Friday, June 5, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরআন্তর্জাতিকনথি ফাঁস: গাজায় ইসরায়েলকে সহায়তায় লোহিত সাগরের ঘাঁটি ব্যবহার করেছে সংযুক্ত আরব...

নথি ফাঁস: গাজায় ইসরায়েলকে সহায়তায় লোহিত সাগরের ঘাঁটি ব্যবহার করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত

২০২৩ সালের অক্টোবরের একটি ফাঁস হওয়া নথি ইঙ্গিত দেয় যে, সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE) গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যামূলক যুদ্ধকে সমর্থন দেওয়ার জন্য লোহিত সাগর অঞ্চলজুড়ে অবস্থিত একাধিক সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছিল।

নথিটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের সশস্ত্র বাহিনীর যৌথ অপারেশন কমান্ড–এর উদ্দেশ্যে লেখা। এতে বলা হয়েছে, ইয়েমেন, ইরিত্রিয়া ও সোমালিয়ায় অবস্থিত এক নেটওয়ার্কভুক্ত সামরিক ঘাঁটির মাধ্যমে ইসরায়েলকে সামরিক, লজিস্টিক ও গোয়েন্দা সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন আমিরাতি কর্মকর্তারা। নথিটি Emirates Leaks নামের একটি ওয়েবসাইট সংগ্রহ ও প্রকাশ করে, এবং পরে এটি আঞ্চলিক গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবেই এই পরিকল্পনাকে উপস্থাপন করেছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত। এক অংশে বলা হয়,

“ফিলিস্তিনে সন্ত্রাসীদের দ্বারা ভ্রাতৃপ্রতিম রাষ্ট্র ইসরায়েলের ওপর আক্রমণ শুরু হয়েছে”—
যা পুরো নথির রাজনৈতিক ও সামরিক অবস্থান স্পষ্ট করে।

নথিতে বারবার আবুধাবি ও তেল আবিবের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

নথিতে স্পষ্টভাবে আব্রাহাম চুক্তি–এর উল্লেখ রয়েছে। সেখানে বলা হয়:

“সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েল রাষ্ট্রের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সাংস্কৃতিক, কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্ক বিদ্যমান, এবং ২০২০ সালের ঐতিহাসিক চুক্তির পর এই সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে।”

এই সম্পর্কের যুক্তিতেই আমিরাত-নিয়ন্ত্রিত সামরিক স্থাপনাগুলোর মাধ্যমে সরাসরি অপারেশনাল সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি ন্যায্যতা দেওয়া হয়।

লোহিত সাগর অঞ্চলের সামরিক ঘাঁটি

ফাঁস হওয়া নথিতে লোহিত সাগরের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত একাধিক UAE-সম্পর্কিত সামরিক ঘাঁটিকে পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে—

ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে আল-মোখা,

ইরিত্রিয়ার মাসাওয়া ও আসাব,

সোমালিয়ার বেরবেরা ও বাসা।

নথিতে এসব ঘাঁটিকে হামাসের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের অভিযানে সহায়তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

একটি নির্দেশনায় বলা হয়, ইয়েমেনের ঘাঁটিসহ সব ঘাঁটিকে “ইসরায়েল রাষ্ট্রকে সহায়তা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু দিয়ে” প্রস্তুত করতে “দ্রুত প্রস্তুতি ও সক্ষমতা মোতায়েন” করতে হবে। ভাষার ভঙ্গি থেকে বোঝা যায়, কাজটি দ্রুতগতিতে এবং বিদ্যমান অবকাঠামো সর্বোচ্চভাবে ব্যবহার করে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা ছিল।

নথিতে আরও বলা হয়, পরিকল্পিত সহায়তার জন্য ঘাঁটিগুলোর প্রস্তুতি ও সক্ষমতা যাচাই করতে আমিরাতি সামরিক কর্মকর্তারা বিভিন্ন ঘাঁটি পরিদর্শন করেন। এসব সফরকে অস্ত্র পরিবহন, লজিস্টিক কার্যক্রম ও গোয়েন্দা তৎপরতা পরিচালনার উপযোগিতা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

অস্ত্র সরবরাহ / অস্ত্র স্থানান্তর

ফাঁস হওয়া নথিতে অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে শেষের দিকের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে নেওয়া কিছু নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তের বিবরণ রয়েছে।

