রোগাক্রান্ত অবস্থায় মানুষের মন বেশি নরম থাকে। এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের যেকোনো কথা বিনা দ্বিধায় মেনে নিতে মন প্রস্তুত থাকে। এই সুযোগে ডাক্তাররা যদি চিকিৎসা পরামর্শের পাশাপাশি দ্বিনের কিছু কথা রোগীর সামনে উপস্থাপন করে, এটা রোগীর জীবনে মহৌষধ হিসেবে কাজ করতে পারে। নিম্নে দাওয়াতি ক্ষেত্রে ডাক্তারদের করণীয় সম্পর্কে আলোচনা করা হলো—
আল্লাহর একত্ববাদের শিক্ষা দেওয়া
একজন ডাক্তার রোগীর সঙ্গে আলাপচারিতার ফাঁকে ফাঁকে তার আকিদা ও বিশ্বাস সংশোধন করতে পারেন।
বিজ্ঞাপনআর রোগী যদি অমুসলিম হয়, তাহলে তাকে ইসলামের দাওয়াত দিতে পারেন। আল্লাহর রাসুল (সা.) তাঁর প্রিয় চাচা আবু তালেবের মৃত্যুর সময় ইসলামের দাওয়াত দিয়েছিলেন। (বুখারি, হাদিস : ৩৮৮৪)
আনাস (রা.) বলেন, মদিনার এক ইহুদি বালক রাসুল (সা.)-এর খেদমত করতেন। সে একবার অসুস্থ হলে নবী করিম (সা.) তাকে দেখতে গেলেন। তিনি বালকটির মাথায় হাত রেখে বলেন, ‘তুমি ইসলাম গ্রহণ করো। ’ সে তার পাশে অবস্থানরত পিতার দিকে তাকাল। পিতা তাকে বলল, আবুল কাসেমের [রাসুল (সা.)-এর উপনাম] অনুসরণ করো। ’ তখন সে ইসলাম গ্রহণ করল। রাসুল (সা.) সেখান থেকে বের হওয়ার সময় বলেন, ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি তাকে আমার মাধ্যমে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিলেন। ’ (বুখারি, হাদিস : ১৩৫৬)
এভাবে দাওয়াত দেওয়ার মাধ্যমে একজন মানুষও যদি হিদায়াতের পথে চলে আসে, এটা ডাক্তারি জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া।
আল্লাহর প্রতি নির্ভরশীলতার শিক্ষা দেওয়া
জীবনের সব ক্ষেত্রে মুসলমানরা একমাত্র আল্লাহর ওপর নির্ভরশীল থাকার ব্যাপারে আদিষ্ট। তাই ডাক্তাররা রোগীকে আল্লাহর ওপর নির্ভরশীল হতে অনুপ্রাণিত করবেন। রোগীকে শেখাবেন যে এই রোগ আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়েছে এবং একমাত্র তিনিই এই রোগের আরোগ্যদাতা। ডাক্তাররা রোগ সারানোর কোনো ক্ষমতা রাখেন না, তাঁরা শুধু রোগীর চিকিৎসা-সেবা ও পরামর্শ দিয়ে থাকেন এবং আল্লাহর হুকুমে সেই চিকিৎসা কার্যকর হয় অথবা অকার্যকর হয়। এই শিক্ষা পাওয়া যায় ইবরাহিম (আ.)-এর জীবন থেকে। ইবরাহিম (আ.) অসুস্থ হয়ে বলেছিলেন, ‘যখন আমি পীড়িত হই, তখন তিনিই (আল্লাহ) আমাকে আরোগ্য দান করেন। ’ (সুরা শুআরা, আয়াত : ৮০)
আর যেহেতু রোগ আল্লাহর ইচ্ছায় হয়ে থাকে, সেহেতু রোগী যেন রোগের ব্যাপারে হতাশ না হয়, রোগকে যেন গালি না দেয় এবং রোগের কষ্টে যেন মৃত্যু কামনা না করে। (বুখারি, হাদিস : ৫৬৭৩)
এই মর্মে ডাক্তাররা রোগীদের অভয় দেবেন এবং আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া করার তাগিদ দেবেন।
আল্লাহভীতি ও ইবাদতের পদ্ধতি শেখানো
অনেক রোগী রোগাক্রান্ত হয়েও ইসলামের বিধি-বিধান না জানার কারণে ইবাদত করতে পারে না। আবার অনেকে সামান্য অসুস্থতার দোহাই দিয়ে সালাত আদায় করে না, আবার কেউ হাসপাতালে বেডে বসে গান শোনে-টিভি দেখে সময় কাটায়। তাই সালাতের আবশ্যকতা, সালাত পরিত্যাগের পরিণতি, অসুস্থাবস্থায় অজু, গোসল, তায়াম্মুম ও অক্ষম অবস্থায় বসে বা শুয়ে থেকে সালাত আদায়ের পদ্ধতি ডাক্তারদের মাধ্যমে শিখলে রোগীরা বেশি প্রভাবিত হয়।
কলেমার তালকিন দেওয়া
ডাক্তাররা মৃত্যুমুখী রোগীদের কলেমার তালকিন (পড়ানো) দেওয়ার বেশি সুযোগ পান। সুতরাং হাসপাতালের বেডে বা অপারেশন থিয়েটারে মরণাপন্ন রোগীকে কলেমার তালকিন দেওয়া ডাক্তারের অন্যতম কর্তব্য। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘‘তোমরা মৃত্যু পথযাত্রীকে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ (আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো ইলাহ নেই) তালকিন দাও (পাঠ করাও)। ’’ (মুসলিম, হাদিস : ১৯১৬)
রাসুল (সা.) আরো বলেন, যার শেষ বাক্য হবে ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (আবু দাউদ, হাদিস : ৩১১৬)
