জাতিসংঘ মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব ধ্বংস করেছে। বলকান, মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়াতে লক্ষ লক্ষ মুসলিম হত্যার বৈধতা দিয়েছে। বিভিন্ন মুসলিম দেশের কলিজার ভেতরে খ্রিস্টান রাষ্ট্র তৈরি করেছে। এসব ভয়াবহ অন্যায়ের প্রেক্ষাপট তৈরি ও বাস্তবায়নে সর্বাত্মক ভূমিকা রেখেছে এই সংঘের ‘মানবাধিকার বিষয়ক কমিশন’। সংখ্যালঘু নিপীড়ন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের ধোয়া তুলে এই কমিশন ইন্দোনেশিয়া ও সুদানকে অভিযুক্ত করে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের পথ তৈরি করে, সবশেষে এগুলোকে ভেঙে পূর্ব তিমুর ও দক্ষিণ সুদান নামক খ্রিস্টান রাষ্ট্র তৈরি করে। অপরদিকে আরাকান, কাশ্মীর, উইঘুর, আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়া ও ফিলিস্তীনে লক্ষ লক্ষ মুসলিম নারী-পুরুষ ও শিশু হত্যায় এই কমিশন কী ভূমিকা পালন করছে তা গোটা বিশ্বের সামনে।
# শান্তিতে নোবেল পশ্চিমাদের আস্থার স্বীকৃতিমূলক সর্বোচ্চ পদক। খ্রিস্টান বিশপ বেলো ও হোর্তাকে নোবেল দিয়েই পূর্ব তিমুর সৃষ্টির পথ সুগম করা হয়েছিল। ফলে মুহাম্মাদ ইউনূস এই কমিশনকে সামনে নিয়ে আসবেন- এটা মোটেই অপ্রত্যাশিত ছিল না। মনে করিয়ে দিই, কিছুদিন আগে পূর্ব তিমুরের নোবেলপ্রাপ্ত সেই প্রেসিডেন্ট হোর্তা বাংলাদেশে তার সতীর্থ ইউনূসকে দেখতেও এসেছিলেন। আশংকা করছি, এই কমিশনের চূড়ান্ত লক্ষ্য খুব সম্ভবত পার্বত্য চট্টগ্রাম। ইতোমধ্যে তাদের প্রথম প্রকল্প- পাহাড়ী উপজাতিদের খ্রিস্টকরণের কাজ অনেক দূর এগিয়ে গেছে। আজ হোক কাল হোক এরা পার্বত্য অঞ্চলে কথিত সংখ্যালঘু নির্যাতন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলবে। জাতিসংঘে নালিশ করে বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে অপরাধীর কাঠগড়ায় তুলবে। সবশেষে স্বায়ত্তশাসন ও গনভোটের আয়োজন হবে। শান্তিরক্ষার নামে এখানে অস্ত্র, সেনা আর যুদ্ধবিমান আসবে। মুসলমানদের রক্ত দিয়ে লেখা হবে খ্রিস্টান জুম্মল্যান্ড সৃষ্টির ইতিহাস।
# দেশের সব ঘরানার দায়িত্বশীল উলামায়ে কিরাম, দাঈ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে অভিন্ন ব্যানারে দেশব্যাপী কঠোর জাতীয় প্রতিবাদ কর্মসূচি দেয়ার অনুরোধ করছি। এনজিও সরকারকে দু’টো পথ দিন। হয়তো তারা পশ্চিমের মানবাধিকার কার্যালয় খোলার সকল কার্যক্রম বন্ধ করবে। নয়তো তারা নিজেরা পশ্চিমে ফিরে যাবে। আল্লাহর শপথ আমার আশংকা হয়, এই দেশের মানুষ সচেতন না হলে ইউনূস ও তার এনজিও উপদেষ্টারা পুরো বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বিক্রি করে নোবেল ও এযাবৎ প্রাপ্ত সকল পশ্চিমা অনুদানের মূল্য চুকাতে একবার ভাববেন না।
