বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিষয়ক জাতিসঙ্ঘ সম্মেলন বা আঙ্কটাড এক নতুন প্রতিবেদনে সতর্ক করেছে যে, ফিলিস্তিনি এলাকাগুলো তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ আর্থিক সঙ্কটের সম্মুখীন হয়ে রয়েছে, যার প্রধান একটি কারণ হলো আন্তর্জাতিক সহায়তা হ্রাস পাওয়া।
আঙ্কটাড জানিয়েছে যে, ফিলিস্তিনি অর্থনীতি এখনো কোভিড-১৯-এর প্রভাব কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। তারা বলছে মহামারীর ফলে কর্মহীনতার মাত্রা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে অধিকৃত অঞ্চলগুলোতে দারিদ্র্য ও দৈন্যদশা আরো গভীরতর হয়েছে।
তারা বলছে, মহামারীর আগের তুলনায় ২০২১ সালে ফিলিস্তিনের জিডিপি পাঁচ দশমিক এক শতাংশ কম ছিল এবং বেকারত্ব ২৬ শতাংশের উচ্চমাত্রায় অবস্থান করছিল। উপাত্ত থেকে দেখা যায় যে, সেখানে ৩৬ শতাংশ মানুষ দারিদ্রসীমার নিচে বসবাস করে। একইসাথে খাদ্য অনিরাপত্তা বৃদ্ধি পেয়ে পশ্চিম তীরে ২৩ শতাংশ ও গাজায় ৫৩ শতাংশে পৌঁছে গিয়েছে।
ফিলিস্তিনিদের জন্য সহায়তা বিষয়ক আঙ্কটাড-এর অর্থনীতিবিদ মুতাসিম এলাগ্রা বলেন, তাদের অর্থনীতি এতটাই দুর্বল যে, সেখানে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না। সে কারণে অনেক ফিলিস্তিনি ইসরাইল ও তাদের বসতিগুলোতে কাজের সন্ধান করতে বাধ্য হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, কর্মসংস্থান ও আয়ের এই উৎসের ওপর ফিলিস্তিনিদের অতিমাত্রায় নির্ভরতা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
এলাগ্রা বলেন, ‘এমন কর্মসংস্থান অনিশ্চিত ও নিরাপত্তাহীন এবং রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সঙ্কটের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। … তাই ফিলিস্তিনি অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার এবং মানুষদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে স্থিতিশীলতা তৈরির বিকল্প এটি হতে পারে না।’
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, দখলের ফলে আরোপিত সীমাবদ্ধতার কারণে ফিলিস্তিনি সরকার কার্যকরভাবে কোভিড-১৯-এর ধাক্কা সামাল দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তাতে বলা হয়, এটি তাদেরকে সেইসব নীতি কৌশল এবং রাজস্ব ও মুদ্রানীতি ব্যবহার করতে দেয়া থেকে বিরত রেখেছে যেগুলো অন্য সরকারগুলোর করতে পেরেছিল।
এলাগ্রা বলেন, এর ফলস্বরূপ গত দু’ বছরে ফিলিস্তিনি সরকার গুরুতর এক রাজস্ব সঙ্কটে জর্জরিত হয়ে রয়েছে।
সূত্র : ভয়েস অফ আমেরিকা
