্তর: ছোটো শির্ক। তবে তা বড়ো শির্কও হতে পারে, যদি কেউ এ বিশ্বাস রাখে যে, আল্লাহকে ব্যতিরেকে তাবিজ-কবচ (সৃষ্টির) উপকার ও ক্ষতি করতে পারে। এর দলিল—নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, مَنْ عَلَّقَ تَمِيمَةً فَقَدْ أَشْرَكَ “যে তাবিজ লটকাল, সে শির্ক করল।” [আহমাদ, হা/১৭৪২২; সিলসিলাহ সহিহাহ, হা/৪৯২; সনদ: সহিহ (তাহকিক: আলবানি)]


৬৪. শরয়ী ঝাঁড়ফুক কী এবং এর বিধান কী?
উত্তর: রোগীর কাছে কুরআনের কোনো অংশ বা দোয়া পাঠ করা এবং ব্যথার স্থানে হালকা থুতুমিশ্রিত ফুঁ দেওয়া। ঝাঁড়ফুক করা বৈধ। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, لاَ بَأْسَ بِالرُّقَى مَا لَمْ يَكُنْ فِيهِ شِرْكٌ ‏ “শির্ক না থাকলে ঝাঁড়ফুক করায় কোনো সমস্যা নেই।” [সহিহ মুসলিম, হা/২২০০; সালাম অধ্যায় (৪০); পরিচ্ছেদ: ২২] ঝাঁড়ফুক হওয়ার জন্য শর্ত হচ্ছে—তা শির্কমুক্ত হতে হবে, এ বিশ্বাস রাখতে হবে যে, ঝাঁড়ফুক নিজে নিজেই কাজ করে না, বরং তা স্রেফ মাধ্যম মাত্র, ভালো-মন্দ মহান আল্লাহর হাতে। এছাড়াও ঝাঁড়ফুক হতে হবে আরবি ভাষায়, কিংবা অন্য ভাষায় হলে তার অর্থ বোধগম্য হতে হবে এবং তা হতে হবে আল্লাহর বাণী, নাম ও গুণাবলি সংবলিত।


৬৫. অশুভ লক্ষণ মানা (الطِّيَرَة) বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: পাখি উড়িয়ে শুভ বা অশুভ ধারণা করাকে অশুভ লক্ষণ মানা বলে।
·
৬৬. দলিল-সহ অশুভ লক্ষণ মানার বিধান বর্ণনা করো।
উত্তর: এ কাজ হারাম এবং তা ছোটো শির্কের অন্তর্ভুক্ত। তবে তা বড়ো শির্কও হতে পারে, যদি কেউ এ বিশ্বাস রাখে যে, আল্লাহকে ব্যতিরেকে অশুভ লক্ষণ (কারও) উপকার ও ক্ষতি করতে পারে। এর দলিল—নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী, الطِّيَرَةُ شِرْكٌ “অশুভ লক্ষণ মানা শির্ক।” [আহমাদ, ১/৩৮৯; আবু দাউদ, হা/৩৯১০; সনদ: সহিহ (তাহকিক: আলবানি)]


৬৭. পাখি না উড়িয়েও কি অশুভ লক্ষণ মানা হয়?
উত্তর: হ্যাঁ, মানা হয়। যেমন মাস বা দিবস, বা জীবজন্তুর মাধ্যমে অশুভ লক্ষণ মানা; কিংবা বিশেষ শারীরিক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তিদের মাধ্যমে অশুভ লক্ষণ মানা, যেমন অন্ধ, খোঁড়া প্রমুখ।


৬৮. নক্ষত্রের মাধ্যমে বৃষ্টিপ্রার্থনা (الْاِسْتِسْقَاءُ بِالأَنْوَاء) বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: আরবি ‘আনওয়া (الأَنْوَاء)’ মানে নক্ষত্ররাজি। নক্ষত্রের মাধ্যমে বৃষ্টিপ্রার্থনা মানে নক্ষত্রের কাছে বৃষ্টি কামনা করা এবং বৃষ্টি বর্ষিত হলে বৃষ্টিকে নক্ষত্রের দিকে সম্পৃক্ত করা।


