Thursday, April 23, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরজ্ঞানসাধক মুসলিম মনীষীর অদ্ভুত কাণ্ড

জ্ঞানসাধক মুসলিম মনীষীর অদ্ভুত কাণ্ড

জ্ঞানসাধনার জন্য মনীষী যুগে যুগে বহু অদ্ভুত কাজ করেছেন, যা একই সঙ্গে বিস্ময়কর এবং অনুপ্রেরণাদায়ক। নিম্নে এমনই একজন মনীষীর ঘটনা তুলে ধরা হলো।

সানাদ ইবনে আলী বলেন, আমার বাবা খলিফার দরবারে কাজ করতেন। খলিফাও তাকে অনেক ভালোবাসতেন।

উকলিদাসের (গ্রিক গণিতবিদ ইউক্লিডের রচনাবলি) পাঠ শেষ করে আমি মিজাসতি কিতাব (জ্যোতির্বিদ টলেমির আল-মাজেস্ট বই) পড়া শুরু করতে চাইছিলাম। তবে কিতাবটি আমার কাছে ছিল না। বাগদাদে তখন এক লিপিকার এই কিতাব ২০ দিনারে বিক্রি করত। আমি বাবাকে তা কিনে দিতে বললাম। বাবাও কিনে দেওয়ার আশ্বাস দিলেন। কিন্তু বাবার ব্যস্ততার কারণে কেনার সময় পাচ্ছিলেন না। আমার এক ভাই ছিল। তার পড়াশোনার এত আগ্রহ ছিল না। সে বাবার সঙ্গে বিভিন্ন কাজ করত।
একদিন বাবা নিজের কোনো একটা কাজে বের হলেন। আমিও সেদিন তার সঙ্গী হলাম। বাবা ভেতরে কাজ করতে গেলেন। আমাকে বাইরে বাহনজন্তু ধরে রাখার দায়িত্ব দিয়ে গেলেন। তখন আমার বয়স মাত্র ১৭ বছর। বাবা ভেতরে যাওয়ার পর এক ছেলে এসে আমাকে বলল, তোমার বাবা অনেক সময় এখানে অবস্থান করবেন, তুমি চলে যাও। আমি তখন বাহনজন্তুটা নিয়ে সোজা বাজারে চলে গেলাম। বাবাকে না জানিয়েই তা ৩০ স্বর্ণমুদ্রার কিছু কমে বিক্রি করে দিলাম। এরপর ২০ দিনার দিয়ে মিজাসতি কিতাবটা কিনে বাড়ি ফিরে এলাম। মাকে এসে বললাম, আজ খুব বড় একটা অপরাধ করেছি। এরপর পুরো ঘটনা শুনিয়ে মাকে কসম দিয়ে বললাম। বাবা যদি এ কারণে আমার ওপর রাগ করেন, তবে তোমাদের ছেড়ে অনেক দূরে চলে যাব। এ কথা বলে অতিরিক্ত মূল্যটা মাকে ফেরত দিয়ে দিলাম।

বাড়িতে আমার একটা ঘর ছিল। সেখানে আমি একাকী থাকতাম। মাকে বললাম, ঘরে ঢুকে আমি দরজাটা লাগিয়ে দেব। কিতাব শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি আর বের হব না। তোমার কাছে অনুরোধ, প্রতিদিন একটা মাত্র রুটি বাইরে থেকে আমার ঘরে নিক্ষেপ করবে। বন্দিদের যেমন খাবার দেওয়া হয় সেভাবে। মা আমাকে বাবার দিকটি দেখার ব্যাপারে আশ্বস্ত করলেন। আমি এর পরই ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিলাম। এদিকে আমার ভাই বাবার কাছে গিয়ে সব বলে দিল। শুনতেই বাবার মুখের রং বদলে গেল। উপস্থিত অন্যদের চোখ থেকে ব্যাপারটা এড়াল না। তখন লোকজন জিজ্ঞাসা করলেন, ব্যাপার কী? একটা খবর শুনেই আপনি এমন বদলে গেলেন কেন? বলুন তো কী হয়েছে? বাবা আমার ঘটনা বললেন। অন্যরা বলল, বাহ আপনি তো অনেক ভালো একটি সন্তান লাভ করেছেন। এমন ছেলে কজনের ভাগ্যে জোটে। এক ব্যক্তি তখন আগেরটার চেয়ে আরো অনেক সুন্দর একটি বাহন দিয়ে বললেন, আপনি আপনার ছেলেকে এ ব্যপারে কিছুই বলবেন না। বইপ্রেমী সানাদ ইবনে আলী বলেন, আমি সেই ঘরে তিন বছর এক দিনের মতো কাটিয়ে দিলাম।

সূত্র : আল-মুকাফাআহ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

four × one =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য