Sunday, July 19, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরঢাকায় চাঁদাবাজি চরমে

ঢাকায় চাঁদাবাজি চরমে

আমানুর রহমান রনি , ঢাকা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কর্তৃপক্ষের নানা অঙ্গীকার এবং তৎপরতার পরও রাজধানীতে অপরাধের মাত্রা কমানোর ক্ষেত্রে দৃশ্যমান প্রভাব নেই ; বিশেষ করে চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য চরমে উঠেছে । চাঁদাবাজেরা এমনই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে যে আতঙ্ক ছড়াতে গুলি করে তার ভিডিও ধারণ করার ঘটনা পর্যন্ত ঘটেছে । পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন , পরিবর্তিত রাজনৈতিক আবহে শীর্ষ সন্ত্রাসীরা এলাকায় এলাকায় প্রভাব বিস্তারে মরিয়া হয়ে ওঠায় চাঁদাবাজির মতো অপরাধ বেড়েছে । সমস্যার সমাধানে ‘ রাজনৈতিক সহায়তা ‘ দরকার বলে মত দিয়েছেন তাঁরা । চাঁদাবাজদের গুলি করে ভিডিও ধারণের ঘটনাটি ঘটেছে গত সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মোহাম্মদপুরের টাউন হল এলাকায় । চাঁদা চেয়ে না পেয়ে মনির আহমেদ নামের এক আবাসন ব্যবসায়ীর অফিসে ঢুকে গুলি করে সন্ত্রাসীরা । একজন গুলি করার সময় তার ভিডিও করছিল সঙ্গের একজন ।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি » দেড় মাসে ১১৩ চাঁদাবাজির মামলা । » পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ । » মতিঝিল , তেজগাঁও , গুলশানে সবচেয়ে বেশি । » দমনে ‘ রাজনৈতিক সহায়তা ‘ দরকার : পুলিশ তৃতীয় আরেকজন মোটরসাইকেলে বসে অপেক্ষা করছিল । এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে । পুলিশ বলেছে , জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়েছে । তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে । অপহরণের হুমকি দিয়ে আগেই চাঁদা চাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে । স্কুলশিক্ষকের মতো মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষও এর শিকার হয়েছেন । ১৭ মার্চ রাজধানীর গুলশানের একটি স্কুলের শিক্ষিকাকে ফোন করে চাঁদা চাওয়া হয় । অন্যথায় তাঁর সন্তানকে অপহরণের হুমকি দেন ফোন করা ব্যক্তি । ভুক্তভোগী নারী জানান , ফোনে তাঁকে বলা হয়

থানা , পুলিশ , র‍্যাব করে কোনো কাজ হবে না । তাঁর ছেলে বা মেয়েকে তুলে নেওয়া হবে । তা এড়াতে চাইলে এখনই বলতে হবে কত দেওয়া হবে । টাকা না দিলে ছেলের লাশ পাওয়া যাবে । ছেলেপেলে বাসায় গিয়ে পাঁচটি করে গুলি করবে । সন্ত্রাসীর নির্মম ভাষার হুমকিতে আতঙ্কিত হয়ে ওই শিক্ষিকা একপর্যায়ে ফোন রেখে দেন । তবে আবারও ফোন করে হুমকি দেওয়া হতে থাকে । দা ি করা হয় একটি মোটা অঙ্কের চাঁদা । ওই নারী এখনো তাঁর সন্তানদের নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন । পুলিশের অনুসন্ধানে দেখা গেছে , যে

