Wednesday, June 10, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদাওয়াআওয়াজআল্লাহর দীনের হুকুমকে অমান্যকারী, অস্বীকারকারী ও বিকৃতকারীদের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট কে?

আল্লাহর দীনের হুকুমকে অমান্যকারী, অস্বীকারকারী ও বিকৃতকারীদের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট কে?

~ অমান্যকারী হোলো সেই ব্যক্তি যে দীনকে নীতিগতভাবে স্বীকার করে কিন্তু তার হুকুম অমান্য করে। ইসলামের পরিভাষায় এদেরকে ফাসিক বলা হয়।

~ অস্বীকারকারী হলো সেই ব্যক্তি যে নীতিগতভাবে দীনকে পূর্ণ, আংশিক কিংবা অকাট্যভাবে প্রমাণিত নির্দিষ্ট কোনো হুকুমকে অস্বীকার করে। ইসলামের পরিভাষায় এদেরকে বলা হয় কাফির।

~ জটিল বিষয় হলো এই তিন শ্রেণির মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট হলো যে বিকৃতকারীরা, তাদেরকে চিহ্নিত করার জন্য আলাদা কোনো নির্দিষ্ট নাম নেই। ইন্ট্রেস্টিংলি, এরা সাধারণত অস্বীকারকারী কিংবা প্রকাশ্য অমান্যকারীও হয় না; এরা বাহ্যত হয় দীন পালনকারী, বরং পালনকারীদের মধ্যকার বিদ্বান ও পণ্ডিত শ্রেণী। ইহুদীদের রাবাই, খৃস্টানদের জাজক শ্রেনী আর মুসলমানদের মধ্য থেকে হলে তারা হয় আলিম উলামা বা ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের মধ্য থেকেই।

শার’ঈ পরিভাষায় আলাদা কোনো নাম না থাকলেও কুরআনে সামগ্রিকভাবে এই দীন বিকৃতি ও জেনেবুঝে সত্য গোপন, সত্যের সাথে মিথ্যার মিশ্রণ ঘটিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার কারণে এদের বলা হয়েছে মাগদূব বা অভিশপ্ত। সূরা ফাতিহায় প্রতিদিন যে গাইরিল মাগদূব পড়েন, এই মাগদূব বা অভিশপ্তরা হলো ইহুদী জাতি।

সাধারণ মানুষ দীন থেকে বিচ্যুত হতে পারে, দীনের বিধান লংঘন করতে পারে, পাপাচার করতে পারে, কিন্তু দীনকে বিকৃত করতে পারে না। কারণ দীন বিকৃত করতে গেলে তার একটা অথরিটি লাগে, আর এটা আছে কেবল পণ্ডিতদের, নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি বা আলিম উলামাদের।

এ প্রসঙ্গে সুফিয়ান ইবনু উওয়াইনা রহিমাহুল্লাহর একটা বিখ্যাত কথা আছে। তিনি বলেন,

إذا فسد العلماء فسدوا اليهود، وإذا فسد العباد فسدوا النصارى

আলিমদের মধ্যে যদি বিকৃতি আসে তাহলে তাদের বিকৃতি হয় ইহুদিদের মতো, আর (জ্ঞানহীন) ইবাদতকারীদের মধ্যে যদি বিকৃতি আসে তাহলে তাদের বিকৃতি হয় নাসারাদের মতো।

…….

আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান অমান্য করলে আখিরাতে শাস্তি আছে, কিন্তু দীনকে বিকৃত করা, নিজেদের স্বার্থে বদলে ফেলা, জেনেশুনে সত্যকে গোপন করা, বা মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য সত্যের সাথে মিথ্যার মিশ্রণ ঘটিয়ে আল্লাহর বিধান হেরফের করা’র শাস্তি অনেক সময় দুনিয়াতেই অবতীর্ণ হয় এবং অত্যন্ত লাঞ্চনাকর অপমানজনক হয় সেই শাস্তি।

কুরআনে ইহুদীদের দীনের হুকুম বিকৃত করার ঘটনা তুলে ধরে আল্লাহ বলেন,

وَلَقَدْ عَلِمْتُمُ الَّذِينَ اعْتَدَوْا مِنْكُمْ فِي السَّبْتِ فَقُلْنَا لَهُمْ كُونُوا قِرَدَةً خَاسِئِينَ

