Wednesday, September 23, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeসীরাতপাহাড়ি দীনিবন্ধু উমার ফারুক ত্রিপুরা (১৪৪২ হি) রহিমাহুল্লাহর সংক্ষিপ্ত জীবনালেখ্য

পাহাড়ি দীনিবন্ধু উমার ফারুক ত্রিপুরা (১৪৪২ হি) রহিমাহুল্লাহর সংক্ষিপ্ত জীবনালেখ্য

জন্ম ও প্রাথমিক জীবনঃ ত্রিপুরা একটি উপজাতির নাম। ত্রিপুরারা সাধারণত সনাতন ধর্মের অনুসারী। [১] এই ত্রিপুরা উপজাতির মধ্যেই জন্ম হয় পূর্ণেন্দু ত্রিপুরার, পরবর্তীতে যিনি উমার ফারুক ত্রিপুরা নামে আবির্ভূত হন। [২] তিনি বান্দরবান জেলার রোয়াংছড়ি সদর ইউনিয়নের তুলাছড়ির বাসিন্দা। তার বয়স নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকার পাতায় ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দেয়া হয়েছে, যথাক্রমে ৫৫/৫৪/৫০/৪৫ বছর। [৩] সে হিসেবে বলা যায় আনুমানিক ১৯৬৬-১৯৭৬ সাল মধ্যবর্তী সময়ে তাঁর জন্ম। তবে আমি আল্লাহর বান্দা মনে করি তাঁর প্রকৃত জীবন হচ্ছে আরো ক্ষুদ্র, আর তা হচ্ছে মাত্র সাত বছর। আর আমাদের মূল আলোকপাতের বিষয়বস্তুও হলো এই সাতটি বছর। ২০১৪ সালে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন, ২০১৪ থেকে ২০২১ এটিই হচ্ছে তাঁর প্রকৃত জীবন। প্রিয় নবী কারীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছন্দে ছন্দে বলেছিলেন,
اللَّهُمَّ لاَ عَيْشَ إِلَّا عَيْشُ الآخِرَهْ
“হে আল্লাহ, নেই কোনো জীবন পরকালের জীবন ছাড়া।” [৪]


নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আখিরাতের জীবনের তুলনায় দুনিয়ার জীবনকে যদি কোনো জীবনই মনে না করেন তাহলে আল্লাহর মনোনীত ইসলামকে ছেড়ে আল্লাহর অবাধ্যতায় কুফরির যে জীবন কেটেছে তা তো কোনো জীবনের কাতারেই নয়। তাঁর প্রকৃত জীবন হচ্ছে জীবনের এই শেষ ৭টি বছর, যা তাঁর জীবনের মূল উদ্দেশ্য অর্থাৎ, আল্লাহর বন্দেগী পালনার্থে ব্যয় হয়েছে। আল্লাহ বলেছেন,
وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ
“আমি জ্বিন ও ইনসানকে সৃষ্টি করেছি শুধুমাত্র আমার ইবাদাত করার জন্য।” [৫]
.
অবশেষে ইসলামে প্রত্যাবর্তনঃ উমার ফারুক ত্রিপুরা প্রথমে ছিলেন পূর্নেন্দু ত্রিপুরা, তখন তিনি ছিলেন সনাতন ধর্মের অনুসারী। পুর্নেন্দু ত্রিপুরার বাবা বৌদ্ধ ধর্ম থেকে খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। বাবার সাথে সাথে তিনিও খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত হন। এরপর তৃতীয়বার এবং শেষবারের মতো আসেন ইসলামের ছায়াতলে। [৬] ইসলাম গ্রহণের পর তিনি উমার ফারুক নাম ধারণ করেন। বান্দরবান জেলার ত্রিপুরা উপজাতির প্রথম ব্যক্তি হিসেবে যিনি ইসলাম গ্রহণ করেন তিনি হচ্ছেন উমার ফারুক ত্রিপুরা রহিমাহুল্লাহ। [৭]


মনে পড়ে যায় মহান আল্লাহর সেই বাণী,
إِنَّ إِبْرَاهِيمَ كَانَ أُمَّةً قَانِتًا لِلَّهِ حَنِيفًا وَلَمْ يَكُ مِنَ الْمُشْرِكِينَ
“নিশ্চয়ই ইবরাহীম ছিলেন (একাই) এক উম্মাহ, আল্লাহর একান্ত অনুগত, একনিষ্ঠ এবং তিনি ছিলেন না মুশরিকদের অন্তর্গত।” [৮]
.