৬৯. নক্ষত্রের মাধ্যমে বৃষ্টিপ্রার্থনার বিধান কী?
উত্তর: এর বিধান দু ধরনের। যথা:
এক. এ বিশ্বাস রাখা যে, নক্ষত্রই বৃষ্টিবর্ষণ করে। এটা কুফর। কেননা এতে আল্লাহর সাথে শরিক স্থাপন করা হয়।
দুই. এ বিশ্বাস পোষণ করা যে, আল্লাহই বৃষ্টির স্রষ্টা এবং তিনিই বৃষ্টিবর্ষণ করেন। কিন্তু ব্যক্তি এরকম বিশ্বাস রাখে যে, নক্ষত্ররাজি বৃষ্টিবর্ষণের মাধ্যম। এটা ছোটো শির্ক। যেহেতু এতে আল্লাহর নেয়ামতকে অন্যের দিকে সম্পৃক্ত করা হয়। কারণ আল্লাহ নক্ষত্ররাজিকে বৃষ্টিবর্ষণের মাধ্যম বানাননি।

৭০. নক্ষত্রের মাধ্যমে বৃষ্টিপ্রার্থনা হারাম হওয়ার দলিল কী?
উত্তর: নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী, মহান আল্লাহ বলেছেন, فَأَمَّا مَنْ قَالَ مُطِرْنَا بِفَضْلِ اللَّهِ وَرَحْمَتِهِ فَذَلِكَ مُؤْمِنٌ بِي وَكَافِرٌ بِالْكَوْكَبِ، وَأَمَّا مَنْ قَالَ بِنَوْءِ كَذَا وَكَذَا فَذَلِكَ كَافِرٌ بِي وَمُؤْمِنٌ بِالْكَوْكَب “যে বলে, ‘আমরা আল্লাহর দয়া ও অনুকম্পায় বৃষ্টি পেয়েছি,’ সে আমার প্রতি ইমান রাখে, আর নক্ষত্রকে অস্বীকার করে। পক্ষান্তরে যে বলে, ‘আমরা অমুক অমুক নক্ষত্রের কারণে বৃষ্টি পেয়েছি,’ সে আমাকে অস্বীকার করে, আর নক্ষত্রের প্রতি ইমান রাখে।” [সহিহ বুখারি, হা/৮৪৬; সহিহ মুসলিম, হা/৭১]
·
৭১. কবরের ওপর মসজিদ নির্মাণের বিধান কী?
উত্তর: হারাম। এটা শির্কের একটি মাধ্যম। আল্লাহর রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, لَعْنَةُ اللهِ عَلَى الْيَهُوْدِ وَالنَّصَارَى اتَّخَذُوْا قُبُوْرَ أَنْبِيَائِهِمْ مَسَاجِدَ “ইহুদি-খ্রিষ্টানদের আল্লাহ স্বীয় রহমত থেকে বিতাড়িত করুন। তারা নবিদের কবরকে মসজিদ হিসেবে গ্রহণ করেছে।” [সহিহ বুখারি, হা/৩৪৫৩ ও ৩৪৫৪]


৭২. তাবাররুক কাকে বলে?
উত্তর: তাবাররুক মানে বরকত কামনা করা। কল্যাণ পাওয়া এবং সেই কল্যাণ স্থায়ী হওয়াকে বলা হয় বরকত।


৭৩. তাবাররুকের প্রকার কী কী?
উত্তর: তাবাররুক দু প্রকার। এক. সিদ্ধ বরকত-কামনা: এটা জায়েজ। এটা সেই বরকত-কামনা, যে ব্যাপারে কুরআন-সুন্নাহর দলিল সাব্যস্ত হয়েছে। দুই. নিষিদ্ধ বরকত-কামনা: যে বরকত-কামনা করা হারাম।


৭৪. সিদ্ধ বরকত-কামনা কয় প্রকার?
উত্তর: সিদ্ধ বরকত-কামনা দু প্রকার। যথা:
(১) ইন্দ্রীয়গ্রাহ্য জড়পদার্থের মাধ্যমে বরকত কামনা করা। যেমন জমজম কূপের পানি দিয়ে বরকত কামনা করা।
(২) ভালো কর্মাবলির মাধ্যমে বরকত কামনা করা। যেমন নামাজ, দোয়া, দান-খয়রাত ইত্যাদি।


