وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ الْمُقْسِطِينَ عِنْدَ اللَّهِ عَلَى مَنَابِرَ مِنْ نُورٍ عَنْ يَمِينِ الرَّحْمَنِ وَكِلْتَا يَدَيْهِ يمينٌ الذينَ يعدِلُونَ فِي حُكمِهم وأهليهم وَمَا ولُوا» . رَوَاهُ مُسلم
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর ইবনুল ‘আস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয় সত্যনিষ্ঠ বিচারক আল্লাহ তা‘আলার নিকট তাঁর ডানপাশে নূরের মিম্বারের উপর অবস্থান করবে। যদিও আল্লাহ তা‘আলার উভয় হাতই ডান (কল্যাণকর)। তারা হলো সে সমস্ত বিচারক- যারা তাদের বিচারালয়ে, নিজেদের পরিবার-পরিজনদের মাঝে এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় ন্যায় ও ইনসাফ কায়িম করে। (মুসলিম)[1]
[1] সহীহ : মুসলিম ১৮২৭, নাসায়ী ৫৩৭৯, আহমাদ ৬৪৯২, সহীহ আল জামি‘ ১৯৫৩, সহীহ আত্ তারগীব ১৯৫০।
ব্যাখ্যা: অত্র হাদীসে ন্যায় বিচারক গুণাবলী প্রদান করার সময় মহাগ্রন্থ আল কুরআন থেকে আয়াত উল্লেখ করা হয়েছে। ‘‘তোমরা ইনসাফ করবে, নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা ইনসাফকারীদের পছন্দ করেন।’’ (সূরা আল হুজুরাত ৪৯ : ১৫)
‘‘আর যারা অন্যায়কারী তারা তো জাহান্নামের ইন্ধন।’’ (সূরা আল জিন্ ৭২ : ১৫)
কাযী (রহঃ) বলেছেনঃ ‘মিম্বার’ শব্দটির বিভিন্ন ধরনের অর্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। হাদীসের বাহ্যিক শব্দ অনুযায়ী পৃথিবীর মতো বাস্তব মিম্বার; আবার কেউ কেউ বলেছেন রূপক অর্থে, অর্থাৎ সুউচ্চ স্থান। (শারহে মুসলিম ১২শ খন্ড, ১৮২৮)
‘‘আল্লাহর ডান দিকে থাকবে’’ এর দ্বারা আল্লাহ তা‘আলার নিকট ন্যায়বিচারক শাসকের মর্যাদা ও উচ্চ আসন বুঝানো হয়েছে। কেননা যে ব্যক্তি মর্যাদাবান হয় সে ডান পাশে থাকে।
‘‘আল্লাহ তা‘আলার উভয় হাতই ডান’’ একটি সন্দেহ নিরসনের জন্য এ কথা ব্যবহার করা হয়েছে। যাতে কেউ মনে না করে বাম হাতের বিপরীত ডান হাত উদ্দেশ্য। কেননা বাম হাত ডান হাতের তুলনায় একটু দুর্বল হয়। অথচ আল্লাহ তা‘আলা সকল দুর্বলতা ও অসম্পূর্ণতা থেকে পবিত্র।
সুতরাং আমরা সাধারণভাবে বিশ্বাস করব আল্লাহ তা‘আলার হাত রয়েছে। তার পদ্ধতি বা কেমন তা আমরা জানব না- এটাই আহলুস্ সুন্নাহ্ ওয়াল জামা‘আতের অভিমত। (মিরকাতুল মাফাতীহ, শারহে মুসলিম ১২শ খন্ড, ১৮২৭)