ইসলাম গ্রহণের পর থেকেই বিভিন্ন সময় হুমকি-ধমকি বজ্রাঘাতের মতো আঘাত হানতে থাকে। [৯] তাঁর নিজের দেয়া সংক্ষিপ্ত এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান ২০১৪ সালে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। ইসলামে কিভাবে আসলেন জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি শুধু একটি কথাই বললেন যে, “আল্লাহ আমাকে আহ্বান করেছেন।” পরে আবার জিজ্ঞাসা করা হলে ছোট্ট করে বললেন যে, এক বন্ধুর কাছে আসা-যাওয়া করতে করতে এমন হয়েছে, তবুও শেষে সেই একই কথাই বললেন – “আল্লাহ আমাকে আহ্বান করেছেন।” মনে পড়ে গেলো সেই আয়াতটি, যেখানে আল্লাহ বলেছেন,
وَاللَّهُ يَدْعُو إِلَى دَارِ السَّلَامِ وَيَهْدِي مَنْ يَشَاءُ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ
“আর আল্লাহ দারুস সালামের (শান্তির আবাস) দিকে আহ্বান করেন এবং যাকে ইচ্ছা সরল পথের দিকে হিদায়াত দেন।” [১০]


সত্যিই আল্লাহ যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দেন। যে জানে না ঠিক মতো বাংলা, যে জানে না শহর-নগরের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের ভাষা, যে বসবাস করে দুর্গম পাহাড়ে আল্লাহ চাইলে তাঁকেও হিদায়াত দান করতে পারেন। পাহাড়ে তিনি যে মাসজিদ নির্মাণ করেছিলেন তার নাম ছিলো বাইতুস সালাম মানে শান্তির ঘর। [১১] আল্লাহ তাঁকে বাইতুস সালামের বিনিময়ে দারুস সালামে ঘরের ব্যবস্থা করে দিন। প্রিয় নবী মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
مَنْ بَنَى مَسْجِدًا لِلَّهِ تَعَالَى – قَالَ بُكَيْرٌ: حَسِبْتُ أَنَّهُ قَالَ: يَبْتَغِي بِهِ وَجْهَ اللهِ – بَنَى اللهُ لَهُ بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ «وَقَالَ ابْنُ عِيسَى فِي رِوَايَتِهِ» مِثْلَهُ فِي الْجَنَّةِ “
“যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর জন্য মাসজিদ বানালো”, (বর্ণনাকারী) বুকাইর বলেন, আমার ধারণা তিনি বলেছেন, “(মাসজিদ নির্মাণ) এর মাধ্যমে আল্লাহর সন্তোষ কামনা করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে বাড়ি বানালেন।” ইবনু ঈসা তার বর্ণনায় বলেছেন, “জান্নাতের মধ্যে অনুরূপ (বাড়ি বানাবেন)।” [১২]
.
পাহাড়ি ছোট্ট মাসজিদ!! মাসজিদ ক্ষুদ্র হলেও ছোট করে দেখার সুযোগ নেই, আল্লাহর জন্য যা করা হয় তা সবই বড়। নবী মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঘোষণা –
مَنْ بَنَى مَسْجِدًا لِلَّهِ كَمَفْحَصِ قَطَاةٍ، أَوْ أَصْغَرَ، بَنَى اللَّهُ لَهُ بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ
“যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য ডিম পাড়ার খোপের ন্যায় কিংবা এর চেয়েও ছোট মাসজিদ বানালো, আল্লাহ তাঁর জন্য জান্নাতে বাড়ি বানালেন।” [১৩]
.