৭৫. নিষিদ্ধ বরকত-কামনা কয় প্রকার?উত্তর: নিষিদ্ধ বরকত-কামনা দু প্রকার। যথা:
(১) যা থেকে শরিয়ত নিষেধ করেছে। যেমন: প্রতিমা ও মূর্তি দিয়ে বরকত-কামনা করা।
(২) যা বাস্তবতাশূন্য ধারণামূলক মাধ্যমের অন্তর্ভুক্ত। যেমন: সৎ ব্যক্তিদের মাধ্যমে, অথবা তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ, মুখের লালা, কিংবা গাছপালা, বা পাথরের মাধ্যমে বরকত-কামনা করা।
·
৭৬. দোয়ায় অসিলা গ্রহণ করার (التًَّّوَسُّل) প্রকার কী কী?
উত্তর: দোয়ায় অসিলা গ্রহণ করা দু ধরনের। যথা:
এক. সিদ্ধ অসিলা গ্রহণ: যে অসিলা গ্রহণের ব্যাপারে শরয়ী দলিল সাব্যস্ত হয়েছে।
দুই. নিষিদ্ধ অসিলা গ্রহণ: যে অসিলা গ্রহণের ব্যাপারে শরয়ী দলিল সাব্যস্ত হয়নি, কিংবা শরয়ী দলিল তা থেকে সরাসরি নিষেধ করেছে।


৭৭. দোয়ায় সিদ্ধ অসিলা গ্রহণের প্রকার কী কী?
উত্তর: দোয়ায় সিদ্ধ অসিলা গ্রহণ তিন প্রকার। যথা:
(১) আল্লাহর নাম ও গুণাবলিকে অসিলা হিসেবে গ্রহণ করা। যেমন আপনার এরূপ বলা যে, ‘হে রহমান, হে দয়াময়, আমাকে দয়া করুন।’
(২) ভালো আমলকে অসিলা হিসেবে গ্রহণ করা। যেমন আল্লাহ বলেছেন, رَبَّنَا إِنَّنَا آمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ “(আল্লাহভীরু বান্দারা প্রার্থনা করে) হে আমাদের প্রতিপালক, আমরা ইমান এনেছি, অতএব আমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করুন এবং আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি হতে রক্ষা করুন।” [সুরা আলে ইমরান: ১৬]
(৩) জীবিত ও উপস্থিত আছেন, এমন সৎব্যক্তির কাছে দোয়া চেয়ে অসিলা গ্রহণ করা। যেমন উক্কাশাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে চেয়েছিলেন, তিনি যেন তাঁর জন্য দোয়া করে দেন, যাতে তিনি বিনা হিসেবে জান্নাতে প্রবেশ করবে—এমন সত্তর হাজার লোকের অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন। উক্কাশাহ বিন মিহসান বলেছিলেন, ادْعُ اللَّهَ أَنْ يَجْعَلَنِي مِنْهُمْ “আল্লাহর কাছে দোয়া করে দিন, যেন তিনি আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন।” আল্লাহর রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, أَنْتَ مِنْهُمْ “তুমি তাদের একজন।” [সহিহ বুখারি, হা/৪১২]


৭৮. দোয়ায় নিষিদ্ধ অসিলা গ্রহণের প্রকার কী কী?
উত্তর: দু প্রকার। যথা:
(১) শির্কি অসিলা গ্রহণ করা। আর তা এমন অসিলা গ্রহণ, যার মধ্যে প্রবেশ করেছে আল্লাহর সাথে শরিক করার মতো বিষয় (অর্থাৎ শির্ক)। যেমন সৎ ব্যক্তিদের কাছে বিপদে সাহায্য প্রার্থনা করা, আল্লাহকে বাদ দিয়ে তাদের কাছে প্রার্থনা করা। যেমন কেউ কেউ বলে, ‘হে আল্লাহর রসুল, সাহায্য করুন,’ কিংবা বলে, ‘ওহে জিলানি, সাহায্য করুন।’
(২) বিদআতি অসিলা গ্রহণ করা। আর তা এমন পদ্ধতিতে অসিলা গ্রহণ, যে ব্যাপারে শরিয়তের দলিল সাব্যস্ত হয়নি। কেননা অসিলা গ্রহণ করা ইবাদত। শরয়ী দলিল ছাড়া এর কোনোকিছুই বৈধ হবে না। সৎ ব্যক্তিদের সত্তা কিংবা মর্যাদাকে অসিলা হিসেবে গ্রহণ করা বিদআতি অসিলার একটি অন্যতম উদাহরণ।


