স্কটল্যান্ডের প্রথম মুসলিম ফার্স্ট মিনিস্টার হিসেবে নির্বাচিত হয়ে শপথ নিয়েছেন হামজা ইউসুফ। এডিনবার্গের ঐতিহাসিক বুট হাউসের প্রথম রাতে পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে ইমাম হিসেবে নামাজ পড়ান তিনি। গত বুধবার টুইটারে রমজানের ইফতারের পর নামাজ পড়ানোর ছবি শেয়ার করে তিনি লিখেন, ‘আজকের সংসদীয় ভোটের পর বুট হাউসে আমার পরিবার ও আমি। একসঙ্গে ইফতার করার পর বুট হাউসে পরিবারকে নিয়ে নামাজে ইমামতির বিশেষ মুহূর্ত।’
গত সোমবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে স্কটিশ পার্লামেন্টের ১২৯ আসনের ৭১টি ভোট পান হামজা ইউসুফ। সদ্য পদত্যাগ করা নিকোলা স্টার্জেনের স্থলাভিষিক্ত ইতিমধ্যে শপথ গ্রহণ করেছেন তিনি। এর আগে তিনি স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির (এসএনপি)-এর হয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এরই মধ্যে হামজা ইউসুফ তার মন্ত্রিপরিষদের ঘোষণা দিয়েছেন। এতে অর্থমন্ত্রী হিসেবে রয়েছেন শোনা রবিনসন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে মাইকেল ম্যাথিসন, শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে জেনি গিলরুথ। ১৯৯৯ সালে সংস্কারের পর যুক্তরাজ্যের আধা-স্বায়ত্ত শাসিত স্কটিশ পার্লামেন্টের সব চেয়ে কম বয়সী ফার্স্ট মিনিস্টার বয়সী হামজা ইউসুফ (৩৭)।
নির্বাচনে জয়ী হওয়া পর এক বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমাদের সবার যে কারণে গর্ব করা উচিত তা হলো, আজ আমরা সবার কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছি যে আপনার গায়ের রঙ বা আপনার বিশ্বাস আমরা যাকে দেশ বলে থাকি তা পরিচালনায় কোনো বাধা নয়।’
সবার নেতা হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘সবার স্কটল্যান্ডের জন্য’ আমরা একটি নাগরিক আন্দোলন শুরু করব। তা স্বাধীনতার জন্য আমাদের পতচলাকে গতিশীল করবে। আমরা হব সেই প্রজন্ম যারা স্কটল্যান্ডের জন্য স্বাধীনতা এনে দেবে।’
হামজা ইউসুফ গত ২০ ফেব্রুয়ারি গ্লাসগোর ক্লাইডব্যাঙ্ক শহর থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন। কারণ তাঁর কাছে এক সময়ের জাহাজ নির্মাণে প্রসিদ্ধ এই শহরের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ১৯৬২ সালে তার দাদা মোহাম্মদ ইউসুফ স্কটল্যান্ডে এসে এখানেই প্রথম চাকরি শুরু করেছিলেন।
অতীতের স্মৃতিচারণা করে তখন তিনি বলেন, ‘পাঞ্জাব থেকে পার্লামেন্ট পর্যন্ত আমার যাত্রা বর্তমান প্রজন্মের জন্য উৎসর্গ করলাম। আমার দাদা কখনো কল্পনা বা স্বপ্নেও দেখেননি যে তার নাতি স্কটল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য নির্বাচন করবে। আমি বিশ্বাস করি, সব ধরনের বিভক্তি দূর করার প্রয়োজনীয় দক্ষতা আমার রয়েছে।’
হামজা ইউসুফ ১৯৮৫ সালে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পরিবার ১৯৬০ সালে পাকিস্তানের পাঞ্জাব থেকে স্কটল্যান্ডে পাড়ি জমান। তিনি গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতিবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ২০২১ সাল থেকে স্বাস্থ্য ও সমাজসেবা মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছিলেন স্কটিশ সরকারের প্রথম অশ্বেতাঙ্গ মন্ত্রী। ২০১৬ সালে স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির (এসএনপি) সদস্য হিসেবে গ্লাসগো পোলোকের স্কটিশ পার্লামেন্টের সদস্য ছিলেন তিনি। ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত গ্লাসগো অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করেন তিনি।
উল্লেখ্য, স্কটল্যান্ডে প্রায় ৭৫ হাজার মুসলিম বসবাস করেন। তাদের মধ্যে ৪০ শতাংশের বসবাস গ্লাসগো শহরে। দেশটিতে মুসলিমরা দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় জনগোষ্ঠী। দেশটিতে প্রায় ৩০টির মতো মসজিদ রয়েছে।
সূত্র : দি ন্যাশনাল
