Monday, June 1, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরধান নিয়ে দুশ্চিন্তায় তিন লাখ কৃষক পরিবার

ধান নিয়ে দুশ্চিন্তায় তিন লাখ কৃষক পরিবার

এক সপ্তাহ পরই সুনামগঞ্জের হাওরের ধান পাকার কথা। ফসল তোলার প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা কৃষকের। তবে এখন তাঁদের ব্যস্ততা ফসল রক্ষা বাঁধ বাঁচাতেই। দিন-রাত স্বেচ্ছায় কাজ করছেন।তবু ফসল বাঁচবে কি না তা অনিশ্চিত। এই অবস্থায় জেলার তিন লাখ ৭৮ হাজার ৭০৫টি কৃষক পরিবার দুশ্চিন্তায়।


সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিপ্লব চন্দ্র সোম জানান, জেলায় দুই লাখ ২৩ হাজার ৫০৮ হেক্টর জমিতে এবার বোরো আবাদ হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দিরাই উপজেলার চাপতির হাওরে সাড়ে তিন হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান তলিয়ে গেছে। এ পর্যন্ত জেলায় মোট চার হাজার ৩৫০ হেক্টর জমির বোরো ধান তলিয়ে গেছে। তিনি জানান, জেলার ১৩৭টি হাওরসহ কৃষির সঙ্গে তিন লাখ ৭৮ হাজার ৭০৫টি পরিবার জড়িত। হাওর ক্ষতিগ্রস্ত হলে তারাও বিশাল ক্ষতির মুখে পড়ে।

বিপ্লব চন্দ্র সোম বলেন, ‘মাঠ পর্যায়ে কর্মরত আমাদের কৃষি কর্মকর্তাদের তথ্য এবং আমরা সরেজমিন প্রতিদিন বিভিন্ন হাওর ঘুরে যা দেখেছি, সে অনুযায়ী এখনো জেলার ছোট-বড় ১৩৭টি হাওরই ঝুঁকির মুখে আছে। প্রতিটি ফসল রক্ষা বাঁধ ছুঁই ছুঁই করছে পানিতে। ’

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, ২০২১-২২ অর্থবছরে ১২১ কোটি টাকা ব্যয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড ৭২৩টি প্রকল্পের মাধ্যমে হাওরের ৫৩০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণ, মেরামত ও সংস্কার করেছে। এক সপ্তাহ ধরে পাহাড়ি ঢলের চাপে অস্থায়ী বেড়িবাঁধগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন খুব ধীরগতিতে পানি নামছে। এই অবস্থায় উজানে আবারও বৃষ্টিপাত হলে বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে সুনামগঞ্জে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সব কর্মকর্তার ছুটি বাতিল করেছেন পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম। গতকাল সন্ধ্যায় জেলা পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা কমিটি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় নেতা, সুবিধাভোগী, গণমাধ্যম প্রতিনিধি এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় তিনি এ ঘোষণা দেন।

৫ এপ্রিল পানি উন্নয়ন বোর্ডের ধর্মপাশা উপজেলার ৭৫ নম্বর পিআইসির ডুবাইল বাঁধ ভেঙে যায়। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, হাওর ও কংস নদী এখন একাকার। ধনু ও সুরমার পাহাড়ি ঢলের চাপে কংস নদী ফুলে উঠেছে। এতে চন্দ্রসোনার থাল, ধারাম হাওর ও নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার হালদিয়া হাওর ভাঙনের ঝুঁকিতে। ডুবাইল বাঁধটি ভেঙে ধর্মপাশার ১৮৫ হেক্টর জমির আধপাকা বোরো ধান তলিয়ে গেছে। ক্ষীণকায় কংস নদীর অপর পারেই নেত্রকোনার হালদিয়া হাওর এখনো সুরক্ষিত।

নদীর অপর পারের বাঁধটি দেখিয়ে চন্দ্রসোনার থাল হাওরের কৃষক ফেনারবাক গ্রামের সুজন মিয়া বলেন, ‘আমরার হাওর প্রতিবছর অরক্ষিত থাকে। অথচ আমাদের পাশের নদীর ওপারের বাঁধটি সম্পূর্ণ সুরক্ষিত। আমরা বছর বছর টেনশনে মরি। স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধে কাজ করেও শেষ পর্যন্ত রক্ষা করতে পারিনি। ’

