وَعَنْ أَبِي مُوسَى عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ: «إِنَّ بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ فِتَنًا كَقِطَعِ اللَّيْلِ الْمُظْلِمِ يُصْبِحُ الرَّجُلُ مُؤْمِنًا وَيُمْسِي كَافِرًا وَيُمْسِي مُؤْمِنًا وَيُصْبِحُ كَافِرًا الْقَاعِد خير من الْقَائِم والماشي خَيْرٌ مِنَ السَّاعِي فَكَسِّرُوا فِيهَا قِسِيَّكُمْ وَقَطِّعُوا فِيهَا أَوْتَارَكُمْ وَاضْرِبُوا سُيُوفَكُمْ بِالْحِجَارَةِ فَإِنْ دُخِلَ عَلَى أَحَدٍ مِنْكُمْ فَلْيَكُنْ كَخَيْرِ ابْنَيْ آدَمَ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد. وَفِي رِوَايَة لَهُ (ضَعِيف) : «ذَكَرَ إِلَى قَوْلِهِ» خَيْرٌ مِنَ السَّاعِي ثُمَّ قَالُوا: فَمَا تَأْمُرُنَا؟ قَالَ: كُونُوا أَحْلَاسَ بُيُوتِكُمْ . وَفِي رِوَايَةِ التِّرْمِذِيِّ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فِي الْفِتْنَةِ: «كَسِّرُوا فِيهَا قِسِيَّكُمْ وَقَطِّعُوا فِيهَا أَوْتَارَكُمْ وَالْزَمُوا فِيهَا أَجْوَافَ بُيُوتِكُمْ وَكُونُوا كَابْنِ آدَمَ» . وَقَالَ: هَذَا حديثٌ صحيحٌ غريبٌ
اسنادہ حسن ، رواہ ابوداؤد (4259 ، 4262) و الترمذی (2204) ۔
(صَحِيح)
আবূ মূসা (রাঃ) নবী (সা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সা.) বলেছেন: কিয়ামত আসার আগে ঘোর অন্ধকার রাত্রির একাংশের মতো ফিতনাহ্ সংঘটিত হতে থাকবে তাতে কোন ব্যক্তি সকালে মু’মিন এবং বিকালে কাফির এবং বিকালে মু’মিন এবং সকালে কাফিরে পরিণত হতে থাকবে। তাতে বসা ব্যক্তি দণ্ডায়মান ব্যক্তির তুলনায় উত্তম হবে। আর চলমান ব্যক্তি দ্রুতগামী ব্যক্তি অপেক্ষা উত্তম হবে। তখন তোমরা তোমাদের ধনুকগুলো ভেঙ্গে ফেলবে এবং তার রশিগুলো কেটে দিবে। আর তোমাদের তলোয়ার পাথরে ঘষে তার ধার নষ্ট করে দেবে। এ সময় যদি কেউ আগ্রাসী হয়ে তোমাদের কাউকে আক্রমণ করে, তখন সে যেন আদাম (আঃ)-এর দুই ছেলের মধ্যে উত্তম ছেলের নীতি অনুসরণ করে। (আবূ দাউদ)
আবূ দাউদ-এর অপর এক বর্ণনায়, (خَيْرٌ مِّنَ السَّاعِىْ) “দ্রুতগামী অপেক্ষা উত্তম” পর্যন্ত বর্ণনা করা হয়েছে। অতঃপর সাহাবীগণ প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহর রাসূল (সা.)! আমাদেরকে সে সময় কী করতে নির্দেশ দেন? তিনি (সা.) বললেন, সেই সময় তোমরা আপন ঘরের চট হয়ে যাও। (বিছানা যেমন ঘরে পড়ে থাকে, তেমন তোমরাও ঘরে বসে থাকবে, অর্থাৎ ফিতনায় জড়িত হবে না)।
আর তিরমিযীর বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ফিতনার সময় তোমরা নিজেদের ধনুক ভেঙ্গে ফেল এবং তার রশি কেটে ফেল। গৃহের ভিতরে আবদ্ধ থাক এবং আদাম (আঃ)-এর পুত্র (হাবিল)-এর নীতি অনুসরণ কর। ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, হাদীসটি সহীহ গরীব।
সহীহ: আবূ দাউদ ৪২৫৯, তিরমিযী ২১৯৫, ইবনু মাজাহ ৩৯৬১, ইরওয়া ২৪৫১, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ ১৫৩৫, সহীহুল জামি ২০৪৯, সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত তারহীব ৩৩৫৩, মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ্ ৩৭১২০, মুসনাদে আহমাদ ৯০৬১, আবূ ইয়া’লা ৬৫১৫, মুসলিম ১৮৬-(১১৮), সহীহ ইবনু হিব্বান ৬৭০৪, আল মু’জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ৫৫৮, আল মু’জামুল আওসাত্ব ২৭৭৪, আল মুসতাদরাক লিল হাকিম ৬২৬৩, আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী ১৭২৪৯।
ব্যাখ্যা : কিয়ামাতের পূর্বে আবির্ভূত আলামাতসমূহের অন্যতম হলো মানুষের ব্যক্তিগত অবস্থা দ্রুত পরিবর্তন হবে। প্রভাতে কেউ মুসলিম থাকলে সন্ধ্যায় সে নানা কারণে কাফির হয়ে যাবে। সে কারণে নিজের ইসলাম ও ঈমান সুরক্ষায় সাধারণ মানুষের সংস্পর্শ হতে নিজেকে দূরে রাখতে হবে। সে সময়ের বিশাল পরিস্থিতি হতে মুক্ত থাকতে নিজস্ব ধারালো অস্ত্রপাতি ভোঁতা করে দিতে হবে। যেন মারামারি হানাহানিতে লিপ্ত হওয়ার কোন সুযোগ না থাকে। (ইবনু মাজাহ হা. ৩৯৬১, আবূ দাউদ হা. ৪২৫৯)