৭৯. কেয়ামতের দিন যে শাফায়াত (সুপারিশ) করা হবে, সে শাফায়াত বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: কারও কল্যাণ আনয়ন কিংবা কারও অকল্যাণ প্রতিরোধের জন্য আল্লাহর নিকট মধ্যস্থতা করাকে (intercession) শাফায়াত বলা হয়।


৮০. মৃতদের কাছে কি শাফায়াত চাওয়া যায়?
উত্তর: মৃতদের কাছে শাফায়াত চাওয়া যায় না। কারণ শাফায়াতের মালিকানা কেবল এক আল্লাহর। মহান আল্লাহ বলেছেন, قُلْ لِلَّهِ الشَّفَاعَةُ جَمِيعًا “তুমি বল, সকল শাফায়াত আল্লাহর মালিকানাভুক্ত।” [সুরা যুমার: ৪৪]
·
৮১. শাফায়াতের শর্ত কী কী?
উত্তর: শাফায়াতের শর্ত দুটি। যথা:
এক. আল্লাহ কর্তৃক শাফায়াতকারীকে শাফায়াত করার অনুমতি প্রদান। মহান আল্লাহ বলেছেন, مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِه “কে আছে, যে তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর নিকট শাফায়াত করবে?” [সুরা বাকারা: ২৫৫]
দুই. যার জন্য শাফায়াত করা হবে, তার প্রতি আল্লাহর সন্তোষ। মহান আল্লাহ বলেছেন, وَلَا يَشْفَعُونَ إِلَّا لِمَنِ ارْتَضَىٰ “তিনি যাদের প্রতি খুবই সন্তুষ্ট, তারা (ফেরেশতারা) শুধু তাদের জন্যই শাফায়াত করে।” [সুরা আম্বিয়া: ২৮]


৮২. কাদের জন্য শাফায়াত করা হবে?
উত্তর: তাওহীদপন্থিদের জন্য শাফায়াত করা হবে। এর দলিল—নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী, أَسْعَدُ النَّاسِ بِشَفَاعَتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَنْ قَالَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ، خَالِصًا مِنْ قَلْبِهِ “কেয়ামতের দিন আমার শাফায়াত পেয়ে সবচেয়ে সৌভাগ্যবান হবে সেই ব্যক্তি, যে একনিষ্ঠচিত্তে (খালেস অন্তরে) লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলেছে।” [সহিহ বুখারি, হা/৯৯]


৮৩. আল্লাহকে নিয়ে, কিংবা তাঁর কিতাব, বা তাঁর দ্বীন, অথবা তাঁর রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিয়ে যে লোক ঠাট্টাবিদ্রুপ ও পরিহাস করে, তার বিধান কী?
উত্তর: এসবের কোনো কিছু নিয়ে যে ঠাট্টা বা উপহাস করে, সে কাফির। মহান আল্লাহ বলেছেন, قُلْ أَبِاللَّهِ وَآيَاتِهِ وَرَسُولِهِ كُنْتُمْ تَسْتَهْزِئُونَ لَا تَعْتَذِرُوا قَدْ كَفَرْتُمْ بَعْدَ إِيمَانِكُمْ “বল, আল্লাহ, তাঁর আয়াত ও তাঁর রসুলকে নিয়ে তোমরা বিদ্রূপ করছিলে? তোমরা কোনো ওজর পেশ কোরো না, ইমান আনার পর তোমরা কাফির হয়ে গেছ।” [সুরা তওবা: ৬৫-৬৬]


