তুরস্কের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফাহরেতিন কোকা জানিয়েছেন, তার দেশ যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুদের গ্রহণ করতে এবং তাদের চিকিৎসা দিতে প্রস্তুত আছে।
ইসরাইলি স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইউরিয়েল মিনাচেমে বুসোর সাথে তার এক ফোন আলোচনার বিষয় জানিয়ে কোকা বৃহস্পতিবার বলেন, গাজায় ক্যান্সারের চিকিৎসা দেয়া একমাত্র হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা বন্ধ হয়ে গেছে।
কোকা বলেন, ‘আমি তাকে (ইসরাইলি স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে) বলেছি, আমাদের উচিত নিরপরাধ ওই শিশুদের চিকিৎসা অব্যাহত রাখা।’
‘আমি তাকে জানিয়েছি, আমরা ক্ষতিগ্রস্ত ফিলিস্তিনিদের বিশেষত শিশুদের মিসরে নিয়ে সেখান থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তুরস্ক আনতে প্রস্তুত। আমরা যত দ্রুত সম্ভব ক্যান্সার আক্রান্তদের তুরস্কে নিয়ে আসার কার্যক্রম শুরু করব,’ বলেন তিনি।
ফিলিস্তিনি মায়েরা জানালেন শিশুরা পানিশূন্যতায় ভুগছে
গাজার কেন্দ্রস্থলের বিভিন্ন স্কুল ও হাসপাতালে আশ্রয় নেয়া মায়েরা জানিয়েছেন, তাদের শিশুরা পানিশূন্যতায় ভুগছে এবং তাদের ওজন ব্যাপক কমে যাচ্ছে।
দেড় বছর বয়সী এক শিশুর মা ইয়ামেন মোহাম্মদ হাজ্জাজ জানিয়েছেন, তিনি শুজাইয়া এলাকা থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে আল-নুসেইরা ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছেন। জাতিসঙ্ঘ পরিচালিত একটি স্কুলে অবস্থান করছেন তারা। তার শিশুটি পানিশূন্যতা ও ডায়রিয়ার ভুগছে।
অন্য এক নারী জানিয়েছেন, তার শিশু পেটের পীড়ায় ভুগছে এবং ওজন কমে অর্ধেকে নেমে এসেছে। পুষ্টিহীনতার কারণে এমন হচ্ছে।
নুসেইরাত ক্যাম্পের এক ভিডিওতে দেখা যায়, সেখানে ব্যাপক ভিড় জমে আছে। অসুস্থ শিশুদের নিয়ে সেখানে এসেছেন পরিবারের সদস্যরা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, মধ্য অক্টোবরের পর থেকে ৩৩ হাজার ৫৫১টিরও বেশি ডায়রিয়া আক্রান্তের তথ্য জানা গেছে। এদের বেশিরভাগই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু।
ইসরাইলের সাথে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে আগে থেকেই অবরুদ্ধ গাজা এলাকাটি এখন পুরোপুরি অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে সেখানে খাবার, পানি ও চিকিৎসাসামগ্রী ঢুকতে পারছে না। সেখানে ত্রাণ নিয়ে যাওয়া ট্রাকগুলোর প্রবেশাধিকার থাকলেও ইসরাইলি হামলার কারণে প্রয়োজনীয় পরিমাণ ত্রাণ ঢুকতে পারছে না।
সূত্র : আলজাজিরা
