Thursday, July 9, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeনিবন্ধইখওয়ানুল মুসলিমীনের স্বরূপ

ইখওয়ানুল মুসলিমীনের স্বরূপ

২৪শে রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী / ১১ই নভেম্বর ২০২০ খৃষ্টাব্দ তারিখে সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ‘উলামা পরিষদ “মাজলিসু হাইয়াত কিবারুল ‘উলামা” থেকে ইখওয়ানুল মুসলিমীন (মুসলিম ব্রাদারহুড) সংগঠন সম্পর্কে একটি ফাতওয়া ইস্যু করা হয়।
https://www.spa(ডট)gov.sa/2155560
আমরা পাঠকদের জন্য সেই ফাতওয়ার সরল বঙ্গানুবাদ উপস্থাপন করছি:
.
“সকল প্রশংসা আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামীনের। এবং সালাত ও সালাম অবতীর্ণ হোক তাঁর বান্দা ও রাসূল, যিনি তাঁর ওহী পৌঁছে দেয়ার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত এবং সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ, আমাদের নাবী, ইমাম, ও সাইয়্যিদ মুহাম্মাদ ইবন ‘আবদুল্লাহর ওপর। এবং আল্লাহর শান্তি অবতীর্ণ হোক তাঁর পরিবার, সঙ্গীবর্গ, ও কিয়ামাত পর্যন্ত যারা তাঁর পথে চলে এবং তাঁর হিদায়াত অনুসরণ করে তাঁদের ওপর।
.
প্রারম্ভিকা:
.
নিশ্চয়ই আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা’আলা আদেশ করেছেন হাক্বের উপর ঐক্যবদ্ধ থাকতে, এবং নিষেধ করেছেন বিভক্তি ও মতানৈক্য। তিনি বলেন,
إِنَّ الَّذِينَ فَرَّقُوا دِينَهُمْ وَكَانُوا شِيَعًا لَّسْتَ مِنْهُمْ فِي شَيْءٍ ۚ إِنَّمَا أَمْرُهُمْ إِلَى اللَّـهِ ثُمَّ يُنَبِّئُهُم بِمَا كَانُوا يَفْعَلُونَ
নিশ্চয়ই যারা স্বীয় ধর্মকে খন্ড-বিখন্ড করেছে এবং অনেক দল হয়ে গেছে, তাদের সাথে আপনার কোন সম্পর্ক নেই। তাদের ব্যাপার আল্লাহ তা’আয়ালার নিকট সমর্পিত। অতঃপর তিনি বলে দেবেন যা কিছু তারা করে থাকে। (সূরাহ আল-আন’আম, আয়াত ১৫৯)
.
এছাড়াও তিনি তাঁর বান্দাদেরকে সঠিক পথ অনুসরণের আদেশ দিয়েছেন এবং হাক্ব বিচ্যুত পথ অনুসরণ করতে নিষেধ করেছেন। তিনি (সুবহানাহু ওয়া তাআ’লা) বলেন,
وَأَنَّ هَـٰذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ ۖ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَن سَبِيلِهِ ۚ ذَٰلِكُمْ وَصَّاكُم بِهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ
তোমাদেরকে এ নির্দেশ দিয়েছেন, যেন তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর। নিশ্চিত এটি আমার সরল পথ। অতএব, এ পথে চল এবং অন্যান্য পথে চলো না। তা হলে সেসব পথ তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিবে। তোমাদেরকে এ নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে তোমরা সংযত হও। (সূরাহ আল-আন’আম, আয়াত ১৫৩)
.
অতএব, হাক্ব পথের অনুসরণের একমাত্র আল্লাহর কিতাব এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সুন্নাহ অনুসরণ করেই সম্ভব। তদুপরি, সাহীহ হাদীস প্রমাণ করে যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা সেসব মানহাজ ও ফিরক্বাহর অনুসরণ করতে নিষেধ করেছে যেগুলো হাক্ব থেকে বিচ্যুত হয়েছে। ‘আব্দুল্লাহ ইবন মাস‘উদ রাদিআল্লাহু ‘আনহু হতে সাহীহ সূত্রে বর্নিত যে তিনি বলেন, “রাসূলুল্লাহ ﷺ নিজের হাত দিয়ে (মাটিতে) একটা দাগ টেনে বলেন, এটা হলো আল্লাহ্-র দেখানো সোজা পথ। এরপর তিনি এর বামে ও ডানে দুটি নতুন দাগ টেনে বলেন, এগুলো হলো ভিন্ন পথ। এবং এই পথগুলো মধ্যে কোন কল্যান নেই বরংচ এগুলো তো শাইত্বনের দেখানো রাস্তা যেদিকে সে ডাকছে। এরপর তিনি এই আয়াতটি পড়লেন,
“তোমাদেরকে এ নির্দেশ দিয়েছেন, যেন তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর। নিশ্চিত এটি আমার সরল পথ। অতএব, এ পথে চল এবং অন্যান্য পথে চলো না। তা হলে সেসব পথ তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিবে।” (সূরাহ আল-আন’আম, আয়াত ১৫৩)। হাদীসটি ইমাম আহমাদ কর্তৃক বর্ণিত হয়েছে। বিশিষ্ট সাহাবী ‘আব্দুল্লাহ ইবন ‘আব্বাস আল্লাহর কথার ব্যাখ্যায় বলেন, “সুতরাং এর অনুসরণ করো, এবং অন্য কোন পথ অনুসরণ কোরোনা, কেননা সেগুলো তোমাকে তাঁর (আল্লাহ) পথ থেকে বিচ্যুত করে দিবে।” এবং সেই আয়াতটি হলো,
أَنْ أَقِيمُوا الدِّينَ وَلَا تَتَفَرَّقُوا فِيهِ
তোমরা দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত করো এবং তাতে অনৈক্য সৃষ্টি কোরোনা। (সূরা আশ-শুরা, আয়াত ১৩)
.
