Tuesday, April 21, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরআফগানিস্তানে নারীশিক্ষা; কোরআনের বাণী দিয়ে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদ

আফগানিস্তানে নারীশিক্ষা; কোরআনের বাণী দিয়ে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদ

ইসলাম ধর্মের ধর্মগ্রন্থ পবিত্র কোরআনে বর্ণিত আরবি শব্দ ‘ইকরা’র বাংলা অর্থ হচ্ছে ‘পড়’। আফগানিস্তানের ১৮ বছর বয়সী এক তরুণী কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে একা একটি প্ল্যাকার্ডে এই একটিমাত্র শব্দ লিখে মেয়েদের সেখানে পড়ার ওপর তালেবানের নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

আফগানিস্তানের তালেবান কর্তৃপক্ষ কয়েক দিন আগে নারীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া নিষিদ্ধ করেছে। এর আগে মেয়েদের জন্য মাধ্যমিক স্কুলের দরজা বন্ধ করা হয়েছিল।

দেশের নারীসমাজ ছাড়াও জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক মহল এর নিন্দা করেছে।
নিরাপত্তাজনিত কারণে পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক কাবুলের ওই প্রতিবাদী তরুণী নিজের অবস্থান সম্পর্কে বলেন, ‘আমি কোনো ভয় পাই না। কারণ আমি বিশ্বাস করি, আমার চাওয়াটা ন্যায্য। ’

ইসলাম ধর্মের শিক্ষা হচ্ছে, মহানবী (সা.)-কে আল্লাহ প্রথম যে শব্দ শিখিয়েছিলেন তা হচ্ছে ‘ইকরা’। এর মাধ্যমে পাঠের প্রতি তাগিদ দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি উল্লেখ করে আদিলা ছদ্মনামের ওই তরুণী বলেন, ‘আল্লাহতায়ালা আমাদের শেখার অধিকার দিয়েছেন। আমাদের আল্লাহকে ভয় পাওয়া প্রয়োজন, তালেবানকে নয়। তারা আমাদের অধিকার হরণ করতে চায়। ’

আদিলার প্রত্যাশা, আরো অনেক আফগান নারী উচ্চশিক্ষার অধিকারের জন্য তাঁর সঙ্গে শামিল হবে। তালেবান কর্তৃপক্ষের প্রতিরোধের মুখে নিজের প্রতিবাদের সময় অবিচল থাকার কথা জানান তিনি। আদিলা বলেন, ‘প্রথমে তারা (তালেবান) আমাকে ততটা গুরুত্ব দেয়নি। কিন্তু পরে একজন অস্ত্রধারী আমাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে চলে যেতে বলে। ’ তখন ওই তালেবান সদস্যকে উদ্দেশ করে প্ল্যাকার্ডটি দেখিয়ে আদিলা বলেন, ‘আমি জানতে চাই, আপনি কি এই লেখা পড়তে পারেন না? আপনি কি আল্লাহর বাণী পড়তে পারেন না?’

আদিলা জানান, বাধার মুখে মাত্র ১৫ মিনিট অবস্থান করতে পেরেছিলেন তিনি। কারণ অস্ত্রধারী তালেবান সদস্য রেগে গিয়ে তাঁকে হুমকি দিতে থাকেন।

২০২১ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো সামরিক জোটের সেনারা আফগানিস্তান ত্যাগ করার পর দ্বিতীয়বার ক্ষমতা দখল করে তালেবান। শুরুতে তালেবান কর্তৃপক্ষ বলেছিল, তারা প্রথম আমলের মতো কড়াকড়ি আরোপ করবে না। তবে কিছুদিন ধরে একে একে নারী অধিকার সীমিত করা হচ্ছে। উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ বন্ধের পর অতি সম্প্রতি নারীদের এনজিওতে কাজ করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এতে সাহায্য সংস্থাগুলোর কার্যক্রম বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি অনেক পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থা গুরুতর হয়ে পড়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।

বর্তমানে কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি অনুষদের প্রধান নারী। তালেবানের নিষেধাজ্ঞার পর থেকে তাঁদেরও ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।

আদিলা জানান, প্রতিবাদের সময় এক যুবক তাঁকে সমর্থন দিয়ে ঘটনার ভিডিও ধারণ করছিলেন। তালেবান সদস্যরা তাঁকে মারধর করে। সূত্র : বিবিসি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

sixteen + twelve =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য