গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা আরও ভয়াবহ করার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির উগ্র ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। তাঁর দাবি, গাজায় প্রতি রাতে অন্তত ৩০ থেকে ৪০ জনকে হত্যা করা উচিত এবং হত্যাকাণ্ড শুধু তাৎক্ষণিক হুমকি সৃষ্টিকারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
রোববার প্রকাশিত এক পডকাস্টে সাবেক ইসরায়েলি বন্দি রোম ব্রাসলাভস্কির সঙ্গে আলাপকালে বেন-গভির বলেন, গাজায় এমন মানুষ রয়েছে, যারা ‘বেঁচে থাকার যোগ্য নয়’। তিনি ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে হত্যাকাণ্ড চালানোর পাশাপাশি গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের স্থায়ীভাবে চলে যাওয়ার পক্ষে মত দেন। একই সঙ্গে সেখানে নতুন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘পুরো গাজাই আমাদের।’
নেতানিয়াহু সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই মন্ত্রী চলমান যুদ্ধবিরতিতে সামরিক হামলা কমানোর সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আবারও লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ড শুরুর পক্ষে অবস্থান নেন। তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ওপর তাঁর সরাসরি কমান্ড নেই। তিনি দেশটির নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার সদস্য, যা যুদ্ধ ও নিরাপত্তানীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আলোচনায় ব্রাসলাভস্কি ফিলিস্তিনি বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে নিজে অংশ নেওয়ার সুযোগ চান। এর জবাবে বেন-গভির বলেন, তা বাস্তবায়নে তিনি ‘পুরো পৃথিবী ওলটপালট’ করবেন। সম্প্রতি ইসরায়েলে প্রাণঘাতী হামলার দায়ে সামরিক আদালতে দোষী সাব্যস্ত ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার সুযোগ রেখে আইন প্রণীত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাপক বা পরিকল্পিতভাবে মানুষকে জোরপূর্বক অন্যত্র সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ জাতিগত নিধন বা এথনিক ক্লিনজিং হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরায়েলি হামলায় ১ হাজার ২৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
বেন-গভিরের সর্বশেষ মন্তব্য তাঁর দীর্ঘদিনের চরমপন্থী অবস্থানেরই ধারাবাহিকতা। কৈশোরে তিনি নিষিদ্ধ কাহানিস্ট আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ফিলিস্তিনি বন্দিদের জন্য মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে প্রচার এবং কারাগারে তাদের পরিস্থিতি আরও কঠোর করার বক্তব্যের কারণে তিনি আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচিত হয়েছেন। যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি দেশ তাঁর ওপর নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছে।
সূত্রঃ এএফফি