১৯ অক্টোবর, আমিরাতি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাঈদ আল-মারজুকি ইয়েমেনের জাতীয় প্রতিরোধ বাহিনীর ব্রিগেডিয়ার তারেক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ সালেহ–এর সঙ্গে আল-মোখা ঘাঁটির অপারেশন কক্ষে বৈঠক করেন।

বৈঠকে ইয়েমেনের জাতীয় প্রতিরোধ বাহিনী ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি যোগাযোগ চ্যানেল খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে “সব হালকা ও মাঝারি অস্ত্র” ইসরায়েলে পাঠানোর জন্য প্রযুক্তিগত ও লজিস্টিকভাবে প্রস্তুত করার সিদ্ধান্ত হয়।

এর দুই দিন পর, ২১ অক্টোবর, ইরিত্রিয়ার আসাব ঘাঁটিতে অনুষ্ঠিত আরেক বৈঠকে ঘাঁটিটিকে “সব ধরনের লজিস্টিক সহায়তা” দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি দাহলাক দ্বীপ ও দাহলাক দ্বীপপুঞ্জের সব স্থাপনাকে ইসরায়েলে সরবরাহের উদ্দেশ্যে বরাদ্দ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

নথি অনুযায়ী, এই পরিকল্পনার আওতায় হেলিকপ্টার, ভাসমান জেটি ও যোগাযোগ কেন্দ্র ব্যবহার করে বিমানবন্দর মারফত তেল আবিবে সরবরাহ পাঠানোর ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

গোয়েন্দা সহায়তা

নথিতে গোয়েন্দা সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ২১ অক্টোবর মাসাওয়া ঘাঁটিতে অনুষ্ঠিত আরেক বৈঠকে আমিরাতি কর্মকর্তারা একটি অপারেশন কক্ষের দায়িত্ব পুনর্নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেন।

এর আগে এই অপারেশন কক্ষটি ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে মুসলিম ব্রাদারহুড–সম্পৃক্ত দল আল-ইসলাহ–এর কার্যক্রম নজরদারির দায়িত্বে ছিল। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এটিকে ইসরায়েলের জন্য একটি গোয়েন্দা সহায়তা কেন্দ্রে রূপান্তর করা হবে। এতে স্থানীয় নজরদারি থেকে সরে এসে ইসরায়েলের যুদ্ধ প্রচেষ্টায় সরাসরি যুক্ত হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

নথিতে বলা হয়, UAE বাইরের সহায়তাও চেয়েছিল। সেখানে উল্লেখ রয়েছে, আমিরাতি কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বেসরকারি গোয়েন্দা সংস্থা Stratfor–এর সহায়তা চান, যার একটি সম্মানসূচক অফিস মাসাওয়া ঘাঁটিতে রয়েছে। বৈঠকে Stratfor–এর প্রতিনিধি রায়ান পল উপস্থিত ছিলেন বলেও নথিতে উল্লেখ আছে।

আঞ্চলিক উত্তেজনা

নথির শেষের দিকে ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। এতে দাবি করা হয়, হামাসকে কাতার যে “ব্যাপক সহায়তা” দিয়েছে—আর্থিক ও লজিস্টিক উভয় ক্ষেত্রেই—তা নিয়ে UAE “বিস্তৃত তদন্ত” চালিয়েছে।

নথিতে বলা হয়, এই সহায়তা ছিল “অত্যন্ত ব্যাপক”। পাশাপাশি কুয়েতের সহায়তাকে এমন পর্যায়ের বলা হয়েছে, যা “দক্ষিণ লোহিত সাগর অঞ্চলে আমাদের যেকোনো চলাচলে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।”

পরবর্তীতে কুয়েতকে UAE–এর “শত্রুভাবাপন্ন পক্ষগুলোর একটি” হিসেবে উল্লেখ করা হয়, যা অঞ্চলে বাড়তে থাকা উত্তেজনাকে স্পষ্ট করে।

নথির উপসংহারে বলা হয়,

“ফিলিস্তিনের সন্ত্রাসীরা পরাজিত না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলকে সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত থাকবে।”

Emirates Leaks–এর মতে, এই নথি গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধের সময় এক গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথজুড়ে বিস্তৃত ঘাঁটির নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ইসরায়েলকে সমর্থনে UAE–এর সরাসরি সামরিক সম্পৃক্ততার এক নজিরবিহীন মাত্রা তুলে ধরে।

নথিটি ডাউনলোড করে সম্পূর্ণ পড়ার লিংক

5Pillars থেকে অনুবাদকৃত

Source5Pillars

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

15 + seventeen =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য