জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠক আগামীকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি। উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেন, আলোচনার স্থান এখনো নির্ধারিত হয়নি। খসড়া ঘোষণাপত্র নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে অনির্ধারিত আলোচনা হয়েছে। বিএনপি, জামায়াত, গণতন্ত্র মঞ্চসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও শ্রেণিপেশার সঙ্গে এ আলোচনা হয়েছে। এ সময় জাতীয় পার্টি ও বাম দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের বিষয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাজনীতির মাঠে জাতীয় পার্টির অবস্থান আমাদের কাছে পরিষ্কার। এখন পর্যন্ত কোনো বৈঠকে তাদের আমরা ডাকিনি। তাই ঘোষণাপত্র বিষয়েও তাদের সঙ্গে কথা বলা আমরা যৌক্তিক মনে করছি না। আর বাম দলগুলোর মধ্যে অনেক সংগঠন আছে, তবে গণঅভ্যুত্থানে যেসব দল প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করেছে তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে, আরো হবে।
এর আগে গত ১০ জানুয়ারি সন্ধ্যায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ ব্রিফিংয়ে উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেছিলেন, ঘোষণাপত্র সরকার দেবে না। সরকার ঘোষণাপত্রের প্রক্রিয়াকে সহায়তা করছে। ঘোষণাপত্র আসবে সবার ঐকমত্যের ভিত্তিতে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি গত ৩১ ডিসেম্বর ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র প্রকাশ করতে চেয়েছিল। এ নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা তৈরি হয়। প্রশ্ন ওঠে, হঠাৎ ঘোষণাপত্রের বিষয়টি কেন সামনে আনা হলো এবং এর প্রভাব কী হতে পারে।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেস উইং তখন জানায়, এ উদ্যোগের সঙ্গে সরকার সম্পৃক্ত নয়। তবে, ৩০ ডিসেম্বর রাতে জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একটি ঘোষণাপত্র তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি সবাই জুলাই ঘোষণাপত্রের বিষয়ে একমত আছেন যে ঘোষণাপত্র দিতে হবে। কিন্তু কবে ঘোষণা হবে বা এর ভেতরে কী কনটেন্ট থাকবে, সে বিষয়ে আমরা ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারিনি। তবে এটা নিয়ে আগামী বৃহস্পতিবার সর্বদলীয় বৈঠক হবে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং পক্ষকে আমরা বৈঠকের কথা বলেছি। তাদের কাছ থেকে মন্তব্য পেয়েছি, কীভাবে এটা করা সম্ভব,’ বলেন তিনি।
