কাশ্মীরের কুলগামে স্কুল শিক্ষক নিহত হওয়ার ঠিক দু’দিন পর বৃহস্পতিবার হত্যা করা হয়েছে এক ব্যাংক ম্যানেজারকে। শুধু এই দু’টি হত্যাই নয়, কিছুদিন ধরে সন্ত্রাসীরা পণ্ডিত ও অ-কাশ্মীরিদের টার্গেট করেছে।
দেশটির গণমাধ্যম জানায়, জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ১৬ জনকে হত্যা করা হয়েছে। এরপরই প্রায় চার হাজার পণ্ডিত হুমকি দিয়েছেন, সরকার যদি তাদের নিরাপত্তা না দিতে পারে, তাহলে তারা কাশ্মীর ছেড়ে চলে যাবেন।
তাদের দাবি, আপাতত তাদের নিরাপদ কোনো জায়গায় নিয়ে যাওয়া হোক। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তারা আবার কাশ্মীরে ফিরবেন। এই চার হাজার পণ্ডিতকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ প্যাকেজ অনুযায়ী চাকরি দেয়া হয়েছিল।
এদিকে কাশ্মীরি পণ্ডিতরা যে ক্যাম্পে থাকেন বুধবার সেই সব ক্যাম্পের যাওয়ার রাস্তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কাউকে সেখানে যেতে দেয়া হচ্ছে না। পণ্ডিতদেরও বেরোতে দেয়া হচ্ছে না। শ্রীনগরের পাশে ইন্দ্রনগরসহ সব ক্যাম্পের চিত্র একই।
সবচেয়ে বড় ক্যাম্পে হলো ভেসু পণ্ডিত কলোনি। সেখানে কয়েকশত পণ্ডিত বিক্ষোভ করেছেন। সেখানেও ক্যাম্পের প্রধান দরজা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এক বিক্ষোভকারী জানিয়েছেন ‘আমরা ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করব। তারমধ্যে সরকার কোনো পদক্ষেপ না নিলে আমরা সবাই আবার ফিরে যাব।’
তিনি জানিয়েছেন, তারা ইতোমধ্যে লেফটন্যান্ট গভর্নর বা এলজি মনোজ সিনহার সাথে দেখা করেছেন। সেখানে তাকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে তারা উপত্যকায় ফিরতে চান না। তাদের আপাতত অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হোক। পুলিশের আইজিও বলেছেন, কাশ্মীরকে সন্ত্রাস মুক্ত করতে একটু সময় লাগবে।
কুলগামে শিক্ষক ও ব্যাংক ম্যানেজারকে হত্যার পর পণ্ডিতরা ক্ষুব্ধ। এক বিক্ষোভকারী জানিয়েছেন, ‘এক হাজার ২৫০ জন কাশ্মীরি পরিবারসহ ক্যাম্প আছেন। বাকি চার হাজার পণ্ডিত ভাড়া বাড়িতে থাকেন। সবাইকে নিরাপত্তা দেয়া অসম্ভব ব্যাপার। তাই একমাত্র সমাধান হলো, সবাই মিলে কাশ্মীর ছেড়ে চলে যাওয়া।’ পণ্ডিতদের অভিযোগ, তারা জম্মু চলে যেতে চান। কিন্তু তাদের যেতে দেয়া হচ্ছে না।
কাশ্মীরি পণ্ডিতরাই এখন অভিযোগ করছেন, বর্তমান সরকার পণ্ডিতদের কাশ্মীর-ত্যাগের দায় নিতে চায় না। তাই তাদের যেতে দেয়া হচ্ছে না। সেজন্যই ক্যাম্পে কাশ্মীরিরা স্লোগান দিয়েছেন, ‘প্রশাসন হায় হায়’, ‘সংখ্যালঘুদের বাঁচতে দাও’, ‘আমরা ন্যায় চাই’ ইত্যাদি।
সূত্র : ডয়েচে ভেলে