ইসলামের পথে উমার ফারুক ত্রিপুরার জীবনটি খুব ক্ষুদ্র। কিন্তু এই মাসজিদের মাধ্যমে তিনি কবরে বসে বসেও সাওয়াব পাওয়ার রাস্তা তৈরি করে গেছেন। আল্লাহর রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
سَبْعٌ يَجْرِي لِلْعَبْدِ أَجْرُهُنَّ مِنْ بَعْدِ مَوْتِهِ، وهُو فِي قَبْرِهِ: مَنْ عَلَّمَ عِلْمًا، أَوْ كَرَى نَهْرًا، أَوْ حَفَرَ بِئْرًا، أَوْ غَرَسَ نَخْلا، أَوْ بَنَى مَسْجِدًا، أَوْ وَرَّثَ مُصْحَفًا، أَوْ تَرَكَ وَلَدًا يَسْتَغْفِرُ لَهُ بَعْدَ مَوْتِهِ
“সাত ধরণের ব্যক্তির মৃত্যুর পর কবরে থাকা অবস্থায়ও সাওয়াব অব্যাহত থাকেঃ


১) যে কোনো ইল্‌ম শিক্ষা দিলো। ২) অথবা যে নদী খনন করলো। ৩) অথবা যে কূপ খনন করলো। ৪) অথবা যে খেজুরগাছ লাগালো। ৫) অথবা যে মাসজিদ বানালো। ৬) অথবা যে কাউকে (কুরআনের) মুসহাফের (কপি) উত্তরাধিকারী (মালিক) বানিয়ে দিলো। ৭) অথবা যে এমন সন্তান রেখে গেলো – যে তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর জন্য ক্ষমা প্রার্থণা করে।” [১৪]
মাত্র ৭ বছরের ক্ষুদ্র সফর, এরই মাঝে সন্তানদেরকেও চেষ্টা করেছেন আদর্শ মুসলিম হিসেবে তৈরি করতে, যা আমরা সামনে দেখতে পাবো ইন শা আল্লাহুল আযীয।
.
পারিবারিক আমানতঃ উমার ফারুক ত্রিপুরা রহিমাহুল্লাহর পরিবারে স্ত্রী, তিন মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। তাঁর হাত ধরে পুরো পরিবার ইসলামের ছায়াতলে চলে আসে। নিজের মুসলমানিত্ব নিয়েই তিনি পড়ে থাকেননি, তালিম-তরবিয়তের মাধ্যমে নিজের পরিবারকে কিভাবে একটি আদর্শ ইসলামী পরিবারে রূপান্তরিত করা যায় সেই চিন্তা তাঁকে তাড়া করে বেড়িয়েছে। সবগুলো ছেলে-মেয়েকে তিনি মাদ্‌রাসায় ভর্তি করিয়েছেন। ভালো মানের দীনি শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে সুদূর বান্দরবনের পাহাড়ি অঞ্চল ছাড়িয়ে বড় ও মেজো মেয়েকে ঢাকায় এনে মাদ্‌রাসায় ভর্তি করিয়েছেন। বড় মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন, তিনি স্বামীর সাথে বর্তমানে ঢাকায় বসবাস করেন। বাকীরা এখনও লেখাপড়া করছে। [১৫]
.
দীনের দাওয়াত পাহাড়ে পাহাড়েঃ মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়তের প্রথম দিকের ঘটনা, আল্লাহ আয়াত নাযিল করলেন,
يَا أَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ (1) قُمْ فَأَنْذِرْ (2)
“হে বস্ত্রাবৃত, উঠুন অতঃপর সতর্ক করুন।” [১৬]


উমার ফারুক ত্রিপুরাও আর বসে থাকতে পারেননি। মানুষকে সতর্ক করতে ছুটে গিয়েছেন এ পাহাড় হতে ও পাহাড়ে। তাঁর উসীলায় তাঁর নিজের পাহাড়ি এলাকা তুলাছড়িতে ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় নেয় মোট দশটি পরিবার। আশপাশের পাহাড়ি অঞ্চলগুলো মিলিয়ে মোট ৩০-৩২টি পরিবারের প্রায় দেড় শতাধিক মানুষ তাঁর হাত ধরে ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় নেয়; পাহাড়ি এই সাদামনের মানুষগুলো খুঁজে পায় জান্নাতের পথ। আমরা কয়জনকে মুসলিম বানাতে পেড়েছি, কয়জনকে নামাজি বানাতে পেরেছি?? ত্রিশ বছরের জীবনে, ষাট বছরের জীবনে?? এখানেও বড় ভাগ্য বলতে হয় উমার ফারুক ত্রিপুরার। প্রিয় নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
مَنْ دَلَّ عَلَى خَيْرٍ فَلَهُ مِثْلُ أَجْرِ فَاعِلِهِ
“যে ব্যক্তি কল্যাণের পথ দেখায় তাঁর প্রতিদান হচ্ছে কল্যাণকর কর্মটি সম্পাদনকারী ব্যক্তির ন্যায়।” [১৭]
উমার ফারুক ত্রিপুরা এই ত্রিশ-বত্রিশটি পরিবারকে ইসলামের পথ দেখিয়ে গেছেন, যতোদিন তারা ইসলামকে অনুসরণ করবে ততোদিন তিনিও সাওয়াব লাভ করবেন ইন শা আল্লাহ।
.
