আব্বাসীয় শাসনামলে মুসলিম শিক্ষাব্যবস্থা উমাইয়া যুগের শিক্ষাব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে রচিত। আব্বাসীয় খলিফারা রাজ্যশাসন ও রাজ্যজয় অপেক্ষা জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা ও শিক্ষার উৎকর্ষ সাধনে ইতিহাসে বেশি খ্যাতি ও প্রসিদ্ধি অর্জন করেছেন। এ যুগ ইসলামের ইতিহাসের স্বর্ণযুগ হিসেবে পরিচিত। আব্বাসীয় যুগেও বিশেষ কোনো নির্দিষ্ট শিক্ষাপদ্ধতি ছিল না; যদিও সে সময় সাম্রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে অনেক বিদ্যালয় স্থাপিত হয়েছিল এবং অনেক মক্তব-মাদরাসাও গড়ে উঠেছিল। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুটি রূপ ছিল : ১. প্রাথমিক ও ২. উচ্চ পর্যায়ের।
প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো স্বাভাবিকভাবে জন্মেছিল মসজিদ ও গৃহাঙ্গনে। বিখ্যাত ঐতিহাসিক ইয়াকুতি বলেন, তিনি একজন শেখের গৃহকে বিদ্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হতে দেখেছেন। ফলে উমাইয়া যুগের মতো বেশির ভাগ শিশু ও কিশোরের শিক্ষাঙ্গন ছিল গৃহাঙ্গন ও মসজিদ। গৃহে সন্তানকে শিক্ষা দেওয়ার প্রাথমিক দায়িত্ব পালনে পিতার ভূমিকা ছিল বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। সন্তান শিক্ষার হাতেখড়ি নিত সর্বপ্রথম কালেমা তাইয়েবা পাঠ গ্রহণের মাধ্যমে।
আব্বাসীয় যুগে নারীদের শিক্ষার্জনের প্রসার ও ব্যাপকতা লক্ষ করা যায়। সাধারণ পরিবারের মেয়েদের ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি গভীর অনুরাগ দেখা যায়। অভিজাত ঘরের মেয়েরা Private tutor রেখে ধর্ম ও শালীনতামণ্ডিত সাহিত্য, ছন্দ-শাস্ত্র অধ্যয়ন করতেন। উচ্চশিক্ষার আগার ছিল বায়তুল হিকমাহ। খলিফা আল মামুন ৮৩০ খ্রিস্টাব্দে এটি প্রতিষ্ঠা করেন। এ প্রতিষ্ঠানে সৌরবিজ্ঞান, অনুবাদ, বিশেষ করে প্রাচীন গ্রিক, সিরীয় ও পারসি সাহিত্যের অনুবাদ, সাহিত্য শিক্ষাদানের মাধ্যমে ধর্ম, দর্শন ইত্যাদি শিক্ষা দেওয়া হতো।
ইসলামের ইতিহাসে প্রকৃত অর্থে প্রথম উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হচ্ছে দরসে নিজামি। সেলজুক সুলতান আলপ আরসালান ও মালিক শাহের আমলে তাদের পারসি মন্ত্রী নিজামুলমুলক এ প্রতিষ্ঠানটির স্থাপনকারী। ১০৬৫-৬৭ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠানটি নির্মাণ করা হয়। আল কোরআন, হাদিস, ফিকাহ, উসুলে শরিয়ত, প্রাচীন কবিতা ইত্যাদি বিষয় এ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা দেওয়া হতো। আবাসিক ব্যবস্থা এবং বৃত্তিসহ ছাত্রদের লেখাপড়ার সুযোগ এখানে ছিল। প্রখ্যাত ইসলামিক দার্শনিক ইমাম গাজ্জালি (রহ.) এ প্রতিষ্ঠানে (১০১১-১৫) সুদীর্ঘ চার বছর অধ্যাপনা করেছেন। নিজামিয়া মাদরাসা তৎকালীন খলিফা কর্তৃক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকরা খলিফার অনুমোদন সাপেক্ষে নিয়োজিত হতেন।