কুরআনে এরকম আরও আয়াত রয়েছে। (ইবন ‘আব্বাস) বলেন, “আল্লাহ মু’মিনদের জামা’আহ-এর (হাক্বপন্থি মুসলিমদের সাথে থাকতে) ব্যাপারে আদেশ করেছেন। আর তিনি নিষেধ করেছেন মতানৈক্য করা ও বিভক্ত হওয়া থেকে, এবং তিনি তাদের (মু’মিনদের) জানিয়ে দিয়েছেন যে, যারা তাদের পূর্বে গত হয়েছে তাদেরকে তিনি ধ্বংস করেছেন শুধু দ্বীনের মধ্যে তর্কবিতর্ক ও বিরোধের কারণে।”
.
এছাড়াও আল্লাহর কিতাব ও রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সুন্নাহর অনুসরণ করা হল আমাদের ব্যাপারে আল্লাহকে খুশি করার মাধ্যম, এবং এটাই হলো সেই ভিত্তি যেটার উপর ঐক্য ও সম্প্রীতি সংগঠিত হবে। এছাড়াও, এটাই সেই পথ যা সমস্ত মন্দ ও ফিতনা থেকে সুরক্ষাকারী। আল্লাহ বলেন,
.
وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّـهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا ۚ وَاذْكُرُوا نِعْمَتَ اللَّـهِ عَلَيْكُمْ إِذْ كُنتُمْ أَعْدَاءً فَأَلَّفَ بَيْنَ قُلُوبِكُمْ فَأَصْبَحْتُم بِنِعْمَتِهِ إِخْوَانًا وَكُنتُمْ عَلَىٰ شَفَا حُفْرَةٍ مِّنَ النَّارِ فَأَنقَذَكُم مِّنْهَا ۗ كَذَٰلِكَ يُبَيِّنُ اللَّـهُ لَكُمْ آيَاتِهِ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ
.
আর তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে সুদৃঢ় হস্তে ধারণ কর; পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না। আর তোমরা সে নেয়ামতের কথা স্মরণ কর, যা আল্লাহ তোমাদিগকে দান করেছেন। তোমরা পরস্পর শত্রু ছিলে। অতঃপর আল্লাহ তোমাদের মনে সম্প্রীতি দান করেছেন। ফলে, এখন তোমরা তাঁর অনুগ্রহের কারণে পরস্পর ভাই ভাই হয়েছ। তোমরা এক অগ্নিকুন্ডের পাড়ে অবস্থান করছিলে। অতঃপর তা থেকে তিনি তোমাদেরকে মুক্তি দিয়েছেন। এভাবেই আল্লাহ নিজের নিদর্শনসমুহ প্রকাশ করেন, যাতে তোমরা হেদায়েত প্রাপ্ত হতে পার। (সূরাহ আলি ইমরন, আয়াত ১০৩)
.
সুতরাং, যা পূর্ববর্তী হল তা থেকে এটা জানা থাকা দরকার যে, যেসব বিষয় মুসলিম শাসকদের ঘিরে উম্মাহর সম্প্রীতি ও ঐক্যকে প্রভাবিত করে, যেমন সংশয় ছড়ানো এবং বিভিন্ন (ভ্রান্ত) মতবাদ ছড়ানো, অথবা এমন দল গঠন করা যেখানে বায়াত দেয় হয় এবং সাংগঠনিক কাঠামো প্রয়োগ করা হয় , এটা হারাম যা কুরআন ও সুন্নাহ থেকে প্রমাণিত।
.