পাহাড়ে মুসলিমদের সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে দেখা দেয় মাসজিদের প্রয়োজন। উমার ত্রিপুরাই সর্বপ্রথম তুলাছড়ি পাহাড়ে মাসজিদ নির্মাণ করেন। এজন্য ওয়াক্‌ফ করেন নিজের এক একর জমি। ইমামও তিনি, মুয়াযযিনও তিনি। [১৮] চারিদিকে সব খ্রিস্টান পরিবার। পাহাড়ে ওৎ পেতে আছে পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা। যেখানে ইসলাম গ্রহণ করা মানেই রীতিমতো জীবনকে হুমকির মুখে ফেলে দেয়া, সেখানে প্রকাশ্যে মাসজিদ নির্মাণ করে উমার ফারুক ত্রিপুরা রহিমাহুল্লাহ অসীম সাহসীকতার পরিচয় দেন। প্রকাশ্যে আযান, সলাত, ইবাদাত চলতে থাকে। এক পর্যায়ে ২০১৮ সালে মাসজিদে মাইক লাগিয়ে তিনি আযান দেয়া শুরু করেন। সূত্র মতে, এই মাইক লাগানোর পর থেকে তার উপর নতুন করে প্রাণনাশের হুমকি শুরু হয়। [১৯]
.
মাওলা উমার ফারুক ত্রিপুরাঃ তাঁর হাত ধরে ত্রিশ থেকে বত্রিশটি পরিবার ইসলাম গ্রহণ করেছে তা আমরা আগেই বলেছি। উমার ফারুক ত্রিপুরাই হয়ে উঠেন এই ত্রিশোর্ধ মুসলিম পরিবারের অভিভাবক। মুসলিম মনীষীদের হাতে রচিত ইসলামী ইতিহাসের গ্রন্থগুলোতে নজর বুলালে আমরা দেখতে পাবো যে, যে বা যারা যাঁর হাতে ইসলাম গ্রহণ করতো তাঁকে তার বা তাদের বন্ধু/অভিভাবক বুঝাতে ‘মাওলা’ বলা হতো। দেখা যেতো এই মাওলারাই তাদের অভিভাবকত্ব করতেন, দেখভাল করতেন। পাহাড়ি যে পরিবারগুলো উমার ফারুক ত্রিপুরার হাতে ইসলাম গ্রহণ করেছিলো তিনি সত্যিকারার্থেই তাঁদের মাওলা হয়ে উঠেন। নওমুসলিমদের ইবাদাতের স্রোতধারাকে বেগবান করতে তিনি মাসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন। পরিবারের কর্মক্ষম পুরুষদের জন্য তিনি কাজের খোঁজ করতেন, কাজের খোঁজ দিতে পারে এমন লোকদের সঙ্গে কথা বলতেন, প্রয়োজনে তাঁদেরকে শহরে পর্যন্ত স্থানান্তরিত করতেন। বিত্তবান মানুষদের দানকৃত জিনিসপত্র ও আর্থিক অনুদান তাঁর হাত ধরেই সকলের কাছে পৌঁছাতো। [২০]
.
সাদা দিলের মানুষঃ তিনি সাদা দিলের এক অমায়িক মানুষ। সর্বদা হাসি মুখে থাকতেন। তাঁর একান্ত সংস্পর্শে সময় কাটানো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ভাই আতহার নূরের দেয়া তথ্যমতে – তিনি কথা খুব কম বলতেন। কিন্তু যা বলতেন প্রয়োজনীয় কথা বলতেন। (আমার মতে তাঁর সাক্ষাৎকারটিও যার প্রমাণ) তিনি ছিলেন শান্ত মেজাজ ও প্রচন্ড ধৈর্য্যশীল অমায়িক একজন মানুষ। আযানের আগেই মাসজিদে বসে থাকতেন। [২১]
.
হক্বের পথে বাঁধা-ভয় ডিঙিয়ে তবেই হবে জয়ঃ হক্বের পথে বাঁধা, ভয় ও বিপত্তি নতুন কিছু নয়। এজন্যই সূরাতুল আসরে এসেছে
وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِّ وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ
“আর তারা একে অপরকে হক্বের সুপারিশ দিয়েছে এবং সবরের সুপারিশ দিয়েছে।” [২২]
.
