চলতি শিক্ষাবর্ষের নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি’ বইয়ে ‘আদিবাসী’ শব্দ ব্যবহার করায় জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছে ‘স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টি’ নামে একটি সংগঠন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক শিক্ষার্থী এর নেতৃত্বে রয়েছেন। পরে এনসিটিবির এক সদস্যের সঙ্গে বৈঠক করে পাঁচ দফা দাবি জানিয়ে কর্মসূচি শেষ করেন আন্দোলনকারীরা। গতকাল বেলা ১১টায় আন্দোলনকারীরা এনসিটিবির সামনে বিক্ষোভ করতে থাকেন। পরে এনসিটিবির ভিতরে ঢুকে স্লোগান দেন। এ সময় আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধি দলকে নিয়ে এনসিটিবির চেয়ারম্যানের রুমে বৈঠকে বসেন সদস্য (শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক রবিউল কবীর চৌধুরী। আন্দোলনকারীদের দাবির মধ্যে রয়েছে- পাঠ্যপুস্তক থেকে রাষ্ট্রদ্রোহী ‘আদিবাসী’ শব্দ প্রত্যাহার, পরিমার্জন কমিটিতে থাকা রাখাল রাহা ওরফে সাজ্জাদকে অপসারণ, ‘আদিবাসী’ শব্দ অন্তর্ভুক্তির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে তাদের অপসারণ ও শাস্তির আওতায় আনা; শিক্ষার কথিত মানোন্নয়নের নামে দেশের শিক্ষা খাতে আন্তর্জাতিক সংস্থা বা এনজিও থেকে তহবিল নেওয়া বন্ধ করা; দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার্থে ‘শিক্ষানীতি, শিক্ষাক্রম, পাঠ্যক্রম এবং পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন ও পরিমার্জনে বিদেশি সংস্থা বা তাদের দ্বারা প্রভাবিত ব্যক্তিদের থেকে শতভাগ প্রভাবমুক্ত করা। বৈঠকে এনসিটিবি সদস্য রবিউল কবীর চৌধুরী জানান, পাঠ্যবইয়ে আদিবাসী শব্দটি থাকা দুঃখজনক। তবে বিষয়টি অবগত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাঠ্যবই সংশোধন করা হয়েছে। স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মুহম্মদ জিয়াউল হক জিয়া বলেন, বিচ্ছিন্নতাবাদী এবং তাদের দেশি-বিদেশি পৃষ্ঠপোষক ও দোসররাই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের ‘আদিবাসী’ বলে প্রচারণা চালায় ও স্বীকৃতি চায়। তাদের এই প্রচারণা ও স্বীকৃতি চাওয়ার পেছনে আলাদা রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। ছলেবলে কৌশলে তাই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের দেশে ‘আদিবাসী’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় তারা। আর এনসিটিবি ‘আদিবাসী’ শব্দটি বইয়ে অন্তর্ভুক্ত করেছে। সরকারকে একটি তদন্ত কমিটি করে অতিদ্রুত এদের চিহ্নিত করে অপসারণ করতে হবে এবং শাস্তির আওতায় আনতে হবে। স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টি যুগ্ম আহ্বায়ক মুহিউদ্দীন রাহাতসহ অন্যরা এনসিটিবি ঘেরাও কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন।