ফোন নম্বর থেকে ওই নারীকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল , তা গোপালগঞ্জের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের এক নারীর নামে নিবন্ধিত । তবে চাঁদা দাবি করা সন্ত্রাসী ফোন করেছিল মাদারীপুরে বসে । এখনো তাঁকে ধরতে পারেনি পুলিশ । এভাবেই রাজধানীতে নানা কায়দায় চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটছে । কখনো ফোনে , কখনো সামনাসামনি ব্যবসায়ী , শিল্পপতি , বাড়ির মালিক , উচ্চ বেতনের চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের কাছে চাঁদা দাবি করা হয় । চাঁদা না দিলেই দেওয়া হয় অপহরণ বা হত্যার হুমকি । কখনো কখনো সত্যি সত্যিই হত্যার ঘটনাও ঘটছে । ডিএমপির সদর দপ্তরের অপরাধ বিশ্লেষণ বিভাগের ( ক্রাইম অ্যানালাইসিস ডিভিশন ) তথ্য বলছে , হুমকি দিয়ে পুরোনো কায়দায়ই চাঁদাবাজি চলছে । তবে হুমকির ধরনে পরিবর্তন এসেছে । কাকে কী বলে হুমকি দিলে কাজ হবে , দৃশ্যত সেটা নিয়ে ভেবেচিন্তে কাজ করছে সন্ত্রাসীরা । আর ঢাকা মহানগর পুলিশের ( ডিএমপি ) তথ্য অনুযায়ী , সবচেয়ে বেশি চাঁদাবাজি হচ্ছে নির্মাণাধীন ভবন

ঢাকায় চাঁদাবাজি চরমে

ও বাণিজ্যিক আবাসন প্রকল্পগুলোতে । শিল্পকারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও চাঁদাবাজির বড় শিকার । ডিএমপির হিসাব বলছে , গত ফেব্রুয়ারি থেকে ১৯ মার্চ পর্যন্ত ৪৭ দিনে ঢাকা মহানগর পুলিশের ৮ টি ক্রাইম বিভাগের ৫০ টি থানায় ১১৩ টি চাঁদাবাজির মামলা হয়েছে । এগুলোর মধ্যে রমনা বিভাগে ১১ টি , লালবাগে ১১ টি , মতিঝিলে ২২ টি , তেজগাঁওয়ে ২০ টি , মিরপুরে ১৭ টি , গুলশানে ১৭ টি , উত্তরা ৬ টি এবং ওয়ারীতে ৮ টি । একই সময়ে এসব মামলায় ১২৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ । এ ছাড়া র‍্যাব গ্রেপ্তার করেছে ২০ জনকে । সবচেয়ে বেশি চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেছে মতিঝিল , তেজগাঁও এবং গুলশানে । রাজধানীর উল্লিখিত তিন এলাকায় চাঁদাবাজি বেশি হওয়ার কারণ জানতে চাইলে ডিএমপির সদর দপ্তরের অপরাধ বিশ্লেষণ বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন , এসব এলাকায় ব্যাংক – বিমা , শিল্পকারখানাসহ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং বিত্তবান মানুষের বসবাস — দুটোই বেশি । অপরাধীরা এ জন্যই এসব এলাকাকে টার্গেট করে বেশি । মোহাম্মদপুরের বছিলা এবং এর আশপাশের এলাকায় অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসন প্রকল্প গড়ে উঠছে । এসব স্থানে প্রায়ই চাঁদাবাজি

করার অভিযোগ আসছে । পুলিশ জানায় , গত ২১ মার্চ বিকেলে বছিলার সিটি হাউজিংয়ে স্টকলট ব্যবসায়ী নাজিম খান অন্তরের কাছে গিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে ফারুক হোসেন নামের এক সন্ত্রাসী । তাঁর সঙ্গে ওই এলাকার বড় সোহান , পিন্টুসহ সাত – আটজন ছিল । ভুক্তভোগী নাজিম খান সঙ্গে সঙ্গে সেনাবাহিনীকে খবর দিলে সেনাসদস্যরা গিয়ে ফারুককে গ্রেপ্তার করেন । চাঁদাবাজির ঘটনা বর্ণনা করে নাজিম খান বলেন , চাঁদা চেয়ে না পেয়ে সন্ত্রাসীরা তাঁকে পথে আটকে মারধর করে । বিষয়টি সেনাবাহিনীকে জানালে সেনাসদস্যরা ফারুককে করেন । পুলিশ জানিয়েছে , ফারুকের বিরুদ্ধে থানায় আরও দুটি চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে ।

