ঈমান ও ইসলামের কিছু বিষয় এমন, যাতে ব্যাখ্যার অবকাশ আছে এবং কিছু বিষয় এমন, যা ব্যাখ্যা ছাড়া সাধারণ মানুষের বোধগম্য নয়। ইসলাম এসব বিষয়ের ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে কিছু শর্তারোপ করেছে। তা হলো ব্যাখ্যাকারী জ্ঞানগত দিক থেকে যোগ্য হবেন, তিনি তাকওয়া ও খোদাভীতির অধিকারী হবেন এবং তা ব্যাখ্যা করবেন কোরআন, সুন্নাহ ও ইসলামী শরিয়তের মূলনীতির আলোকে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনরা! যদি তোমরা আল্লাহ ও আখেরাতে বিশ্বাস করো, তবে তোমরা আনুগত্য কোরো আল্লাহর, আনুগত্য কোরো রাসুলের এবং তাঁদের—যাঁরা তোমাদের মধ্যে ক্ষমতার অধিকারী; কোনো বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতভেদ হলে তা উপস্থাপিত কোরো আল্লাহ ও রাসুলের কাছে।এটাই উত্তম এবং পরিণামে প্রকৃষ্টতর। ’ (সুরা নিসা, আয়াত : ৫৯)
উল্লিখিত নীতিমালার যথাযথ অনুসরণ করে যে ব্যাখ্যা প্রদান করা হয় সেটাই সঠিক ব্যাখ্যা ও গ্রহণযোগ্য, যাতে তা অনুসরণ করা হয় না তা ভুল ব্যাখ্যা এবং তা অগ্রহণযোগ্য। এসব ব্যাখ্যায় মুসলিমসমাজে বিবাদ-বিভক্তি সৃষ্টির কারণ হয়ে থাকে। আল্লামা ইবনু আবিল ইজ্জ হানাফি (রহ.) বলেন, ‘শরিয়তের যেসব মৌলিক ও শাখাগত বিষয়ে উম্মতের ভেতর বিরোধ হয়েছে তার কারণ হলো আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের দিকে না ফেরার কারণে সেখানে সত্য প্রকাশিত না হওয়া; বরং বিতর্কে লিপ্ত হওয়া ব্যক্তিরা এমন কিছুর ওপর নির্ভর করেছে, যা প্রমাণিত নয়। এখন আল্লাহ যদি তাদের প্রতি অনুগ্রহ করেন, তবে তারা পরস্পরের মতকে স্বীকার করে নেয় এবং বাড়াবাড়ি করে না; আর আল্লাহ যদি অনুগ্রহ না করেন, তবে তারা ঝগড়া, বিবাদ—এমনকি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। ’ (শরহুত ত্বহাবিয়্যাহ : ২/৭৭৭)
ঈমানের ব্যাপারে ভুল ব্যাখ্যার একটি উদাহরণ হলো, কেউ যদি আল্লাহর বাণী—‘দয়াময় আল্লাহ আরশে সমাসীন’ (সুরা ত্বহা, আয়াত : ৫)-এর ব্যাখ্যায় বলে আল্লাহ আরশের ওপর আরোহণ করেছেন যেভাবে মানুষ করে থাকে; তবে তা ভুল হবে। কেননা তাতে আল্লাহর জন্য দেহাবয়ব নির্ধারণ করা আবশ্যক হবে, যা কোরআন, সুন্নাহ ও ইসলামী শরিয়তের মূলনীতি সুস্পষ্ট পরিপন্থী। অথচ আয়াতের শাব্দিক অর্থ দ্বারা ব্যক্তি তার দাবি প্রমাণ করা সম্ভব। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে উম্মতের সম্মিলিত মত হলো, বাহ্যিক অর্থ পরিহার করতে হবে এবং শরিয়তের মূলনীতির আলোকে অর্থ করতে হবে।
