
২ দিন আগে ছবির এই জামাই-শাশুড়িকে নিয়ে দেশের প্রায় সব মিডিয়া মুখরোচক শিরোনাম দিয়ে খবরের পসরা সাজিয়েছিল। মূলত ভিউ কামিয়ে ব্যবসা করাই ছিল তাদের লক্ষ্য। আর যারা হুজুর বা ইসলামবিদ্বেষী, তারা নিজ নিজ প্রোফাইল, পেজ ও গ্রুপে এই সংবাদটি নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করেছিল।
যেহেতু অভিযুক্ত ব্যক্তি দাড়ি-টুপি পরা একজন মাওলানা, তাই এই সুযোগে আলেম সমাজ ও মাওলানাদের চরিত্রহনন না করলেই যেন তাদের চলছিল না। এই ঘৃণ্য তৎপরতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখে কলিজায় আঘাত লেগেছিল।
তবে মাওলানা আবু হুরায়রা ও তার শাশুড়ির জবানবন্দির ধরন, চেহারা এবং যে অন্ধকারাচ্ছন্ন ঘরে বন্দি রেখে ভয়ভীতি দেখিয়ে জবানবন্দি নেওয়া হচ্ছিল, তা দেখেই বোঝা যাচ্ছিল এর পেছনে বড় কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে। তারা দুজন যে সম্পূর্ণ নিরপরাধ এবং কোনো চক্রান্তের শিকার, সেই খটকা শুরুতেই মনে জেগেছিল। কিন্তু তথ্য-প্রমাণের অপেক্ষায় থেকে তখন কিছু লেখা হয়নি। শেষ পর্যন্ত সেই আশঙ্কাই সত্য প্রমাণিত হলো।
প্রকৃত ঘটনা হলো, তারা দুজন মূলত বিড়ালকে ভ্যাকসিন দেওয়ানোর জন্য ভেটেরিনারি চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিলেন। চিকিৎসক আসতে কিছুটা দেরি হওয়ায় কোনো নির্জন জঙ্গলে নয়; বরং একটি জনসমাগমপূর্ণ স্থানেই তারা অপেক্ষা করছিলেন এবং কথা বলছিলেন।
ঠিক সে সময় কয়েকজন আনসার সদস্য উদ্দেশ্যেপ্রণোদিতভাবে তাদের আটক করে আনসারদের একটি কক্ষে প্রায় ৫ ঘণ্টা আটকে রাখে। একপর্যায়ে দুজনকে আলাদা দুটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক ভিডিও ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে তাদের কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় এবং চাঁদা না দিলে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত দাবি করা টাকা না পেয়ে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে সেই ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
যে আনসার সদস্যরা বলপ্রয়োগ করে এমন স্বীকারোক্তি আদায় করে তাদের মান-ইজ্জত ধূলিসাৎ করেছিল, তারাই পরবর্তীতে দায়ে পড়ে ভিডিও বার্তায় নিজেদের ভুল স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেছে।
কিন্তু আফসোসের বিষয় হলো, মিডিয়াগুলো আনসারদের এই ভুল স্বীকারের সংবাদ নিয়ে এখন আর কোনো পোস্ট করছে না কিংবা ভিউ কামানোর চেষ্টা করছে না। কারণ, এই সত্য প্রকাশ করলে আলেমদের যে চরিত্রহনন তারা করেছিল, তা ভুল প্রমাণিত হবে এবং নিজেদের কৃতকর্মের থুথু নিজেদের গায়ে এসে পড়বে।
এই ঘটনার পর মাওলানা আবু হুরায়রা নিজে ভিডিওতে এসে তাদের সাথে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ চক্রান্ত ও ভিকটিম হওয়ার সত্য তুলে ধরেছেন। এরপর আনসার সদস্যরাও নিজেদের অন্যায় স্বীকার করল।
কিন্তু এর মাঝে দেশ-বিদেশে এই মাওলানাকে জড়িয়ে এবং তার মা-সমতুল্য শাশুড়ির ইজ্জত হরণ করে যে কাদা ছোড়াছুড়ি হলো, তার ক্ষতিপূরণ কে দেবে? যে সাধারণ মানুষের ৯০০% ভাগই হয়তো সত্যটা আর কখনো জানতে পারবে না, মাত্র ১০% ভাগ মানুষ হয়তো সত্য জানতে পারবে। বাকি ৯০% মানুষের কাছে যাদের জীবন ও চরিত্র কালিমালিপ্ত হয়ে রইল, তাদের এই নিঃশেষ হয়ে যাওয়া সম্মান ফিরিয়ে দেবে কে?
যে মেয়েকে মাওলানা বিয়ে করেছেন, সেই মেয়েই বা সারা জীবন এই মর্মান্তিক স্মৃতি কীভাবে বয়ে বেড়াবে?
যেকোনো সুযোগ পেলেই আলেম সমাজের পেছনে আদা-জল খেয়ে লাগা এই মিডিয়া ও অপশক্তির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের কি কোনো দায়বদ্ধতা নেই? এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
কোনো কিছুর বিনিময়েই হারানো ইজ্জত ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। শুধু একটি ভিডিও বার্তায় আনসারদের ক্ষমা চাওয়াই যথেষ্ট হতে পারে না। এই অপরাধীদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এভাবে কারো জীবন ধ্বংস করার সাহস না পায়।
স্থানীয়রা এদেরকে ধরে জুতাপেটা করে কানধরে উঠবস করিয়ে ভিডিও ছাড়েন সোশ্যালমিডিয়ায়। যাতে জনমের তরে কেউ হুজুরদের নিয়ে নোংরামি খেলায় মেতে উঠার দুঃসাহস না করে! এভাবে আর কত দেখব?!
একই সাথে ক্ষতিগ্রস্ত মাওলানা সাহেবেরও উচিত অনতিবিলম্বে আইনের আশ্রয় নিয়ে এই ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
-আইনুল হক কাসেমী
