গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি বাহিনীর চলমান অভিযানে ঘরবাড়ি হারানো বাস্তুহারা ফিলিস্তিনিদের আশ্রয় দেবে না মিসর এবং জর্ডান। বুধবার কায়রোতে জর্ডানের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ এবং মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ এল সিসি এক বৈঠক শেষে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে। দু’দেশের দুই শীর্ষ নেতার বৈঠকের পর মিসরের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের এক মুখপাত্র সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বুধবার কায়রোতে এক সংবাদ সম্মেলনে মিসরের প্রেসিডেন্টের ওই মুখপাত্র বলেন, ‘আজকের বৈঠকে দুই নেতা এই মর্মে একমত হয়েছেন যে গাজায় যে যুদ্ধ চলছে— তা কেবল কোন দেশ বা ভৌগলিক অঞ্চলের নয়, বরং পুরো বিশ্বের জন্য একটি সমস্যা এবং এই সমস্যা সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।’ ‘পাশাপাশি গাজায় উদ্বাস্তু ফিলিস্তিনিদের নিজ দেশে আশ্রয় না দেওয়ার ইস্যুতেও ঐকমত্যে পৌঁছেছেন দুই নেতা। সেই সঙ্গে দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের ভিত্তিতে গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতির জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে তৎপর হওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন।’
ইসরাইলি বাহিনীর টানা দেড় মাসের অভিযানে কার্যত ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে গাজা উপত্যকা, নিহত হয়েছেন ২১ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি। এই নিহতদের ৭০ শতাংশই নারী, শিশু,অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোর-কিশোরী এবং বয়স্ক লোকজন। সেই সঙ্গে আহত হয়েছেন আরও ৫৪ হাজার ৯৬৮ জন এবং এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ৬ হাজার ৭০০ জন। এছাড়া হাজার হাজার পরিবার বাড়িঘর-সহায় সম্বল হারিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন বিভিন্ন স্কুল, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল প্রাঙ্গণে। অন্যদিকে, হামাসের গত ৭ অক্টোবরের হামলায় ইসরাইলে নিহত হয়েছিলেন ১ হাজার ২০০ জন ইসরাইলি ও অন্যান্য দেশের নাগরিক। পাশাপাশি, ইসরাইলের ভূখ- থেকে ২৪২ জন ইসরাইলি ও অন্যান্য দেশের নাগরিকদের সেদিন জিম্মি হিসেবে ধরে নিয়ে গিয়েছিল হামাস যোদ্ধারা। এই জিম্মিদের মধ্যে ইসরাইলিদের সংখ্যা ১০৪ জন। বাকি ১৩৬ জনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, থাইল্যান্ড, জার্মানি, ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা, রাশিয়া ও ইউক্রেনের নাগরিকরা রয়েছেন; এবং রয়েছেন শিশু, নারী, তরুণ-তরুণী এবং বৃদ্ধ-বৃদ্ধা— সব বয়সী মানুষ। আরব নিউজ, দ্য ন্যাশনাল।