৮৪. মিত্রতা ও বৈরিতা (الْوَلَاءُ وَالْبَرَاءُ) কাকে বলে?
উত্তর: আল্লাহ, তাঁর রসুল ও মুসলিমদের ভালোবাসা এবং তাঁদের পৃষ্ঠপোষকতা তথা সহযোগিতা করাকে মিত্রতা (الْوَلَاءُ) বলে। মহান আল্লাহ বলেছেন, إِنَّمَا وَلِيُّكُمُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَالَّذِينَ آمَنُوا الَّذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَهُمْ رَاكِعُونَ وَمَنْ يَتَوَلَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَالَّذِينَ آمَنُوا فَإِنَّ حِزْبَ اللَّهِ هُمُ الْغَالِبُونَ “তোমাদের মিত্র কেবল আল্লাহ, তাঁর রসুল ও মুমিনগণ, যে মুমিনরা নামাজ প্রতিষ্ঠা করে, জাকাত আদায় করে এবং আল্লাহর কাছে অবনত হয়। যে ব্যক্তিই আল্লাহ ও তাঁর রসুল এবং মুমিনদেরকে মিত্ররূপে গ্রহণ করবে, (সে হবে আল্লাহর দলভুক্ত) আর আল্লাহর দলই হবে বিজয়ী।” [সুরা মাইদাহ: ৫৫-৫৬]
আর কুফর ও কাফিরদের ঘৃণা করা এবং তাদের সাথে শত্রুতা রাখাকে বৈরিতা (َالْبَرَاءُ) বলে। মহান আল্লাহ বলেছেন, قَدْ كَانَتْ لَكُمْ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ فِي إِبْرَاهِيمَ وَالَّذِينَ مَعَهُ إِذْ قَالُوا لِقَوْمِهِمْ إِنَّا بُرَآءُ مِنْكُمْ وَمِمَّا تَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ كَفَرْنَا بِكُمْ وَبَدَا بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةُ وَالْبَغْضَاءُ أَبَدًا حَتَّىٰ تُؤْمِنُوا بِاللَّهِ وَحْدَهُ “ইবরাহীম ও তার সঙ্গীদের মধ্যে তোমাদের জন্য আছে উত্তম আদর্শ। যখন তারা তাদের সম্প্রদায়কে বলেছিল, ‘তোমাদের সঙ্গে, আর তোমরা যাদের ইবাদত করো আল্লাহকে বাদ দিয়ে তাদের সঙ্গে—আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা তোমাদেরকে প্রত্যাখ্যান করছি। আমাদের আর তোমাদের মাঝে চিরকালের জন্য শত্রুতা ও বিদ্বেষ স্পষ্ট হয়ে গেছে, যতক্ষণ না তোমরা এক আল্লাহর প্রতি ইমান আনছ (ততক্ষণ পর্যন্ত চলবে এ বিদ্বেষ)।” [সুরা মুমতাহানাহ: ৪]


৮৫. কাফিরদের উৎসব—যেমন ক্রিসমাস ডে—উপলক্ষে তাদেরকে শুভেচ্ছা বা সম্ভাষণ জানানোর বিধান কী?
উত্তর: শাইখ ইবনু উসাইমীন রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, “কাফিরদেরকে ক্রিসমাস ডে (যিশুখ্রিষ্ট দিবস) কিংবা তাদের অন্যান্য ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানানো সর্বসম্মতিক্রমে হারাম। এ বিষয়ে ইজমা (মতৈক্য) বর্ণনা করেছেন ইবনুল কাইয়্যিম রাহিমাহুল্লাহ তাঁর ‘আহকামু আহলিয যিম্মাহ’ গ্রন্থে।” [ফাতাওয়া ইবনি উসাইমীন, ৩/৪৪]
·
৮৬. বিদআত কাকে বলে?
উত্তর: আল্লাহর রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবিগণ রাদিয়াল্লাহু আনহুম যে পদ্ধতি বা আদর্শের ওপর ছিলেন না, সে পদ্ধতিতে আল্লাহর ইবাদত করাকে বিদআত বলে।
৮৭. দ্বীনের মধ্যে বিদআত করার হুকুম কী?
উত্তর: হারাম। এটা সবচেয়ে গর্হিত পাপগুলোর একটি। আল্লাহর রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, إِنَّ خَيْرَ الْحَدِيثِ كِتَابُ اللَّهِ وَخَيْرُ الْهُدَى هُدَى مُحَمَّدٍ وَشَرُّ الأُمُورِ مُحْدَثَاتُهَا وَكُلُّ بِدْعَةٍ ضَلاَلَةٌ “নিশ্চয় সর্বশ্রেষ্ঠ বাণী আল্লাহর কিতাব, আর সর্বোত্তম আদর্শ মুহাম্মাদের আদর্শ। সর্বনিকৃষ্ট কর্ম নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ। আর প্রত্যেক বিদআতই (নবউদ্ভাবিত কর্ম) ভ্রষ্টতা।” [সহিহ মুসলিম, হা/৮৬৭; জুমুআহ অধ্যায় (৮); পরিচ্ছেদ: ১৩]