উমার ফারুক ত্রিপুরার ওপর যেসব বাঁধা, ভয়, যুলুম-অত্যাচার নেমে এসেছিলো তাঁর একটি চিত্র তুলে ধরেছে দৈনিক পার্বত্যনিউজ। আমরা তা হুবহু তুলে ধরলাম –
ঢাকা থেকে রোয়াংছড়িতে ফিরে আসার পর শান্তিবাহিনী তার বাড়িতে গিয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের জন্য প্রাণনাশের হুমকি দেয়। কিন্তু সাহসী ওমর ফারুক তাদেরকে বলে, ধর্ম পরিবর্তন তার গণতান্ত্রিক অধিকার। কাজেই কোনো ভুল বা অন্যায় তিনি করেননি। তবুও সন্ত্রাসীরা তাকে হুমকি দিলে তিনি সন্ত্রাসীদের বলেন, তোমরা কী করবা আমার। প্রাণ নিবা, নাও আমি বুক পেতে দিলাম। গুলি করো। আমি শহীদ হয়ে যাবো। এই বলে তিনি জামার বোতাম খুলে সন্ত্রাসীদের সামনে বুক চেতিয়ে দাঁড়ান। সেদিন ওমর ফারুকের ত্বাকওয়া ও ঈমানী চেতনার কাছে হতবিহ্বল হয়ে সন্ত্রাসীরা তাকে গুলি না করে ফিরে যায়। [২৩]
.
কবির ভাষায় –
যারা আল্লাহর পথে চলে, আল্লাহর কথা বলে
আল্লাহকে ভালোবেসে সঁপেছে জীবন,
তাদের কীসের ভয়, কে করে পরাজয়
শহীদি তামান্নাতে নাচে তার মন।
.
ফের নতুন করে হুমকি আসে মাসজিদে মাইক স্থাপনের পর। পার্বত্যনিউজ বলছে –
এক পর্যায়ে ২০১৮ সালে এই মসজিদে তিনি মাইক লাগিয়ে আজান দেয়া শুরু করেন। সূত্র মতে, এই মাইক লাগানোর পর থেকে তার উপর নতুন করে প্রাণনাশের হুমকি শুরু হয়। তিনি প্রায়ই তার পরিবার, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের নিকট বলতেন, ওরা আমাকে হত্যা করবে। [২৪]
.
দীনের জন্য আত্মত্যাগঃ মক্কায় সাহাবাদের উপরও নেমে এসেছিলো যুলুমের স্টিমরোলার। সেই ব্যথা নিয়ে তারা এসেছিলো নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে, নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদেরকে শুনালেন আশার বাণী, তিনি বললেন,
قَدْ كَانَ مَنْ قَبْلَكُمْ، يُؤْخَذُ الرَّجُلُ فَيُحْفَرُ لَهُ فِي الأَرْضِ، فَيُجْعَلُ فِيهَا، فَيُجَاءُ بِالْمِنْشَارِ فَيُوضَعُ عَلَى رَأْسِهِ فَيُجْعَلُ نِصْفَيْنِ، وَيُمْشَطُ بِأَمْشَاطِ الحَدِيدِ، مَا دُونَ لَحْمِهِ وَعَظْمِهِ، فَمَا يَصُدُّهُ ذَلِكَ عَنْ دِينِهِ، وَاللَّهِ لَيَتِمَّنَّ هَذَا الأَمْرُ، حَتَّى يَسِيرَ الرَّاكِبُ مِنْ صَنْعَاءَ إِلَى حَضْرَمَوْتَ، لاَ يَخَافُ إِلَّا اللَّهَ، وَالذِّئْبَ عَلَى غَنَمِهِ، وَلَكِنَّكُمْ تَسْتَعْجِلُونَ
“তোমাদের আগেকার যেসব লোকেরা ছিলো তাদের অবস্থা ছিল এই যে, তাদের জন্য মাটিতে গর্ত খুঁড়া হতো এবং ঐ গর্তে তাকে পুঁতে রেখে করাত দিয়ে তার মাথা দ্বিখন্ডিত করা হতো। আর লোহার চিরুনী দিয়ে আঁচড়িয়ে তার গোশত ও হাড় ছিন্নভিন্ন করে দেয়া হতো। এটা তাদেরকে তাদের দীন হতে টলাতে পারেনি। কসম আল্লাহর, আল্লাহ এই দীনকে অবশ্যই পূর্ণতা দিবেন। এমনকি একজন আরোহী সান‘আ হতে হাযারামাউত পর্যন্ত সফর করবে, সে আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কাউকেই ভয় করবে না। আর তার মেষপালের জন্য নেকড়ে ছাড়া কারো ভয় করবে না। কিন্তু তোমরা তো তাড়াহুড়ো করছ।” [২৫]
হ্যাঁ, যুলুম একদিন বন্ধ হয়ে যাবে আর ইনসাফ একদিন কায়েম হবে। মাযলুমদের আত্মত্যাগ কখনো বৃথা যাবে না ইন শা আল্লাহ।
.
