Saturday, April 25, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরইবরাহিম (আ.)-এর বুদ্ধিদীপ্ত যুক্তি

ইবরাহিম (আ.)-এর বুদ্ধিদীপ্ত যুক্তি

মহান আল্লাহ বলেন, ‘অতঃপর তিনি (ইবরাহিম) প্রধান মূর্তি ছাড়া সব চূর্ণ-বিচূর্ণ করেন, যেন তারা (পূজকরা) তার (প্রধান মূর্তি) কাছে ফিরে আসে। তারা বলল, আমাদের উপাস্যদের সঙ্গে এমন আচরণ কে করেছে? কেউ বলল, আমরা এক তরুণকে এসবের সমালোচনা করতে শুনেছি, তাকে ইবরাহিম বলা হয়। তারা বলল, তাকে সবার সামনে উপস্থিত করো, যেন সবাই প্রত্যক্ষ করে। সবাই তাকে বলল, হে ইবরাহিম, তুমিই কি আমাদের উপাস্যদের সঙ্গে এমন কাজ করেছ? তিনি বলেন; বরং তাদের প্রধান এই কাজ করেছে! তাদেরই জিজ্ঞাসা করুন যদি তারা কথা বলতে পারে। ’ (সুরা আম্বিয়া, আয়াত : ৫৮-৬৩)


তাফসির : আগের আয়াতে ইবরাহিম (আ.)-এর কৌশলগত কারণে মূর্তি ভাঙার পরিকল্পনার কথা বলা হয়। আলোচ্য আয়াতে প্রধান মূর্তি অক্ষত রেখে অন্যান্য মূর্তি ভাঙার পেছনের রহস্য তুলে ধরা হয়। মূলত ইবরাহিম (আ.) মহান স্রষ্টার পরিচয় জনসম্মুখে তুলে ধরতে চেয়েছেন। সবার সামনে এই সত্যকে স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছেন যে এসব জড়পদার্থ উপাস্য হওয়ার উপযুক্ত নয়, যাদের কারো উপকার-অপকার করার সামর্থ্য নেই এবং যারা নিজেরাও কোনো কিছু দেখতে ও শুনতে পারে না। ইরশাদ হয়েছে, ‘অতঃপর তারা (ইবরাহিমের সমপ্রদায়) তাঁকে পেছনে রেখে চলে যায়। এরপর তিনি গোপনে তাদের মূর্তিগুলোর কাছে গিয়ে বলল, তোমরা খাবার গ্রহণ করছ না কেন? তোমাদের কী হয়েছে যে তোমরা কথা বল না? অতঃপর তিনি তাদের ওপর সবলে আঘাত করেন। ’ (সুরা সাফফাত, আয়াত : ৮৯-৯৩)

তাফসিরে তাবারি গ্রন্থে বলা হয়েছে, একদিন ইবরাহিম (আ.)-এর পিতা তাকে বলল, আমরা একটি উৎসব পালন করি। সেখানে গেলে তুমিও আনন্দ করতে পারবে। উৎসবের দিন ইবরাহিম (আ.)-ও অন্যদের সঙ্গে বের হন। কিন্তু কিছু দূর যাওয়ার পর তিনি পায়ের ব্যথার কথা বলে ফিরে আসেন। এরপর তিনি মূর্তিগুলোর ঘরে এসে সব ভেঙে ফেলেন। তবে বড় মূর্তিকে অক্ষত রেখে তাঁর কাঁধে কুড়াল ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। যেন ঘটনার বাহ্যিক রূপ থেকে মনে হয় যে এই মূর্তিই এসব ঘটিয়েছে এবং সবাই ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার কাছেই ফিরে আসে। সবার মধ্যে এই উপলব্ধি তৈরি হওয়া জরুরি, যে বস্তু নিজের ও অন্যের সুরক্ষা করতে পারে না এবং কোনো কিছুর বিবরণ দিতে সামর্থ্য নয়, সে কিভাবে সবার উপাস্য হতে পারে। কিন্তু মূর্তিপূজারীদের মধ্যে এ ধরনের উপলব্ধি থাকলেও তারা কেবল পূর্বসূরিদের অনুকরণ করতেই এসবের উপাসনা করে থাকে। তাদের বিবেককে জাগ্রত করতে ইবরাহিম (আ.) তাদের ওই প্রধান মূর্তি কথা বলতে পারলে তাকেই জিজ্ঞাসা করতে বলেন।

জাহেলি যুগেও মূর্তি পূজাকে অনেকে অপছন্দ করতেন। তাদের একজন ছিলেন আমর বিন আবাসা আস-সুলামি (রা.)। একটি দীর্ঘ হাদিসে তিনি বর্ণনা করেছেন, জাহেলি যুগে আমার মনে হতো সব মানুষ পথভ্রষ্ট হয়ে গেছে। তাদের কোনো ধর্ম নেই। কারণ তারা মূর্তি ও ভাস্কর্যের উপাসনা করে। একদিন আমি মক্কার এক ব্যক্তি বিভিন্ন কথা বলতে শুনি। আমি বাহন নিয়ে তার কাছে যাই। নিজ সমপ্রদায় থেকে আড়ালে থাকতেন তিনি। তখন আমি জিজ্ঞাসা করি, আপনি কে? তিনি বললেন, আমি নবী। আমি বললাম, নবী কী? তিনি বললেন, আল্লাহ আমাকে পাঠিয়েছেন। আমি বললাম, কী দিয়ে পাঠিয়েছেন? তিনি বলেন, আমাকে পাঠিয়েছেন আত্মীয় সম্পর্ক স্থাপন, মূর্তি ভাঙা এবং আল্লাহ এক সাব্যস্ত করা ও তাঁর সঙ্গে কোনো শিরক না করার নির্দেশ দিয়ে পাঠানো হয়েছে। …’ (মুসলিম, হাদিস : ৮৩২)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

nine + 17 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য