৮৮. ইসলামে কি বিদআতে হাসানাহ তথা ভালো বিদআত বলে কিছু আছে?
উত্তর: ইসলামে কোনো বিদআতে হাসানাহ তথা ভালো বিদআত নেই। আল্লাহর রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, َكُلُّ بِدْعَةٍ ضَلاَلَةٌ “প্রত্যেক বিদআতই (নবউদ্ভাবিত কর্ম) ভ্রষ্টতা।” [সহিহ মুসলিম, হা/৮৬৭]


৮৯. বিদআতিদের ব্যাপারে (সুন্নাহপন্থির) অবস্থান কী হবে?
উত্তর: বিদআতিদের থেকে সতর্ক থাকা, তাদের থেকে মানুষকে সতর্ক করা, তাদের সাথে ওঠাবসা না করা এবং তাদের বইপুস্তক না পড়া (একজন সুন্নাহপন্থির) কর্তব্য। ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেছেন, “তুমি বিদআতিদের সাথে ওঠাবসা কোরো না। কেননা তাদের সাথে কৃত ওঠাবসা অন্তরে ব্যাধি আনয়ন করে।” [আল-ইবানাহ, ২/৪৩৮] ইমাম বাগাউয়ী রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, “সাহাবিবর্গ, তাবেয়িগণ, তাঁদের অনুসারীবৃন্দ ও সুন্নাহর উলামাগণ বিদআতিদের প্রতি বৈরিতা রাখা এবং তাদেরকে বর্জন করার ওপর একমত ছিলেন।” [শারহুস সুন্নাহ, ১/১২৭]
৯০. নামাজ পরিত্যাগ করার বিধান কী?
উত্তর: নামাজ পরিত্যাগ করা কুফর। কারণ জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, إِنَّ بَيْنَ الرَّجُلِ وَبَيْنَ الشِّرْكِ وَالْكُفْرِ تَرْكَ الصَّلاَةِ “নিশ্চয় বান্দার মাঝে ও শির্ক-কুফরের মাঝে পার্থক্য হলো নামাজ পরিত্যাগ করা।” [সহিহ মুসলিম, হা/৮২; ইমান অধ্যায় (১); পরিচ্ছেদ: ৩৫]
·
৯১. অন্যায়ভাবে মুসলিমদের কাফির বলার বিধান কী?
উত্তর: হারাম। এটা চরম পর্যায়ের গুনাহগুলোর একটি। আল্লাহর রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, أَيُّمَا امْرِئٍ قَالَ لأَخِيهِ يَا كَافِرُ، فَقَدْ بَاءَ بِهَا أَحَدُهُمَا إِنْ كَانَ كَمَا قَالَ وَإِلاَّ رَجَعَتْ عَلَيْهِ “যে লোকই তার ভাইকে বলে, ‘হে কাফির,’ সেই কথা তাদের দুজনের যে কোনো একজনের দিকে ফিরে যায়। আখ্যাত ব্যক্তি যদি আসলেই তেমন হয়ে থাকে (তাহলে তো কথাটা তার দিকেই গেল), নচেৎ উক্ত কথা কথকের দিকেই ফিরে আসে।” [সহিহ মুসলিম, হা/৬০; ইমান অধ্যায় (১); পরিচ্ছেদ: ২৬]
৯২. আল্লাহর রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবিবর্গের ব্যাপারে একজন মুসলিমের কর্তব্য কী হবে?
উত্তর: তাঁদেরকে ভালোবাসা, এ বিশ্বাস রাখা যে, নবি ও রসুলগণ আলাইহিমুস সালামের পরে তাঁরাই সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ, ভালো কথা ছাড়া তাদের ব্যাপারে আলোচনা করা থেকে জবানকে সংযত করা একজন মুসলিমের কর্তব্য। কোনো একজন সাহাবিকেও গালি দেওয়া হারাম। আল্লাহর রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, لَا تَسُبُّوْا أَصْحَابِيْ فَلَوْ أَنَّ أَحَدَكُمْ أَنْفَقَ مِثْلَ أُحُدٍ ذَهَبًا مَا بَلَغَ مُدَّ أَحَدِهِمْ وَلَا نَصِيْفَهُ “তোমরা আমার সাহাবিদের গালি দিয়ো না। ওই সত্তার কসম, যাঁর হাতে রয়েছে আমার প্রাণ, তোমাদের কেউ যদি এক উহুদ পাহাড় পরিমাণ সোনা দান করে, তবুও তা তাদের কারও এক মুদ (মধ্যম মাপের দু হাতের এক অঞ্জলি পরিমাণ) বা তার অর্ধেক পরিমাণ দানের সমপর্যায়ে পৌঁছবে না।” [সহিহ বুখারি, হা/৩৬৭৩; সহিহ মুসলিম, হা/২৫৪০]
৯৩. সাহাবিগণ রাদিয়াল্লাহু আনহুমের মর্যাদা সম্পর্কে দলিল উল্লেখ করো।
উত্তর: মহান আল্লাহ বলেছেন, وَالسَّابِقُونَ الْأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَانٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ وَأَعَدَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي تَحْتَهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا ۚ ذَٰلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ “মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথম সারির অগ্রণী, আর যারা তাদের যথাযথ অনুসরণ করেছে, আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন, আর তারাও হয়েছে তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট। তাদের জন্য তিনি প্রস্তুত করে রেখেছেন জান্নাত, যার তলদেশ দিয়ে ঝরনাধারা প্রবাহিত। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। এটাই মহাসাফল্য।” [সুরা তওবা: ১০০]

