পটুয়াখালীর বাউফল থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান দ্রুত বিচার আইনসহ একাধিক মামলার আসামিদের সঙ্গে সেলফি ও ছবি তোলার ঘটনায় এক সদস্যের একটি বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ মার্চ) পটুয়াখালীর পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ শহীদুল্লাহের নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুকিত হাসান খানকে প্রধান করে এক সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এছাড়া এই কমিটিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি জানান, ওসির ওই ঘটনায় বিভিন্ন মিডিয়ায় চিত্রসহ সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার প্রেক্ষিতে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন তদন্ত প্রতিবেদন প্রাপ্তি সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে তদন্তকারী কর্মকর্তা পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল মুকিত হাসান খান জানান, তিনি ইতোমধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার চেষ্টা করছেন।
উল্লেখ্য, দ্রুত বিচার আইনে দায়ের হওয়া একটি মামলা কয়েকজন আসামি রবিবার রাতে বাউফল থানা চত্বরে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ওসির সাথে সেলফি ও ছবি তোলেন এবং তারা নিজেদের ফেসবুক আইডি থেকেই সেসব সেলফি ও ছবি পোস্ট করেছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ওসির সঙ্গে সেলফি ও ফটোসেশন করা ওইসব আসামিসহ ১৮-২০ লোক গত ১৩ ফেব্রুয়ারি রাতে নওমালা ইউনিয়নের বটকাজল গ্রামে স্থানীয় ব্যবসায়ী মিজান মৃধার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এ ঘটনায় মিজান মৃধা বাদি হয়ে ১৮ ফেব্রুয়ারি পটুয়াখালী আদালতে দ্রুত বিচার আইনে একটি অভিযোগ দায়ের করলে আদালত অভিযোগটিকে মামলা হিসেবে নেয়ার জন্য বাউফল থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ২৫ ফেব্রুয়ারি থানায় ওই মামলাটি রেকর্ড করা হয়।
বাদি মিজানুর রহমান অভিযোগ করেন, দ্রুত বিচার আইনে দায়েরকৃত মামলার কোনো আসামি আদালতে হাজির হয়ে জামিন নেননি বা পুলিশের কাছেও আত্মসমর্পণ করেননি। বরং আসামিরা এলাকায় বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছে। সেই আসামিদের সাথে থানার ওসির সেলফি ও ফটো সেশন করায় তিনি ভীত, শঙ্কিত হয়ে পরেছেন। তিনি ওই মামলা সুষ্ঠ তদন্ত নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
এ ব্যাপারে বাউফল থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আনন্দ উৎসব অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ উপস্থিত হয়েছেন। অনেকেই তার সাথে ছবি ও সেলফি তুলেছেন। তাদের মধ্যে কে আসামি, আর কে আসামি না তা আমি চিনতে পারিনি।’
ইত্তেফাক/এমএএম
