কয়েকমাস আগে দেশের দুই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন ট্রান্সজেন্ডার সন্ত্রাসী সাফওয়ান চৌধুরী রেবিল, যিনি নিজেকে সাহারা চৌধুরী নামে ট্রান্সনারী হিসেবে পরিচয় দেন৷ তার সহপাঠীদের মতে সে নিয়মিতই অসদাচরণ করতো এবং অস্ত্র নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে চলাচল করতো। বিবিধ শৃঙ্খলা ভঙ্গের অপরাধে তাকে তার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়। শিক্ষক খুনের হুমকিদাতা সেই রেবিলের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি। তিনি দাবি করেছিলেন যে রেবিলের বিরুদ্ধে বহিষ্কারাদেশ বেআইনি এবং তা ‘মব সন্ত্রাস’ করে করা হয়েছে।
১৬ই আগস্ট ২০২৬ তারিখে ফেসবুকে সাকি লেখেন :
“মব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হোন!
মব সন্ত্রাস করে ট্রান্স অধিকার এক্টিভিস্ট সাহারা চৌধুরীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। অবিলম্বে এই বেআইনি বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করতে হবে। জাতি-ধর্ম-শ্রেনী-লিঙ্গ পরিচয় নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার, মর্যাদা ও জীবনের নিরাপত্তা রাষ্ট্রকেই নিশ্চিত করতে হবে।”

তার এমন স্ট্যাটাস সেসময় তুমুল সমালোচিত হয়। এবং সম্প্রতি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী ও গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকির মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জাহান। এমন ব্যক্তির মনোনয়নের বৈধতা নিয়ে নতুন করে আবার প্রশ্ন তুলছেন নেটিজেন ও বিশেষজ্ঞরা।
খুনের হুমকি পাওয়া শিক্ষকদের একজন ড. মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেশের অবহেলিত জনস্বাস্থ্য, থ্যালাসেমিয়া – ডেঙ্গু এবং শিশুদের স্থূলতা গবেষণার মাধ্যমে সচেতনতার কাজ করছেন। তিনি আইইউবির স্কুল অব এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড লাইফ সায়েন্সের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত এবং অস্ট্রেলিয়ার ওলংগং বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ বছর অনারারি সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। এর আগে তিনি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা এবং ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালের বায়োটেক ডিভিশনে সিনিয়র ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি আজ ৪ঠা জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ফেইসবুকে লিখেছেন,
“ইনি বিএনপি জোটের প্রার্থী। এমপি হলে সংসদে এলজি এজেন্ডা পুশ করবে কেননা তাদের সমর্থন করেন। সেই দায়ভার কি বিএনপি নিবে? যারা উনাকে ভোট দিবেন, তাদের কি আল্লাহর কাছে আখেরাতে জবাবদিহীতা করতে হবে না?”
তাঁর স্ট্যাটাস শেয়ার করে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সমর্থন জানান, এবং সাকির মনোনয়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান।
তথ্যসূত্রঃ