“তোমরা নিশ্চয়ই জানো তোমাদের মধ্যে যারা শনিবারে সীমালঙ্ঘন করেছিল, তাদেরকে আমি বলেছিলাম: তোমরা হও লাঞ্ছিত বানর।”

(সূরা আল-বাকারা ২:৬৫)

আরেক আয়াতে আল্লাহ বলেন:

فَلَمَّا عَتَوْا عَنْ مَا نُهُوا عَنْهُ قُلْنَا لَهُمْ كُونُوا قِرَدَةً خَاسِئِينَ

“যখন তারা সেই বিষয় থেকে বিরত হল না, যেটা থেকে তাদের নিষেধ করা হয়েছিল, তখন আমরা বললাম: তোমরা হও লাঞ্ছিত বানর।”

(সূরা আল-আরাফ ৭:১৬৬)

ইহুদিদের আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছিলেন শনিবারে মাছ না ধরতে। তারা নিষেধাজ্ঞা ভেঙে ফাঁকি দিত গিয়ে প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর বিধানকে উপহাস করেছিল। তারা শনিবার বাঁধ দিয়ে মাছ আটকে রাখত, পরে ধরত, আর বলত আমরা তো শনিবার মাছ ধরিনি।

ফলে তারা শারীরিকভাবে বানর রূপ ধারণ করে অপমানিত হয়।

ইমাম ইবনু কাসীর (রহ.) বলেন:

“তাদের (ইহুদিদের আক্ষরিক অর্থেই) শারিরীকভাবে বানর বানানো হয়েছিল। এরপর তারা তিন দিন পর্যন্ত বেঁচেছিল, খাবার-দাবার গ্রহণ করলেও কথা বলতে পারত না। এরপর সবাই ধ্বংস হয়ে যায়। এই ঘটনা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য কঠিন সতর্কবার্তা।”

(তাফসির ইবনু কাসীর, সূরা বাকারা ২:৬৫ এর তাফসির)

আবার তাদের উপর যখন চর্বি হারাম করা হলো তখনো তারা প্রসেস করে চর্বিকে ভিন্ন ফর্মে নিয়ে খেয়ে বলত তারা তো চর্বি খাচ্ছে না। আল্লাহর বিধান বিকৃতির এই কীর্তি তুলে ধরে রাসূলুল্লাহ সা বলেন,

لعن الله اليهود حرمت عليهم الشحوم فجملوها فباعوها وأكلوا ثمنها

“আল্লাহ ইহুদিদের ওপর লানত করেছেন; তাদের জন্য চর্বি হারাম করা হয়েছিল, তারা সেটিকে গলিয়ে বিক্রি করত এবং দাম খেত।”

সাধারণভাবে এ প্রসঙ্গে হাদিসে রাসূল ﷺ বলেছেন:

إن الله لعن الذين غيروا دينهم

“নিশ্চয় আল্লাহ তাদের ওপর লানত করেছেন যারা তাদের দীনকে বিকৃত করেছে।”

….

বর্তমান সময়ে আমরা দেখতে পাচ্ছি কিছু মানুষ ইসলামের বিভিন্ন হুকুম আহকাম নিয়ে অপব্যাখ্যা করেন, জেনেশুনে সত্য গোপন করেন, ইসলামের বিভিন্ন বিধিবিধানের আবশ্যিকতা অস্বীকার করেন, কোনো কোনো বিধানের প্রতি অনাকাঙ্ক্ষিত শৈথিল্য প্রদর্শন করেন। এগুলো সবই প্রকৃত অর্থে দীনকে বিকৃতির শামিল।

আগেই যেমনটা বলেছি আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, দীনকে বিকৃতির কাজে নিয়োজিত লোকেরা তারাই যারা দীনের প্রচার ও প্রতিষ্ঠার কথা বলেন, যাদের পাণ্ডিত্য রয়েছে, নেতৃত্ব রয়েছে।

বর্তমান মুসলিম জাতির একটা বড় সংকট হলো পশ্চিমা ইসলাম। পশ্চিমাদের মন ও মর্জিমাফিক পরিবর্তন পরিবর্ধন ও পরিমার্জনার মধ্য দিয়ে তৈরি হওয়া পশ্চিমা ইসলাম বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় সংকট। আর সেই ইসলাম তৈরি হয় এই অভিশপ্ত বিকৃতকারীদের হাত ধরেই।

আল্লাহ উম্মাহকে এই আধুনিকতম ফিতনা থেকে রক্ষা করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

7 + 13 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য