৯৪. সর্বশ্রেষ্ঠ সাহাবি কারা?
উত্তর: সর্বশ্রেষ্ঠ সাহাবি চার খলিফা। তাঁরা হলেন আবু বকর আস-সিদ্দিক, তারপর উমার বিন খাত্তাব, তারপর উসমান বিন আফফান, তারপর আলি বিন আবু তালিব। তারপর জান্নাতের দশজন সুসংবাদপ্রাপ্ত সাহাবিগণের অবশিষ্ট সাহাবিবর্গ রাদিয়াল্লাহু আনহুম।


৯৫. উলুল আমর (কর্তৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ) বলতে কারা উদ্দেশ্য?
উত্তর: তারা মুসলিমদের শাসক।
·
৯৬. মুসলিমদের শাসকবর্গের ব্যাপারে একজন মুসলিমের কর্তব্য কী?
উত্তর: আল্লাহর অবাধ্যতা ছাড়া বাকি সবক্ষেত্রে তাদের কথা শোনা ও মানা, তাদেরকে নসিহত করা, তাদের জন্য দোয়া করা এবং মিম্বার ও মজলিসগুলোতে তাদের নিন্দা-সমালোচনায় লিপ্ত না হওয়া। কারণ তা ফিতনা তৈরি করে।


৯৭. এর দলিল কী?
উত্তর: মহান আল্লাহর বাণী, يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ “হে মুমিনগণ, তোমরা আনুগত্য করো আল্লাহর, আনুগত্য করো রসুলের এবং তোমাদের মধ্যকার কর্তৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গের।” [সূরাহ নিসা: ৫৯] রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী, الدِّينُ النَّصِيحَةُ. قُلْنَا لِمَنْ قَالَ ‏:‏ لِلَّهِ وَلِكِتَابِهِ وَلِرَسُولِهِ وَلأَئِمَّةِ الْمُسْلِمِينَ وَعَامَّتِهِمْ “সদুপদেশ দেওয়াই দ্বীন। আমরা বললাম, কার জন্য উপদেশ? তিনি বললেন, আল্লাহ, তাঁর কিতাব, ও তাঁর রসুলের জন্য এবং মুসলিম শাসকবর্গ ও তাদের জনগণের জন্য।” [সহিহ মুসলিম, হা/৫৫; ইমান অধ্যায় (১); পরিচ্ছেদ: ২৩]