আর যেসব সংগঠন থেকে আমরা সতর্ক করি সেগুলোর শীর্ষে হল “ইখওয়ানুল মুসলিমীন (মুসলিম ব্রাদারহুড)”। এটা একটা পথভ্রষ্ট দল যা মুসলিম শাসকদের ব্যাপারে ফিতনা করা ও সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার ওপর প্রতিষ্ঠিত। এছাড়া তারা বিভিন্ন রাষ্ট্রে ফিতনা উষ্কে দেয়, রাষ্ট্রের নাগরিকদের মধ্যে সহাবস্থান অস্থিতিশীল করে তোলে, এবং তারা ইসলামী রাষ্ট্রগুলোকে “জাহিলী সমাজ” বলে। এছাড়াও, এই দল প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে এদেরকে কখনো সঠিক ‘আক্বীদাহ নিয়ে চিন্তিত হতে দেখা যায়নি, কিতাব ও সুন্নাহর সাথে সম্পর্কিত অন্যান্য শাস্ত্র সম্পর্কেও চিন্তিত হতে দেখা যায়নি। তাদের একমাত্র লক্ষ্য হল ক্ষমতা ও শাসনভার পাওয়া। একারণে, এই দলের ইতিহাস বহু মন্দ বিষয় ও ফিতনা ফাসাদ দিয়ে পূর্ণ। এছাড়াও, এই দল বিভিন্ন চরমপন্থি সন্ত্রাসী সংগঠন জন্ম দিয়েছে যেগুলো মানুষজন ও রাষ্ট্রগুলোর মাঝে ভ্রষ্টাচার ছড়াচ্ছে। এগুলো হল সুবিদিত ও দৃশ্যমান বিষয়, যেমন উগ্র ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড যেগুলো দুনিয়া জুড়ে করা হচ্ছে।
.
অতএব, যা পূর্ববর্তী হল তার ভিত্তিতে এটা স্পষ্ট যে ইখওয়ানুল মুসলিমিন (মুসলিম ব্রাদারহুড) একটি সন্ত্রাসী সংগঠন যেটা ইসলামের প্রতিনিধিত্ব করে না। বরং এটি তাদের নিজস্ব দলীয়-রাজনৈতিক এজেন্ডার অনুসরণ করে যা আমাদের মহান দ্বীনের দেখানো পথের সাথে সাংঘর্ষিক। তারা নিজেদেরকে দ্বীনের পেছনে আড়াল করে, একই সময়ে স্পষ্টভাবে দ্বীন বিরোধী কাজকর্ম করে যেগুলোর অন্তর্ভুক্ত হল বিভক্তি সৃষ্টি করা, ফিতনা, উগ্রতা ও সন্ত্রাসবাদ উস্কে দেয়া।
.
পরিশেষে, সবার উপর জরুরি হল এই সংগঠন থেকে সতর্ক থাকা, এর সাথে সম্পৃক্ত না হওয়া, এর প্রতি সহানুভূতি না দেখানো।
.
আমরা আল্লাহর কাছে সব মন্দ বিষয় ও ফিতনা ফাসাদ থেকে সুরক্ষা চাই। সালাত ও সালাম অবতীর্ণ হোক আমাদের নাবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার ও সকল অনুসারীদের ওপর।”
.
“মাজলিসু হাইয়াত কিবারুল ‘উলামা”-এর সদস্যবৃন্দ:
.
◘ ‘আব্দুল ‘আযীয বিন মুহাম্মাদ আল আশ-শায়খ
◘ ড. ‘আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আল আশ-শায়খ
◘ ড. সালিহ বিন ফাওযান আল-ফাওযান
◘ সালিহ বিন মুহাম্মাদ আল-লুহাইদান
◘ ড. সালিহ বিন ‘আবদুল্লাহ আল-হুমাইদ
◘ ‘আবদুল্লাহ বিন সুলাইমান আল-মানী’
◘ ড. ‘আবদুল্লাহ বিন ‘আব্দুল মুহসিন আল-তুর্কী
◘ ড. সা’আদ বিন নাসির আশ-শিসরী
◘ ড. ‘আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আল-মুতলাক্ব
◘ ড. মুহাম্মাদ বিন ‘আব্দুল কারীম আল-ঈসা
◘ মুহাম্মাদ বিন হাসান আল আশ-শায়খ
◘ সা’উদ বিন ‘আবদুল্লাহ আল-মা’জিব
◘ ‘আব্দুর রাহমান বিন ‘আব্দুল-’আযীয
◘ ড. মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ আল-মুখতার
◘ ড. ইয়া’কুব বিন আব্দুল ওয়াহহাব আল-বাহাসীন
◘ ড. ইউসুফ বিন মুহাম্মাদ বিন সাঈদ
◘ ড.গালিব বিন মুহাম্মাদ হামদ্বী
◘ ড. ‘আব্দুস সালাম বিন ‘আবদুল্লাহ আল-সুলাইমান
◘ ড. জিবরীল বিন মুহাম্মাদ আল-বুসাইলী
◘ ড. বানদার বিন ‘আব্দুল ‘আযীয বালিলাহ
◘ ড. সামী’ আস-সুক্বাইর
.
• https://twitter(ডট)com/GtownMasjid/status/1326486672712884225
.
অনুবাদক: মুহাইমিনুর রহমান স্নিগ্ধ
fb.com/SunniSalafiAthari

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

eleven + 10 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য