দিনটি ছিলো ১৮ই জুন ২০২১ রোজ শুক্রবার। উমার ফারুক ত্রিপুরাকে নির্মমভাবে কিভাবে হত্যা করা হলো তার নিদারুণ এক চিত্র তুলে ধরেছে পার্বত্যনিউজ। তাদের ভাষ্যমতে,
মেজো মেয়ে আমেনার বর্ণনা মতে, তার বাবা প্রতিদিন রাতে এশার নামাজ পড়ে এসে পরিবারের সাথে রাতের খাবার খান। ১৮ জুন শুক্রবার দিবাগত রাতেও অন্যান্য দিনের মতোই তার বাবা এশার নামাজ শেষ করে বাড়িতে ফিরে একটি চেয়ারে বসে বিশ্রাম গ্রহণ করছিলেন। বাড়ির অন্যান্যরা রাতের খাবার রেডি করছিলো। এ সময় একটি কণ্ঠস্বরে ঘরের বাইরে থেকে তার পূর্বের ত্রিপুরা নাম ধরে তাকে ডাক দেয়।


ওমর ফারুক এই ডাকের অর্থ বুঝতে পেরেছিলেন। তাই তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে জানালার ফাঁক দিয়ে বাইরে দেখার চেষ্টা করেন এবং ঘরের ভেতরেই অবস্থান করেন। এ সময় পাশের জঙ্গল থেকে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা দরোজা ভেঙে ঘরে ঢুকে তার দিকে অস্ত্র তাক করলে ওমর ফারুকের স্ত্রী রাবেয়া বেগম স্বামীকে রক্ষা করতে ছুটে যান। কিন্তু সন্ত্রাসীরা তার বুকে লাথি মারলে তিনি ছিটকে পড়ে যান। এসময় সন্ত্রাসীরা খুব কাছে থেকে ওমর ফারুকের মাথায় দুই রাউন্ড গুলি করলে তিনি মুখ থুবড়ে পড়ে যান এবং সাথে সাথেই শাহাদাত বরণ করেন। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে আসে, কিন্তু তার আগেই সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। আমেনার দাবী, অন্যান্য দিন পাড়াগুলোর প্রত্যেক বাড়িতে বাইরে সোলার বিদ্যুতের বাল্ব জ্বললেও ওইদিন পাড়ায় কোনো বাড়ির বাইরের আলো জ্বালানো হয় নি। [২৬]
.
তাকে কারা হত্যা করতে পারে? কেনই বা হত্যা করবে? এ বিষয়ে সাংবাদিক ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক গবেষক মেহেদী হাসান পলাশ বলেন,
‘নও মুসলিম ওমর ফারুক (পূর্ব নাম পূর্ণেন্দু ত্রিপুরা) বন্ধুর দাওয়াতে ২০১৪ সালে খ্রিষ্টান ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। এশার নামাজের পরে মসজিদের বাইরে গেলে, সন্ত্রাসীরা তার বুকে ও মাথায় গুলি করে, এর কিছুক্ষণ পর তিনি শহীদ হন। ওমর ফারুক ওই অঞ্চলের প্রথম মুসলমান এবং ওই মসজিদের ইমাম। ইসলাম গ্রহণের কারণে দীর্ঘদিন যাবৎ সন্ত্রাসীরা মুসলমানদের হুমকি দিয়ে আসছিল। তারই জেরে নওমুসলিম ওমর ফারুক ত্রিপুরাকে শহীদ করা হয়েছে। [২৭]
.
এ বিষয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বাঙালি নাগপদের সভাপ কাজী মুজিবর রহমান অভিযোগ করে বলেন,
ওমর ফারুককে জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সন্ত্রাসীরা বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করেছে। মুসলিম হওয়াটাই ছিল তার মূল অপরাধ। তিনি জড়িতদের গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। [২৮]


স্থানীয়রা বলেছেন,
এটা পাহাড়ি সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের কাজ। কেউ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলে এই সশস্ত্র গ্রুপগুলোর টার্গেটে পরিণত হয় তারা। [৫ দিনেও শনাক্ত হয়নি ওমর ফারুকের খুনিরা, নয়াদিগন্ত, ২৪ জুন ২০২১]
মহান আল্লাহ উমার ফারুক ত্রিপুরাকে শহীদ হিসেবে কবুল করে নিন!