৯৮. মুসলিম শাসকদের প্রতি নসিহত কীরূপ হবে?
উত্তর: নসিহত করতে হবে গোপনে। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, مَنْ أَرَادَ أَنْ يَنْصَحَ لِذِي سُلْطَانٍ فَلا يُبْدِهِ عَلانِيَةً وَلَكِنْ يَأْخُذُ بِيَدِهِ فَيَخْلُوا بِهِ فَإِنْ قَبِلَ مِنْهُ فَذَاكَ وَإِلا كَانَ قَدْ أَدَّى الَّذِي عَلَيْهِ “যে ব্যক্তি শাসককে উপদেশ দিতে চায়, সে যেন তা প্রকাশ্যে ব্যক্ত না করে। বরং সে তাঁর হাত ধরবে, তারপর তাঁর সাথে একান্তে মিলিত হয়ে উপদেশ দিবে। যদি তিনি তা গ্রহণ করেন, তবে ভালো। আর না গ্রহণ করলে, তার ওপর যে দায়িত্ব ছিল, সে তা পালন করল।” [মুসনাদে আহমাদ, হা/১৫৩৬৯, যিলালুল জান্নাহ, হা/১০৯৬; সনদ: সহিহ (তাহকিক: আলবানি ও ইবনু বায)]


৯৯. ফিতনা অবতীর্ণের সময় মুসলিমের কর্তব্য কী, তা দলিল-সহ আলোকপাত করো।
উত্তর: ফিতনা থেকে দূরে থাকা, মুসলিমদের জামাআত ও তাদের নেতাকে আঁকড়ে ধরা এবং গভীর জ্ঞানসম্পন্ন আলিমদেরকে করণীয় জিজ্ঞাসা করা অবশ্যপালনীয় কর্তব্য। এর দলিল—মহান আল্লাহর বাণী, وَإِذَا جَاءَهُمْ أَمْرٌ مِنَ الْأَمْنِ أَوِ الْخَوْفِ أَذَاعُوا بِهِ ۖ وَلَوْ رَدُّوهُ إِلَى الرَّسُولِ وَإِلَىٰ أُولِي الْأَمْرِ مِنْهُمْ لَعَلِمَهُ الَّذِينَ يَسْتَنْبِطُونَهُ مِنْهُمْ ۗ وَلَوْلَا فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُهُ لَاتَّبَعْتُمُ الشَّيْطَانَ إِلَّا قَلِيلًا “আর যখন তাদের কাছে নিরাপত্তা কিংবা ভীতিজনক কোনো বিষয় আসে, তখন তারা তা প্রচার করে। তারা যদি সেটা রসুলের কাছে এবং তাদের মধ্যকার কর্তৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গের কাছে পৌঁছে দিত, তাহলে অবশ্যই অনুসন্ধানকারীরা তা (সরাসরি) জেনে নিত তাদেরই নিকট থেকে। আর যদি তোমাদের ওপর আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর রহমত না থাকত, তবে অবশ্যই অল্প কয়েকজন ছাড়া তোমরা শয়তানেরই অনুসরণ করতে।” [সুরা নিসা: ৮৩]


১০০. আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত কারা?
উত্তর: নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর সাহাবিবর্গ ও তাঁদের অনুসারীগণের আদর্শকে যারা আঁকড়ে ধরে এবং বিশ্বাস, কথা ও কাজে তাঁদেরই পথ অবলম্বন করে, তারাই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত।
মহান আল্লাহ আমাদের নবি মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারপরিজন ও সাহাবিগণের ওপর বর্ষণ করুন সালাত ও সালাম।
·

সমাপ্ত, আলহামদুলিল্লাহ।
·
অনুবাদক: মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ মৃধা
www.facebook.com/SunniSalafiAthari

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

nineteen − twelve =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য