Thursday, June 4, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরকাবুলে ড্রোন হামলা চালানোর জন্য মার্কিন সেনাদের সাজা দিবে না যুক্তরাষ্ট্র

কাবুলে ড্রোন হামলা চালানোর জন্য মার্কিন সেনাদের সাজা দিবে না যুক্তরাষ্ট্র

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে ড্রোন হামলা চালানোর জন্য মার্কিন সেনাদের কোনো সাজা দিবে না যুক্তরাষ্ট্র। এ বিষয়ে মার্কিন কর্তৃপক্ষ বলেছে, অগাস্ট মাসে তাদের চালানো যে ড্রোন হামলায় দশ বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়েছিল, তার জন্য কোনো মার্কিন সৈন্যকে দায়ী করা হবে না।

এ হামলার ঘটনা ঘটে তালেবান কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে কাবুল থেকে পশ্চিমা সমর্থক ব্যক্তিদের সরিয়ে নেয়ার কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে।

এ হামলায় প্রাণ হারায় সহায়তা কর্মী আহমাদি ও তার পরিবারের নয়জন সদস্য, যাদের মধ্যে সাতজনই শিশু।

মার্কিন গোয়েন্দারা ধারণা করছিলেন ওই সহায়তা কর্মীর গাড়ি ইসলামিক স্টেটের স্থানীয় শাখা আইএস-কে-র কার্যকলাপের সাথে জড়িত।

কিন্তু ঘটনার পর, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ডের জেনারেল কেনেথ ম্যাকেঞ্জি ২৯ অগাস্টের ওই ড্রোন হামলাকে ‘মর্মান্তিক ভুল’ বলে বর্ণনা করেন।


কাবুলে ড্রোন হামলার বিষয়ে মার্কিন রিপোর্ট

মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন তাদের চালানো একটি উচ্চ পর্যায়ের অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনার যে রিপোর্ট গত মাসে প্রকাশ করেছে, তার উপসংহারে বলা হয়েছে ওই হামলায় যেহেতু কোনো আইন ভঙ্গ করা হয়নি এবং যেহেতু কোনো ধরনের অসদাচরণ বা অবহেলার কোনো তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি, তাই কারো বিরুদ্ধে কোনো রকম শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের কোনো প্রয়োজন তারা দেখছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু গণমাধ্যমে খবর এসেছে যে পেন্টাগনের এ পর্যালোচনা রিপোর্ট সোমবার অনুমোদন করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী লয়েড অস্টিন।

কাবুল বিমানবন্দরের বাইরে একটি আত্মঘাতী বোমা হামলায় প্রায় ১৭০ জন বেসামরিক মানুষ ও ১৩ জন মার্কিন সৈন্য নিহত হওয়ার কয়েক দিন পর যুক্তরাষ্ট্র এ ড্রোন হামলা চালায়।


কী ঘটেছিল কাবুলের ওই ড্রোন হামলায়?

মার্কিন বাহিনীর লক্ষ্যবস্তু ছিল ত্রাণ কর্মী জামাইরি আহমাদির গাড়ি।

বিমানবন্দর থেকে তিন কিলোমিটার (১.৮ মাইল) দূরে ছিল তার বাসা। তিনি গাড়ি চালিয়ে বাসায় পৌঁছে বাসার চত্বরে তার গাড়ি রাখার সময় গাড়ির ওপর ড্রোন হামলাটি চালানো হয়।

বলা হযয়েছে যে এ গাড়িটি আইএস-কে সংস্থার একটি ভবনের চত্বরে দেখা গেছে এবং ওই জঙ্গি সংগঠনের আরেকটি হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কে অন্য যেসব গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া গিয়েছিল, এ গাড়িটির গতিবিধি ওই পরিকল্পনার সাথে জড়িত।

ড্রোন হামলার ওই্ বিস্ফোরণের কারণে দ্বিতীয় আরেকটি বিস্ফোরণ ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা প্রথমে বলেন, ওই গাড়ির ভেতরে যে বিস্ফোরক পদার্থ ছিল, দ্বিতীয় বিস্ফোরণটি তারই প্রমাণ।

তবে, পরে তদন্তে দেখা যায় যে দ্বিতীয় বিস্ফোরণটি ঘটেছিল খুব সম্ভবত তার বাসার ড্রাইভওয়েতে রাখা প্রোপেন গ্যাসের একটি ট্যাংক ফেটে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের জেনারেল কেনেথ ম্যাকেঞ্জি জানান, মারা যাওয়া সহায়তা কর্মীকে আইএসকের সদস্য ভেবে ভুল করেছিল মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা।

আহমাদির আত্মীয়রা বলেন, যে আহমাদি যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন।

কাবুল বিমানবন্দরে উগ্রবাদী হামলার কয়েক দিন পরই এ ভয়াবহ ড্রোন হামলা করা হয়। কাবুল বিমানবন্দরে হামলার পর হওয়া ওই ড্রোন হামলাটি ছিল আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাবাহিনীর শেষ মারাত্মক ভুল কার্যক্রমগুলোর একটি।

সূত্র : বিবিসি, আল-জাজিরা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

one × 5 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য