চন্দ্রসোনার থাল হাওরের পাশেই ধর্মপাশা উপজেলার ধারাম হাওর। এই হাওরে প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করেছেন কৃষকরা। পাশের হাওরটি তলিয়ে যাওয়ায় এই হাওরের কৃষকরা এখন দুশ্চিন্তায় আছেন। হাওরের কান্দা ও বাঁধে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন তাঁরা।

রাজাপুর গ্রামের কৃষক দীন ইসলাম বলেন, ‘ডুবাইল বাঁধ ভাইঙ্গা গেছেগা। ধান তো আমরা খাটতাম পারছি না। ধান পানির তলে গেছেগা। এখন এই ডরে ধারাম হাওরের কাঁচা ধান কাটতাছে কৃষকরা। পাকা সড়কে পানি আটকানোর জন্য যে বাঁধ দেওয়া হচ্ছে তাতেও ভরসা পাচ্ছেন না কৃষক। ’

গ্রামের কৃষক মো. স্বপন বলেন, ‘বাঁধ ভাইঙ্গা চন্দ্রসোনার থাল হাওরের সব ফসল নষ্ট অইয়া গেছে। এখন পানির ভয়ে কাঁচা ধান কাটতাছি। ইবার আমাদের অনাহারে থাকতে অইব। ’

মান্নানঘাট বাজারের পার্শ্ববর্তী হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধেও ফাটল দেখা দিয়েছে। বাঁধ রক্ষায় দলবেঁধে নেমে পড়েছেন কৃষকরা। পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের সব নদ-নদীর পানি বাড়ায় ঝুঁকির মুখে থাকা বাঁধগুলো রক্ষায় এভাবেই কৃষকরা স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধে কাজ করছেন।

শাল্লা উপজেলার ছায়ার হাওরের ৯০, ৯১, ৯২ নম্বর ফসল রক্ষা বাঁধে স্বেচ্ছায় কাজ করছেন হাজারো কৃষক। তাঁরা রাতেও উড়া, কোদাল, বস্তা নিয়ে অবস্থান করছেন। ঝুঁকিপূর্ণ প্রকল্পের পাশে আরেকটি ছায়াবাঁধ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। কাজ করছেন শত শত কৃষক।

দিরাই উপজেলার জারুলিয়া খেয়াঘাট বাঁধ ভেঙে হাওরে পানি ঢুকে গেছে। আশপাশের কয়েক গ্রামের হাজারো কৃষক বাঁশ, বস্তা, উড়া, কোদাল নিয়ে বাঁধ রক্ষায় কাজ করছেন।

হাওরের কৃষি ও কৃষক রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সদস্যসচিব অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার বলেন, প্রতিটি হাওরের অস্থায়ী বাঁধ এখন ঝুঁকিতে। বাঁধ নির্মাণ ও প্রকল্প গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম আছে। অবৈজ্ঞানিকভাবে হাওরের পরিবেশ-প্রতিবেশকে মাথায় না নিয়ে যত্রতত্র প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এগুলো এখন হাওরের জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শাল্লা উপজেলার মোহনখল্লী গ্রামের কৃষক অপু রঞ্জন সরকার বলেন, ‘ছায়ার হাওরটি অনেক বড়। পার্শ্ববর্তী ইটনা, মিঠামইন, খালিয়াজুরী এলাকা নিয়ে বিস্তৃত এই হাওর। দুই দিন ধরে এলাকার শত শত কৃষক ৯০ নম্বর প্রকল্পে স্বেচ্ছায় কাজ করছেন। বাঁধের নিচে একাধিক গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। চুইয়ে চুইয়ে পানি ঢুকছে। ’

জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘পাহাড়ি ঢলের কারণে আমাদের হাওরের সব বাঁধই এখন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। আমরা স্থানীয় প্রশাসনসহ সবাইকে বাঁধ রক্ষায় তদারকিসহ কাজ করার আহ্বান জানিয়েছি। গ্রামের সাধারণ কৃষকরা স্বেচ্ছায় ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলোতে কাজ করছেন। আমরা তাঁদের বাঁশ, বস্তা ও জিও ব্যাগ দিয়ে সহযোগিতা করছি। এই কয়েকটা দিন কোনো মতে আমরা কাটিয়ে উঠতে পারলে আশা করি হাওরের ফসল তুলতে সক্ষম হব। ’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

5 + 1 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য