জাতিসংঘ মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) সতর্ক করেছে, গাজায় ইসরায়েলের হামলা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের অর্থনীতি ধ্বংস করেছে এবং এর অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলেছে। সংস্থা অবিলম্বে বৃহৎ পরিসরে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে। জেনেভা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা (ইউএনসিটিএডি) নতুন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গাজা উপত্যকা পুনর্গঠনে ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি খরচ হবে এবং এতে কয়েক দশক সময় লাগতে পারে। সংস্থা সতর্ক করেছে, চলমান যুদ্ধ ও বিধিনিষেধ ফিলিস্তিনি অর্থনীতিতে ‘নজিরবিহীন পতন’ ডেকে এনেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের সামরিক অভিযান খাদ্য, বাসস্থান এবং স্বাস্থ্যসেবাসহ প্রতিটি বেঁচে থাকার স্তম্ভকে দুর্বল করেছে। এটি গাজাকে মানবসৃষ্ট এক গভীর সংকটের মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলেছেন, একটানা ধ্বংসযজ্ঞের পর গাজাকে পুনরায় বাসযোগ্য স্থান ও সমাজ হিসেবে পুনর্গঠন করা সম্ভব হবে কি না।
ইউএনসিটিএডি’র প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ধ্বংসযজ্ঞ অর্থনৈতিক, মানবিক, পরিবেশগত ও সামাজিক ক্ষেত্রে ধারাবাহিক সংকট সৃষ্টি করেছে, যা গাজাকে উন্নয়ন থেকে সম্পূর্ণ ধ্বংসের পথে ঠেলে দিয়েছে। উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক সাহায্য এলে ও কিছুটা পরিস্থিতি শোধরানো সম্ভব হলেও, ২০২৩ সালের অক্টোবরের আগের অবস্থায় ফেরাতে কয়েক দশক সময় লাগবে।
সংস্থা একটি ‘সমন্বিত পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা’ প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক সহায়তা, আর্থিক স্থানান্তর পুনঃস্থাপন এবং বাণিজ্য, চলাচল ও বিনিয়োগের ওপর বিধি-নিষেধ শিথিল করার পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
গাজার জনগোষ্ঠী যখন ‘চরম ও বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের’ মুখোমুখি, তখন জাতিসংঘ সবার জন্য জরুরি মৌলিক আয় প্রবর্তনের আহ্বান জানিয়েছে। এটি প্রত্যেককে নবায়নযোগ্য ও নিঃশর্ত মাসিক নগদ অর্থ স্থানান্তরের সুযোগ দেবে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সহিংসতা, দ্রুত সম্প্রসারিত বসতি স্থাপন এবং শ্রমিক চলাচলে বিধি-নিষেধ পশ্চিম তীরের অর্থনীতিকেও ধ্বংস করেছে। জাতিসংঘের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, গাজার পরিস্থিতি তাত্পর্যপূর্ণ আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ ছাড়া আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। তথ্যসূত্র : এএফপি
