Thursday, June 4, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরইসলামে শিল্পায়নের অনুপ্রেরণা

ইসলামে শিল্পায়নের অনুপ্রেরণা

শিল্প অর্থনীতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। এর ইংরেজি প্রতিশব্দ Industry। শব্দটির আভিধানিক অর্থ— শিল্প, শ্রমশিল্প, শ্রমশীলতা, অধ্যবসায় ইত্যাদি। আরবি প্রতিশব্দ ‘সানাআতুন’। পারিভাষিক অর্থে শিল্প এক ধরনের কর্মপ্রচেষ্টা, যা প্রকৃতি থেকে সম্পদ আহরণ করে তার উন্নত রূপান্তর ঘটিয়ে মানুষের ব্যবহার উপযোগী করা। অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন শিল্পোন্নয়ন। বিশ্বের প্রতিটি রাষ্ট্রই এর উন্নয়নে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত রয়েছে। ইসলামে শিল্পায়নের যথেষ্ট ধারণা ও অনুপ্রেরণা আছে।

কোরআনে শিল্পায়নের ধারণা ও অনুপ্রেরণা : পবিত্র কোরআনের একটি সুরার নাম হাদিদ। যার অর্থ লোহা, যা শিল্পায়নের অন্যতম অনুষঙ্গ। এই সুরায় মহান আল্লাহ লোহা সম্পর্কে বলেছেন, ‘আমি লোহা বর্ষণ করেছি, যাতে আছে প্রচণ্ড শক্তি এবং আছে মানুষের জন্য বহুবিধ কল্যাণ।’ (সুরা : হাদিদ, আয়াত : ২৫)

কোরআনে আল্লাহ লোহাকে বহুবিধ কল্যাণের ধারক বলেছেন। যখন থেকে মানুষ লোহার ব্যবহার শিখেছে, তখন থেকেই তাদের জীবনে আমূল পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। বলা হয়, লৌহ যুগই আধুনিক যুগের সূতিকাগার। আধুনিক যুগেও লোহার বহুমুখী ব্যবহার কোরআনের এই বাক্যের সত্যতার সাক্ষ্য দেয়।

জাকারিয়া (আ.)-এর কাঠশিল্প : জাকারিয়া (আ.) আল্লাহর নবী এবং মারিয়াম (আ.)-এর লালন-পালনকারী ছিলেন। তাঁর একমাত্র ছেলে ইয়াহইয়া (আ.)ও নবী ছিলেন। জাকারিয়া (আ.) কাঠ দিয়ে নানা ধরনের আসবাবপত্র তৈরি করতেন। তাঁর এই শিল্পকর্মকে তাঁর মর্যাদা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মুসলিম শরিফে জাকারিয়া (আ.)-এর মর্যাদার অধ্যায়ে উল্লেখ করা হয়েছে—আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, জাকারিয়া (আ.) কাঠমিস্ত্রি ছিলেন। (মুসলিম, হাদিস : ৫৯৪৭)

নুহ (আ.)-এর শিল্পকর্ম : আল্লাহ তাআলা নুহ (আ.)-কে সাড়ে ৯ শ বছরের সুদীর্ঘ জীবন দান করেছিলেন। তিনি এক পুরুষের পর দ্বিতীয় পুরুষকে অতঃপর তৃতীয় পুরুষকে ঈমান আনার আশায় দাওয়াত দিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু শতাব্দীর পর শতাব্দী অক্লান্তভাবে দাওয়াত দেওয়া সত্ত্বেও তারা ঈমান আনেনি। নুহ (আ.) তাদের দিনে-রাতে, গোপনে-প্রকাশ্যে অর্থাৎ সব পন্থা অবলম্বন করে দ্বিনের পথে ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে নুহ (আ.)-কে নৌকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়। আল্লাহ বলেন, ‘তুমি আমার তত্ত্বাবধানে ও আমার প্রত্যাদেশ অনুযায়ী নৌকা নির্মাণ করো।’ (সুরা : হুদ, আয়াত : ৩৭; সুরা : মুমিনুন, আয়াত : ২৭)

নৌকা তৈরির প্রয়োজনীয় উপকরণ ও নির্মাণকৌশল জিবরাঈল (আ.) নুহ (আ.)-কে শিক্ষা দিয়েছিলেন। এভাবে ওহির মাধ্যমে নুহ (আ.)-এর হাতে নৌকা ও জাহাজ নির্মাণ শিল্পের গোড়াপত্তন হয়। অতঃপর যুগে যুগে তার উন্নতি সাধিত হয়েছে এবং মানুষ ব্যবসা-বাণিজ্যের মালামাল ও যাত্রী পরিবহনে নতুন যুগে প্রবেশ করেছে।

দাউদ (আ.)-এর লৌহসামগ্রী নির্মাণের কলাকৌশল : আল্লাহ তাআলা দাউদ (আ.)-কে বিভিন্ন লৌহসামগ্রী নির্মাণের কলাকৌশল শিক্ষা দিয়েছিলেন। তিনিই প্রথম লোহার নানামুখী ব্যবহার করেছিলেন। আল্লাহ বলেন, ‘আর আমি তাকে তোমাদের জন্য বর্ম নির্মাণ শিক্ষা দিয়েছিলাম, যেন তা যুদ্ধে তোমাদের রক্ষা করে।’ (সুরা : আম্বিয়া, আয়াত : ৮০)

লোহা দাউদ (আ.)-এর হাতে মোমের মতো নরম হয়ে যেত। আল্লাহ বলেন, ‘তার জন্য নমনীয় করেছিলাম লোহা, যাতে তুমি পূর্ণ মাপের বর্ম তৈরি করতে এবং বুননে পরিমাণ রক্ষা করতে পারো।’ (সুরা : সাবা, আয়াত : ১০-১১)

অর্থাৎ লোহা দাউদ (আ.)-এর হাতে এলে এমনিতেই মোমের মতো নরম হয়ে যেত এবং তিনি যেভাবে ইচ্ছা এর দ্বারা বিভিন্ন লৌহসামগ্রী নির্মাণ করতেন। আরেকটি ব্যাখ্যা হলো, আগুনের মাধ্যমে লোহাকে নরম বানোনোর প্রকৌশল সর্বপ্রথম তিনি আয়ত্ত করেন।

পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহর বর্ণনা এবং পূর্ববর্তী নবী-রাসুলদের কর্মকাণ্ডে শিল্পোন্নয়নের নানাবিধ অনুপ্রেরণা ইসলামী শিল্প উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে। আব্বাসীয় যুগের শাসকরা শিল্প ও কারিগরি বিদ্যায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় এবং প্রশংসনীয় পৃষ্ঠপোষকতার কারণে মুসলিম বিশ্ব জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিক্ষা-সংস্কৃতি ও শিল্প-প্রকৌশল বিদ্যায় পৃথিবীতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

3 × two =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য