Thursday, October 15, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে ও পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরনিকাব পরিহিতা ছাত্রীকে হেনস্থায় তদন্ত ও ইসলামোফোবিয়া বিরোধী নীতিমালা বাস্তবায়নের দাবি চান...

নিকাব পরিহিতা ছাত্রীকে হেনস্থায় তদন্ত ও ইসলামোফোবিয়া বিরোধী নীতিমালা বাস্তবায়নের দাবি চান ১৫৮ শিক্ষকের

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে নিকাব পরিহিতা এক ছাত্রীকে হেনস্থার অভিযোগের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার এবং ইসলামোফোবিয়া বিরোধী নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজের ১৫৮ জন শিক্ষক।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) ‘মূল্যবোধ আন্দোলন’-এর মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মাদ সাদাতের পাঠানো এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিতে শিক্ষকরা বলেন, “আমরা দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজের শিক্ষকবৃন্দ সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিকাব পরিহিতা এক নারী শিক্ষার্থীকে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষিকা কর্তৃক প্রকাশ্যে অপমান ও বডি শেমিংয়ের মাধ্যমে হেনস্থা করার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছি।”

তারা বলেন, অডিও রেকর্ডে একজন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত পোশাক, ধর্মীয় রীতিনীতি এবং শারীরিক গঠন নিয়ে আপত্তিকর ও অবমাননাকর মন্তব্য পরিলক্ষিত হয়েছে। একজন শিক্ষকের কাছ থেকে শিক্ষাঙ্গনে এ ধরনের অসংবেদনশীল ও বৈষম্যমূলক আচরণ কখনোই প্রত্যাশিত হতে পারে না। তাদের মতে, এটি উগ্র ইসলামোফোবিয়ার প্রকাশ, যা একজন শিক্ষকের নৈতিক দায়িত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

বিবৃতিতে সাম্প্রতিক গবেষণার তথ্য উল্লেখ করে শিক্ষকরা বলেন, দৃশ্যমানভাবে ধর্মপালনকারী দেশের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী, সদ্য স্নাতক ও তরুণ পেশাজীবীদের ৫৫ দশমিক ৭ শতাংশ সরাসরি শিক্ষাগত বা পেশাগত পরিসরে বৈষম্য ও হেনস্থার মুখোমুখি হয়েছেন। এর মধ্যে ৬৩ দশমিক ৪ শতাংশ ক্ষেত্রে ইসলামোফোবিয়ার ঘটনার জন্য শিক্ষকরা দায়ী হয়েছেন বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। পুরুষদের তুলনায় হিজাব-নিকাব বা ধর্মীয় পোশাক পরিহিতা নারীরাই ইসলামোফোবিয়ার প্রধান শিকার হচ্ছেন বলেও গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পাশে না দাঁড়িয়ে কিছু শিক্ষক ও তাদের সংগঠন একাডেমিক স্বাধীনতা ও শিক্ষকের অধিকারের দোহাই দিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের সাফাই গাইছেন। শ্রেণিকক্ষে প্রকাশ্য হেনস্থাকে একাডেমিক আলোচনার অজুহাতে আড়াল করা কিংবা সহকর্মীকে সুরক্ষা দেওয়ার এই মানসিকতা নিন্দনীয় বলেও মন্তব্য করেন তারা।

শিক্ষকরা বলেন, একাডেমিক স্বাধীনতার নামে কারও ধর্মীয় স্বাধীনতা হরণ বা কাউকে প্রকাশ্যে অপমান করা বৈধ হয়ে যায় না।

বিবৃতিতে দাবি জানিয়ে তারা বলেন, “এই ঘটনায় জড়িত অভিযুক্ত শিক্ষিকাকে অনতিবিলম্বে শিক্ষাদান কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অপরাধ প্রমাণ সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে এবং দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইসলামী পরিচয় ও পোশাকের কারণে হেনস্থা বন্ধে ‘ইসলামোফোবিয়া বিরোধী নীতিমালা’ প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।”

বিবৃতি প্রদানকারী শিক্ষকদের মধ্যে ৩৫ জন অধ্যাপক, ২৭ জন সহযোগী অধ্যাপক, ৪৫ জন সহকারী অধ্যাপক এবং ৫১ জন প্রভাষক রয়েছেন।

বিবৃতি প্রদানকারীদের পূর্ণাঙ্গ নামের তালিকা মূল্যবোধ ডট কমে প্রকাশ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মানজুরুল করিম ও অধ্যাপক ড. জুলফিকার হাসান খান, বুয়েটের অধ্যাপক ড. মুহাম্মাদ মাসুদ করিম, ডুয়েটের অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের (আইইউবি) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শামীমা তাসনীম ও অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ আবুল হাসনাত, রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. আতিয়ার রহমান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ডাক্তার মো. আরিফ মোর্শেদ খান, মেডিকেল কলেজ ফর ওমেন অ্যান্ড হসপিটালের সহযোগী অধ্যাপক ডাক্তার মিলিভা মোজাফফর, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শাফিউল ইসলাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আমিরুল ইসলাম, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শহীদ মুহাম্মদ রেজওয়ান, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আব্দুল লতিফ এবং মানারাত আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মীর মনজুর মাহমুদ প্রমুখ।

Sourceinsaf24

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

five × 1 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য