.
মাওলানা উমার ফারুক ত্রিপুরাঃ উমার ফারুক ত্রিপুরা রহিমাহুল্লাহ প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কোনো মাওলানা নন। উমার ফারুক ত্রিপুরা রহিমাহুল্লাহর নামের পূর্বে কেন ‘মাওলানা’ ব্যবহার করলাম? ভারত উপমহাদেশে যারা আলিয়া মাদ্‌রাসা হতে কামিল পাশ করে কিংবা কওমী মাদ্‌রাসা হতে দাওরা পাশ করে তাদের নামের পূর্বে ‘মাওলানা’ উপাধিটি যুক্ত করা হয়। এটি এই অর্থে করা হয় যে, তারা দীনি বিদ্যাপীঠ হতে কুরআন-সুন্নাহর শিক্ষালাভ করার পর তা নিজ নিজ সমাজে ছড়িয়ে দিবে, আমাদের অবধি দীনকে ছড়িয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে তারা আমাদের অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেছে বা বন্ধুর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। দীনি বিষয়ে তারা আমাদের মাওলানা অর্থাৎ, হচ্ছে আমাদের দীনি অভিভাবক বা বন্ধু।

মাওলার অনেক অর্থ হয় এখানে সাধারণ অভিভাবক/বন্ধু বুঝাতে শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। মাওলা+না, ‘মাওলা’ অর্থ অভিভাবক/বন্ধু আর ‘না’ অর্থ আমাদের। উমার ফারুক ত্রিপুরা রহিমাহুল্লাহ পাহাড়ি মুসলিমদের ইসলাম গ্রহণের সূচনাকাল হতে মাওলার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন, শুধু দীনি ক্ষেত্রে নয়, বরং দীনি ও দুনিয়াবি উভয় ক্ষেত্রে। পাহাড়ি মুসলিমরা আমাদেরই ভাই-বোন, তারা আমাদের থেকে আলাদা নয়, তাদের মাওলা আমাদেরও মাওলানা। পাহাড়ে ইসলাম পৌঁছানোর যে দায়িত্ব ছিলো আমাদের ঘাড়ে, সে দায়িত্ব পালনে আমাদের অভিভাবক বা বন্ধু হয়েছেন উমার ফারুক ত্রিপুরা রহিমাহুল্লাহ। প্রাতিষ্ঠানিক ‘মাওলানা’ উপাধিটি সামনে রাখলে বলতে হয় যে, আমরা প্রাতিষ্ঠানিক অনেক মাওলানারা যেখানে দীনি অভিভাবকত্ব গ্রহণে বা দীনিবন্ধু হওয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছি, এমনকি আল্লাহর এই বাণী,
فَلَوْلَا نَفَرَ مِنْ كُلِّ فِرْقَةٍ مِنْهُمْ طَائِفَةٌ لِيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ وَلِيُنْذِرُوا قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُوا إِلَيْهِمْ لَعَلَّهُمْ يَحْذَرُونَ
“অতঃপর তাদের প্রত্যেক দল হতে একটি ক্ষুদ্র দল কেন বেরোয় না, যাতে তারা দীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করতে পারে এবং তাদের সম্প্রদায়কে ভীতিপ্রদর্শন করতে পারে, যখন তারা তাদের কাছে ফিরে আসবে। আশা করা যায় তারা সাবধান হবে।” [২৯]


সামনে রেখে নিজের এলাকাবাসী বা সম্প্রদায়কে পর্যন্ত আল্লাহর ভয় প্রদর্শন করতে ব্যর্থ হয়েছি, উল্টো অনেকে নিজের এলাকা ত্যাগ করে আরামদায়ক আবাসকে দীন প্রচারে বেছে নিয়েছি, সেখানে আমাদের চাইতে শতোগুণ ভালো ভূমিকা পালন করেছেন উমার ফারুক ত্রিপুরারা; আমরা তাদের অবধি ইসলামকে পৌঁছে দিতে না পারলেও, তাঁরা ইসলামকে যতোটুকুই জেনেছেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিজেদের পাহাড়ি অঞ্চলে ছড়িয়ে দিয়েছেন। এই উমার ফারুক ত্রিপুরারাই আমাদের পাহাড়ি মাওলানা। আল্লাহ সকলের আত্মত্যাগ কবুল করে নিন!

