ভারতে মধ্যপ্রদেশ এলাকায় অবস্থানরত স্থল নিম্নচাপটি আরো পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়েছে। নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের উপকূলীয় এলাকার নদ-নদীসহ বঙ্গোপসাগর বেশ উত্তাল রয়েছে। উপকূলীয় এলাকায় টানা মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। দু’দফা জোয়ারের উঁচু পানিতে প্লাবিত হচ্ছে উপকূলীয় গ্রামগুলো। উপকূলীয় এলাকা দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে আবহাওয়া অফিস। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে এসব জেলার সব শ্রেণীর লোকজন।
নোয়াখালীতে টানা বর্ষণে জীবনযাত্রা ব্যাহত
নোয়াখালী অফিস জানায়, সাগরে নিম্নচাপের প্রভাবে টানা বর্ষণে নোয়াখালী জেলার নয়টি উপজেলার মানুষের স্বাভাবিক জীবন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। গত সোমবার রাত থেকে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধা সাড়ে ৬টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত টানা কখনো ভারী, মাঝারি আবার কখনো গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিপাত হয়।
জেলা সদর, বেগমগঞ্জ, সোনাইমুড়ী, চাটখিল, সেনবাগ, কোম্পানীগঞ্জ, কবিরহাট, সুবর্ণচর ও হাতিয়া উপজেলায় বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে টানা বর্ষণে মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছে না। বিশেষ করে দিনমজুর খেটে খাওয়া মানুষ কাজ বন্ধ থাকায় দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে।
বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাগর উত্তাল
কুয়াকাটা ও দশমিনা (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা জানান, বৈরী আবহাওয়া ও নিম্নচাপের প্রভাবে বঙ্গোপসাগর উত্তাল রয়েছে। স্বাভাবিক জোয়ারের পানির চেয়ে তিন থেকে চার ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে সমুদ্র ও উপককূলীয় এলাকার নদ-নদীতে। বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছধরার ট্রলার বৈরী আবহাওয়ার পূর্বাভাস পেয়ে আলীপুর-মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। কুয়াকাটাসহ উপকূলীয় এলাকায় একটানা চার দিন মুষলধারে বৃষ্টি চলছে। দিনভর বৃষ্টি ও থেমে থেমে ঝড়ো হাওয়ার কারণে স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাবহত হয়েছে। উপকূলীয় এলাকার খাল-বিল বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে ডুবে গেছে। বহাল রয়েছে পায়রা বন্দরে তিন নম্বর সতর্ক সঙ্কেত।
গত দুই তিন দিন ধরে বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবে আগত পর্যটকদের বেশির ভাগই কুয়াকাটা ত্যাগ করে নিজ নিজ গন্তব্যে চলে গেছে। আবাসিক ও খাবার হোটেলগুলোতেও পর্যটকদের তেমন একটা ভিড় দেখা যায়নি।
এ দিকে অব্যাহত বৃষ্টি আর উচ্চ জোয়ারে তেঁতুলিয়া-বুড়াগৌরাঙ্গ নদীর রক্ষাবাঁধ দিয়ে পানি ঢুকে তলিয়ে গেছে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বাঁশবাড়িয়া, দশমিনা, রনগোপালদী, আলীপুরা ইউনিয়নের একাধিক গ্রামসহ চরবোরহান ইউনিয়ান তলিয়ে গেছে আমনের ক্ষেতসহ বহু রাস্তাঘাট-ঘরবাড়ি, পুকুর ও মাছের ঘের। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষ।
জোয়ারের পানি বাড়ায় রাজাপুরে দুর্ভোগ
রাজাপুর (ঝালকাঠি) সংবাদদাতা জানান, ঝালকাঠির রাজাপুরের বিষখালী, ধানসিঁড়ি জাঙ্গালিয়া ও পোনা নদীর জোয়ারের পানি তিন-চার ফুট বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার অর্ধশত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ১৫-২০টি গ্রাম ও অনেকগুলো আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর প্লাবিত হয়েছে। ভেঙে গেছে বাদুরতলা, পুখরিজানা ও মানকী গ্রামের বিষখালী নদীর তীরবর্তী রাস্তা ও বিভিন্ন খালের বাঁধ। এ দিকে উপজেলার রাজাপুরের বিষখালী নদীতে হঠাৎ ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। ঘটনার পর বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহান খান বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। গ্রামীণ কাঁচাপাকা কয়েকটি রাস্তায় গর্ত হয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে বিভিন্ন গ্রামের। ফলে হাজার হাজার মানুষের চরম দুর্ভোগ ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটছে। রোববার থেকে মুষলধারে বৃষ্টি, বৈরী আবহাওয়ায় বিষখালী ও ধানসিঁড়ি নদীতে অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদরাসাসহ অর্ধশত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে পড়েছে। ফলে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। জোয়ারের পানিতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ২০টি গ্রামের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান দুই-তিন ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: রিয়াজুল্লাহ বাহাদুর জানান, দুই-এক দিনের ভেতর পানি না কমলে রোপা আমন ধান পচে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
