নদী–খালের জমি দখল হয়ে যাচ্ছে, গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে, পাহাড় কেটে নিশ্চিহ্ন করা হচ্ছে—এটি এখন গোটা দেশের চিত্র। পরিবেশ ধ্বংস এতটা চরম পর্যায়ে চলে গেছে যে কোনো বাধাতেই কিছু হচ্ছে না। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় পাহাড় কাটার মহোৎসব চলছে। গত আট মাসে অন্তত ১৫টি ছোট-বড় পাহাড় কাটার অভিযোগ পাওয়া গেছে ওই এলাকায়। কিছু ঘটনায় প্রশাসন মামলা ও জরিমানা করলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে থাকছে নীরব। এভাবে চলতে থাকলে সেখানে আর কোনো পাহাড় থাকবে না বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিষয়টি খুবই উদ্বেগজনক।
প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, ভারত সীমান্তঘেঁষা উপজেলার গোপীনাথপুর ও বায়েক ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় চলছে ছোট–বড় পাহাড় কাটা। এ দুই ইউনিয়নে থাকা ছোট–বড় টিলা–পাহাড়ের বেশির ভাগই ব্যক্তিমালিকানাধীন। পাহাড়ের মালিকদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে খননযন্ত্র দিয়ে পাহাড় কেটে মাটি ট্রাক্টরে নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী ব্যক্তিমালিকানাধীন বা দখলাধীন থাকলেও পাহাড় ও টিলা কাটা বা মোচনের সুযোগ নেই। তবে অপরিহার্য জাতীয় স্বার্থের প্রয়োজনে অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিয়ে পাহাড় বা টিলা কাটা যেতে পারে।
বড় বড় অনেক পাহাড় কেটে সমতলভূমিতে পরিণত করা হয়েছে। অভিযোগ আছে, কসবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. আমজাদ হোসেন ও তাঁর ভাই গোপীনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য মো. মুক্তার হোসেন এবং একই ইউনিয়নের আরেক ইউপি সদস্য মো. আবদুল মান্নান এসব পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িত। তাঁদের মধ্যে আমজাদ একজন মন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারীর ভগ্নিপতি। আর পাহাড় কাটার ঘটনায় হওয়া একটি মামলায় আবদুল মান্নান আসামি। যদিও আমজাদ হোসেন তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে অভিযান, জরিমানা, মামলাও হচ্ছে। কিন্তু তা কোনোভাবেই যথেষ্ট নয় বলে অনেক পাহাড় আজ সমতলভূমি হয়ে গেছে। কসবার ইউএনও মুহাম্মদ শাহরিয়ার মুক্তার জানিয়েছেন, গত মার্চে পুলিশ নিয়ে অভিযান চালিয়েছেন। জড়িত ব্যক্তিদের এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পাহাড় কাটা চলমান থাকলে অভিযান চালানো হবে।
ইউএনওর এ বক্তব্য কোনোভাবেই সন্তোষজনক নয়। স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা বলছেন, রাজনৈতিক আশ্রয় ছাড়া প্রকাশ্যে অবৈধভাবে পাহাড় কাটা সম্ভব হতো না। পাহাড় কাটার ব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তরকে জানানো হলে তারা পাশ কাটিয়ে এসি ল্যান্ড অথবা ইউএনওকে জানাতে বলে। দপ্তরগুলোর গা ছাড়া ভাব আর সমন্বয়হীনতার জন্য পাহাড় কাটা বন্ধ হচ্ছে না।
প্রশাসন কসবার পাহাড়গুলো রক্ষা করতে পারছে না, এটি খুবই হতাশা ও দুঃখজনক। প্রশ্ন হচ্ছে প্রশাসন কি এতটাই ক্ষমতাহীন যে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারবে না।