গ্রেপ্তার

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি মিরপুরের রূপনগরের দুয়ারীপাড়ার একটি নির্মাণাধীন ভবনে গিয়ে শ্রমিকদের মারধর করে সন্ত্রাসীরা । চাঁদা না পেয়ে রাজমিস্ত্রি নিজাম উদ্দিনকে মারধর করে তারা । এই ঘটনায় রূপনগর থানায় স্থানীয় শফিকসহ ১০ ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা হয়েছে । অভিযুক্ত শফিক রূপনগর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ৬ নম্বর আঞ্চলিক ওয়ার্ডের সেক্রেটারি । শফিকের বক্তব্যের জন্য কয়েকবার ফোন করা হলেও তাঁর নম্বর বন্ধ পাওয়া

যায় ।

ডিএমপির সূত্রই বলেছে , কাজ এগিয়ে নেওয়া নির্বিঘ্ন নেওয়া নির্বিঘ্ন রাখতে নির্মাণাধীন ভবনের চাঁদাবাজির ঘটনায় ভুক্তভোগীরা সাধারণত থানায় অভিযোগ করেন না । অপরাধীদের সঙ্গে আপস করার চেষ্টা করেন । অল্পসংখ্যক লোক সাহস নিয়ে মামলা করেন । সাম্প্রতিক মাসগুলোতে চাঁদাবাজদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের একই ধরনের বেশ কয়েকটি ঘটনার পর ঢাকার ব্যবসাক্ষেত্রে আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করছে । নির্মাণ খাতের অনেক ঠিকাদার হুমকির মুখে কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন । অন্যান্য খাতের ব্যবসায়ীদের অপহরণ বা হামলার শিকার হতে হচ্ছে । পুলিশ কর্মকর্তা এবং ভুক্তভোগীরা বলছেন , গত বছরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কিছুসংখ্যক শীর্ষ অপরাধীর মুক্তিও চাঁদাবাজির মাত্রা বাড়িয়ে তোলার জন্য দায়ী । ডিএমপির একটি সূত্র জানিয়েছে ক্ষমতার হাতবদলের পর চাঁদাবাজদের মুখ পরিবর্তন হয়েছে মাত্র , চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি । গত জানুয়ারিতে এলাকাভিত্তিক চাঁদাবাজদের একটি তালিকা করে অভিযান চালায় যৌথ বাহিনী । তবে তাতে আশানুরূপ ফল আসেনি । চাঁদাবাজেরা রাজনৈতিক প্রশ্রয়ে আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে । গত

এক সপ্তাহে চাঁদাবাজির অভিযোগে একাধিক রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতা – কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে । এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের গঠিত নতুন রাজনৈতিক দলের নেতাও রয়েছেন । ভুক্তভোগীরা দাবি করছেন , ক্ষমতার পালাবদলের পরের অনিশ্চয়তা এবং অস্থিরতার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তাও চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্যের জন্য দায়ী । পুলিশ চিহ্নিত অপরাধীদের যথেষ্ট সংখ্যায় গ্রেপ্তার করছে না । অনেক শীর্ষ সন্ত্রাসী জামিনে বের হয়ে লাপাত্তা রয়েছে । তাদের নামেও চাঁদা দাবি করা হচ্ছে । তবে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ । ডিএমপি দাবি করেছে , পুলিশ ও র‍্যাব চাঁদাবাজি মোকাবিলায় জোরদার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে । ডিএমপির জনসংযোগ শাখার উপকমিশনার মো . তালেবুর রহমান বলেন , ‘ চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আমরা কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছি । ঈদ সামনে রেখে চাঁদাবাজি প্রতিরোধে বিভিন্ন এলাকায় কার্যক্রম বৃদ্ধিসহ টহল ও চেকপোস্ট বাড়ানো হয়েছে । ‘ পুলিশের একটি সূত্র দাবি করেছে , চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকলেও রাজনৈতিক সহায়তা ছাড়া এসব সন্ত্রাসী কার্যক্রম রোধ করা কঠিন ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

14 − 11 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য