.
[১] ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী, উইকিপিডিয়া বাংলা
[২] যেভাবে হত্যা করা হয় শহীদ ওমর ফারুক ত্রিপুরাকে, পার্বত্যনিউজ, ২৩ জুন ২০২১
[৩] নামাজ পড়ে ফেরার পথে পাহাড়ে একজনকে গুলি করে হত্যা, যুগান্তর, ১৯ জুন ২০২১; বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে গুলি করে একজনকে হত্যা, প্রথম আলো, ১৯ জুন ২০২১; যেভাবে হত্যা করা হয় শহীদ ওমর ফারুক ত্রিপুরাকে, পার্বত্যনিউজ, ২৩ জুন ২০২১; সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
[৪] আস-সহীহ, বুখারী, ৩৭৯৬
[৫] সূরাতুয যারিয়াতঃ ৫৬
[৬] যেভাবে হত্যা করা হয় শহীদ ওমর ফারুক ত্রিপুরাকে, পার্বত্যনিউজ, ২৩ জুন ২০২১; ৫ দিনেও শনাক্ত হয়নি ওমর ফারুকের খুনিরা, নয়াদিগন্ত, ২৪ জন ২০২১
[৭] Sharif Muhammad, (মাওলানা শরীফ মুহাম্মাদ), sharif.muhammad.75, ফেসবুক স্ট্যাটাস জুন ২০
[৮] সূরাতুন নাহলঃ ১২০
[৯] যেভাবে হত্যা করা হয় শহীদ ওমর ফারুক ত্রিপুরাকে, পার্বত্যনিউজ, ২৩ জুন ২০২১
[১০] সূরা ইউনুসঃ ২৫
[১১] Sab’a Sanabil Foundation – কে দেয়া তার সাক্ষাৎকার, shorturl.at/ouCJQ
[১২] আস-সহীহ, মুসলিম, ৫৩৩
[১৩] আস-সুনান, ইবনু মাজাহ, ৭৩৮; আলবানী ও ফুয়াদ আব্দুল বাকীর মতে সহীহ
[১৪] মুসনাদ, বাযযার, ৭২৮৯; সহীহুল জা’মি, আলবানী, ২৩৬; আলবানীর মতে সহীহ
[১৫] যেভাবে হত্যা করা হয় শহীদ ওমর ফারুক ত্রিপুরাকে, পার্বত্যনিউজ, ২৩ জুন ২০২১
[১৬] সূরাতুল মুদ্দাছছিরঃ ১-২
[১৭] আস-সহীহ, মুসলিম, ১৮৯৩
[১৮] Sab’a Sanabil Foundation – কে দেয়া তার সাক্ষাৎকার, shorturl.at/ouCJQ
[১৯] যেভাবে হত্যা করা হয় শহীদ ওমর ফারুক ত্রিপুরাকে, পার্বত্যনিউজ, ২৩ জুন ২০২১
[২০] আতহার নূর, atharnur2014, ফেসবুক স্ট্যাটাস ২১ জুন
[২১] আতহার নূর, atharnur2014, ফেসবুক স্ট্যাটাস ২১ জুন
[২২] সূরাতুল আসরঃ ৩
[২৩] যেভাবে হত্যা করা হয় শহীদ ওমর ফারুক ত্রিপুরাকে, পার্বত্যনিউজ, ২৩ জুন ২০২১
[২৪] যেভাবে হত্যা করা হয় শহীদ ওমর ফারুক ত্রিপুরাকে, পার্বত্যনিউজ, ২৩ জুন ২০২১
[২৫] আস-সহীহ, বুখারী, ৬৯৪৩
[২৬] যেভাবে হত্যা করা হয় শহীদ ওমর ফারুক ত্রিপুরাকে, পার্বত্যনিউজ, ২৩ জুন ২০২১
[২৭] ৫ দিনেও শনাক্ত হয়নি ওমর ফারুকের খুনিরা, নয়াদিগন্ত, ২৪ জুন ২০২১
[২৮] ৫ দিনেও শনাক্ত হয়নি ওমর ফারুকের খুনিরা, নয়াদিগন্ত, ২৪ জুন ২০২১
[২৯] সূরাতুত তাওবাহঃ ১২২

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

twelve + 1 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য