শিখ সম্প্রদায়ের এক বিখ্যাত নেতা জগমোহন সিং রায়না বলেছেন যে জম্মু ও কাশ্মির অঞ্চলে জোরপূর্বক ধর্মান্তরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। জগমোহন সিং রায়না সকল রাজনৈতিক দলের শিখদের নিয়ে গঠিত জোট অল পার্টি শিখ কো-অরডিনেশন কমিটির (এসপিএসসিসি) চেয়ারম্যান। বুধবার বিভিন্ন গণমাধ্যমের সামনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এ শিখ নেতা তার বক্তব্য দেয়ার সময় দিল্লি থেকে আগত কিছু নেতাকে দোষারোপ করেন অপপ্রচার চালানোর জন্য। তিনি মনে করেন, এসব বক্তব্য দেয়ার মাধ্যমে তারা কশ্মিরের বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করছে।
ওই সংবাদ সম্মেলনে জগমোহন সিং রায়না বলেন, ‘জম্মু ও কাশ্মির অঞ্চলের শিখ সম্প্রদায় মুসলমানদের সাথে সুসম্পর্ক রেখে শান্তিতে বসবাস করছে। (দিল্লির শাসক গোষ্ঠীর) কায়েমী স্বার্থ রক্ষার জন্য বহু বছর ধরে দু’সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির বহু ধরনের চেষ্টা চালানো হয়েছে। কিন্তু, দু’সম্প্রদায়ের মধ্যেকার শক্তিশালী বন্ধনের কারণে তাদের অপচেষ্টা প্রতিরোধ করা গেছে।
তিনি শান্তির আহ্বান জানিয়ে বলেন, এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষের উচিৎ সতর্ক থাকা এবং কেউ যেন এ অঞ্চলের সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট না করে এ ব্যাপাটা নিশ্চিত করা।
তিনি আরো বলেন, যেহেতু দু’সম্প্রদায় ব্হু বছর থেকেই পরস্পরের সুখে-দুঃখে এক অপরের পাশে আছে। তাই এটা দু’সম্প্রদায়েরই দায়িত্ব যেন তারা এ শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখে।
এ শিখ নেতা দিল্লিপন্থী শিখ নেতা মানজিনদার সিং সিরসারও সমালোচনা করেছেন। মানজিনদার সিং সিরসা দিল্লির শিখ গুরুদোয়ারা ম্যানেজমেন্ট কমিটির প্রধান। তিনি ধর্মান্তর ইস্যুতে বিভিন্ন সাম্প্রদায়িক বক্তব্য দিয়েছেন।
এ সম্পর্কে জগমোহন সিং রায়না বলেন, তারা দিল্লি ও পাঞ্জাবের রাজনীতি কাশ্মিরি শিখদের ওপর চাপিয়ে দিতে চায়। তিনি এ বিষয়ে আরো বলেন, আমরা তাদের এমন ঘৃণ্য রাজনীতি এখানে (কাশ্মির) চালাতে দেব না।
ওই সংবাদ সম্মেলনে জগমোহন সিং রায়না আরো বলেন, বহু বছর ধরে জম্মু ও কাশ্মির অঞ্চলের বিখ্যাত রাজনৈতিক পরিবারগুলো তাদের মধ্যে আন্তঃধর্মীয় বিয়ের প্রচলন অব্যাহত রেখেছেন, তাদের দিকে কেউ আঙ্গুল তুলছেন না। কিন্তু, যখনই এ ধরনের ঘটনা সাধারণ পরিবারগুলোতে ঘটে তখনই হইচই পড়ে যায়।
দিল্লির শিখ গুরুদোয়ারা ম্যানেজমেন্ট কমিটির সাবেক প্রধান ও শিরোমনি আকালি দলের প্রেসিডেন্ট পরমজিৎ সিং সারনা এ বিষয়ে বলেন, যে সকল শিখ দিল্লি থেকে শ্রীনগরে আসে তাদের সবাই কিন্তু সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ সৃষ্টির চেষ্টা চালান না।
এদিকে ভারতের বহু মাওলানা ও ইসলাম ধর্মের বিশেষজ্ঞদের সংগঠন মোতাহিদা মজলিসে উলেমা বলেছে, শিখ নারীদের জোরপূর্বক ধর্মান্তরের বিষয়টি একটি মিথ্যা অপপ্রচার।
সূত্র : মুসলিম মিরর
