মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার ট্রুথ সোশ্যালের একটি পোস্টে বলেছেন যে তিনি ইরানের সাথে ব্যবসায় জড়িত যেকোনো দেশের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করছেন। মূলত এর কারণ হিসেবে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সহিংসতাকে দেখা হচ্ছে।
একজন ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন যে বিক্ষোভে বেসামরিক নাগরিক এবং নিরাপত্তা কর্মীসহ প্রায় ২,০০০ মানুষ নিহত হয়েছে। প্রচলিত মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানগুলো এর আগে প্রায় ৬৪০ জন নিহতের সংখ্যা গণনা করেছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক মানবাধিকার কর্মী সংবাদ সংস্থা অনুসারে, ১০,৭০০ জনেরও বেশি লোককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ইরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি কোনো কূটনৈতিক উপস্থিতি নেই। তাই ভার্চুয়াল মার্কিন দূতাবাস আমেরিকান নাগরিকদের সতর্ক করে বলেছে যে তারা যেন মার্কিন সরকারের সহায়তা ছাড়াই অবিলম্বে দেশ ত্যাগ করে। দূতাবাসটি নির্দেশ দিয়েছে, “এখনই ইরান ত্যাগ করুন। যদি আপনি তা করতে না পারেন, তাহলে আপনার বাসভবন বা অন্য কোনো নিরাপদ ভবনের মধ্যে একটি নিরাপদ স্থান খুঁজে নিন।”
এসকল কারণেই মূলত মার্কিন প্রশাসনের এই আধিপত্যবাদী সিদ্ধান্ত এসেছে বলে মনে করছেন অনেকেই। তবে পাল্টা জবাব দিয়েছে চীন। সামগ্রিক পরিস্থিতির উপর প্রতিক্রিয়াও জানিয়েছে ইরান।
চীন ইরানের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার এবং ইরানের মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রায় ৩০ শতাংশের সাথে সম্পৃক্ত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ পেংইউ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, “শুল্ক যুদ্ধ এবং বাণিজ্য যুদ্ধের কোনও বিজয়ী নেই। আর জবরদস্তি এবং চাপ কোনো সমস্যার সমাধান করতে পারে না।” তিনি আরও বলেন, “চীন যেকোনো অবৈধ একতরফা ‘নিষেধাজ্ঞা’ ও ‘দীর্ঘমেয়াদী এখতিয়ারের’ দৃঢ় বিরোধিতা করে। আর এটি (চীন) তার বৈধ অধিকার ও স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”
অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন যে তেহরান ‘যুদ্ধ’ অথবা সংলাপের জন্য প্রস্তুত এবং আমেরিকার সাথে আলাপচারিতার পথও উন্মুক্ত রেখেছে। ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘সশস্ত্র দাঙ্গাবাজদের’ মদদ দেওয়ার অভিযোগ তোলা, যারা শিয়া উপাসনালয়সহ জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত স্থানে বেশ কয়েকটি হামলা চালিয়েছে।
তবে ট্যারিফের পাশাপাশি সামরিক আক্রমণেরও সম্ভাবনা আছে বলে ইরান মনে করছে। রবিবার ট্রাম্প বলেছেন যে তার প্রশাসন ইরানের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “সামরিক বাহিনী বিষয়টি দেখছে এবং আমরা কিছু শক্তিশালী বিকল্পের দিকে নজর রাখছি।”
একারণে ইরান সতর্ক করে দিয়েছে যে তাদের ভূখণ্ডে কোনো হামলা চালানো হলে তারা ইসরায়েল এবং মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালাবে। অন্যদিকে ইরানের প্রতিশোধের হুমকি সম্পর্কে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “যদি তারা তা করে, তাহলে আমরা তাদের এমন পর্যায়ে আঘাত করব যা আগে কখনও আঘাত করা হয়নি।”
তথ্যসূত্রঃ মিডল ইস্ট আই
