মেগাসিটি ঢাকায় প্রয়োজনের তুলনায় রাস্তা কম। সেগুলোও আবার দখলে। নতুন-পুরনো রাস্তাগুলো অপরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে। এখন যানজট কমাতে হলে সবার আগে গণপরিবহনের উপযোগী সড়ক অবকাঠামো করতে হবে।
গতকাল সোমবার রাজধানীর রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে ঢাকা ইউলিটি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডুরা) আয়োজিত ‘অসহনীয় যানজট : সমাধান কী’ শীর্ষক সংলাপে নগর পরিকল্পনাবিদ ও পরিবহন বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।
সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. শামসুল হক। তিনি বলেন, ‘ঢাকায় বড় বড় প্রকল্প করা হলেও সঠিক পরিকল্পনার অভাবে সেগুলো কাজে আসেনি। আমি অনেক বিনিয়োগ করতে পারি, কিন্তু রাস্তা ঠিক নেই, ভূমি ব্যবহারের কোনো পথ আমরা রাখিনি। সমস্যা সমাধানে গণপরিবহনের উপযোগী অবকাঠামো বানাতে হবে এবং তা কোনোভাবেই ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য নয়। গণপরিবহনের ওপর জোর দিতে হবে। ফ্র্যাঞ্চাইজির আওতায় গণপরিবহন চালাতে হবে। পরিকল্পনার অভাবে ঢাকা মহানগরের মাঝখানে করা ফ্লাইওভারগুলো যানজট নিরসনে কোনো কাজে আসছে না। কারণ বিশ্বের কোথাও শহরের মাঝখানে ফ্লাইওভার করা হয় না। ’
স্থপতি মোবাস্বের হোসেন বলেন, ‘রাজধানীর বেইলি রোডে সচিবদের জন্য আবাসন করা হয়েছে। প্রতিদিন সকালে একসঙ্গে ১১৪ সচিব-অতিরিক্ত সচিব গাড়ি নিয়ে বের হন। অনেকে সড়কের উল্টো দিকে গাড়ি নিয়ে চলেন। এতে যানজট তৈরি হয়। এই ১১৪ সচিব, অতিরিক্ত সচিব যদি অত্যাধুনিক বাস বা মিনিবাসে করে সচিবালয়ে যাতায়াত করেন, তাহলে ওই ১১৪টি গাড়ি রাস্তায় বের হবে না। আপনারা কি পারবেন ওই কাজটি করাতে? প্রধানমন্ত্রীর চিন্তা বাস্তবায়নে সবাইকে কাজ করতে হয়। ’
নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘ঢাকায় চাইলে এখনো যানজট নিরসন সম্ভব। এ জন্য কাউকে না কাউকে উদ্যোগ নিতে হবে। নারায়ণগঞ্জের পুলিশ শহরে যানজটমুক্ত ঘোষণা দেওয়ার কয়েক দিনের মাথায় অবৈধ গাড়ি পার্কিং, ফুটপাত দখলমুক্ত করেছে। সেখানে এখন যানজট হয় না। ’
ভোরের কাগজ পত্রিকার সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেন, ‘সমন্বিত পদক্ষেপ না নিলে ঢাকা শহরের সমস্যা কখনোই সমাধান হবে না। বর্তমান পরিস্থিতি থেকে কিভাবে উত্তরণ করা যায়, সেটি ভাবতে হবে। এ জন্য আমাদের দুর্নীতি কমাতে হবে। ট্রাফিক আইন বাস্তবায়ন করতে হবে। এ ছাড়া লাখ লাখ রিকশা দিয়ে আধুনিক নগরী চিন্তা করা যায় না। ’
উন্নয়নের কারণে যানজট : স্থানীয় সরকার মন্ত্রী
স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দেশে অনেক উন্নতি হয়েছে বলে যানবাহন বেড়েছে।
বর্তমান সরকার টানা ১৩ বছর ধরে ক্ষমতায় আছে। এ কারণে দেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নতি হয়েছে। এই ১৩ বছরে উন্নয়নের কারণেই ট্রাফিক সিস্টেমটা…ট্রাফিক প্রবলেমটা আমাদের কাছে একটা হেডেক হয়ে গেছে। ’
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের কাছে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা হস্তান্তর করা হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সিটি করপোরেশন নিজেদের অর্থায়নে বিমানবন্দর বানিয়েছে, সাবওয়ে নির্মাণ করেছে। আমাদের দুই সিটির মেয়রের কাজ করার অনেক আগ্রহ রয়েছে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করার সক্ষমতা আছে কি না, তা দেখতে হবে। ’
মন্ত্রী আরো বলেন, ‘সড়কে গাড়ির সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহারে সবাইকে উৎসাহী করতে হবে। যানজট নিরসন একক কোনো প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয়। সমন্বিতভাবে কাজ করলে কাক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব। ট্রাফিক আইন মানার বিষয়ে মানুষকে আরো বেশি সচেতন হতে হবে। ঢাকা শহরে কত মানুষ বসবাস করবে তা ঠিক করা জরুরি। কারণ, সবাইকে ঢাকায় রাখা সম্ভব না। ’
ডুরার সভাপতি রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে সংলাপ সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক শাহেদ শফিক। এতে রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আশরাফুল ইসলাম, যানজট ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ মো. আসাদুর রহমান মোল্লা বক্তব্য দেন।
