ফিলিস্তিন ছেড়ে অন্য মুসলিম রাষ্ট্রে হিজরত করাই বর্তমানে ফিলিস্তিনিদের জন্য ‘সুন্নাহ’
যুগশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস, ফাক্বীহ ও মুজাদ্দিদ শায়খ মুহাম্মাদ নাছিরুদ্দিন আল-আলবানী রাহিমাহুল্লাহ্ কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিলঃ
ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের (West Bank) অধিবাসীদের জন্য আবাসস্থল ছেড়ে অন্য দেশে হিজরত করা কি জায়েজ???
উত্তরঃ-
শায়খ রাহিমাহুল্লাহঃ-
হে আমার ভাই, তারা ফিলিস্তিন ছাড়তে বাধ্য। যেহেতু তারা কাফিরদেরকে (নিজ ভূমি হতে) বিতাড়িত করতে অক্ষম, তাই তারা (ফিলিস্তিনিরা) দেশ ছাড়তে বাধ্য। (তাদেরকে) এমন দেশে যেতে হবে যেখানে তারা ইসলামী আক্বীদা চর্চা করতে পারবে।
প্রশ্নকারী:- কিন্তু পশ্চিম তীর (West Bank) ছেড়ে অন্য দেশে হিজরত করার অর্থ তো শত্রুকে দেশ জব্দ করতে দেওয়া।
শায়খ রাহিমাহুল্লাহঃ- আমি নিশ্চিত যে এটার উত্তর তুমিই দিতে চলেছো। মক্কা থেকে মাদিনায় হিজরতকারী প্রথম অভিবাসী সম্পর্কে তুমি কেমন ধারণা রাখো তারা কি করেছিল তারা কি মক্কা ছেড়ে চলে যায়নি এবং সেটাকে (মক্কাকে) কাফিরদের হাতে তুলে দিয়ে যায় নি???
প্রশ্নকারী:- অবশ্যই, কিন্তু এটা তারা করেছিল কারণ তারা ছিল দুর্বল এবং নিপীড়িত।
শায়খ রাহিমাহুল্লাহঃ- তুমি এখনো আমার প্রশ্নের উত্তর দাও নি ।
প্রশ্নকারী: তারা (কাফিরদের হাতে) মক্কা ছেড়ে গিয়েছিল।
শায়খ রাহিমাহুল্লাহঃ- তাহলে ফিলিস্তিনিদেরও এটা ছেড়ে দিতে হবে। তারা কি সাহাবীদের চেয়ে ভালো???
প্রশ্নকারী: না, সাহাবীগণ তাদের চেয়ে উত্তম ।
শায়খ রাহিমাহুল্লাহঃ-
এজন্যই দ্বীন (ইসলাম) তোমার মন, তোমার চিন্তা এবং তোমার মতামতের উপর প্রাধান্য পায় এবং অন্যকিছু নয় । তোমার বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষমতা যতই শক্তিশালী এবং মহান হোক না কেন, এগুলো রাছুল ﷺ এর তুলনায় কিছুই না, যার কাছে প্রথমত ওহী এসেছিল এবং দ্বিতীয়ত তাঁর উপর যা অবতীর্ণ হয়েছিল, তিনি তা বাস্তবায়ন করেছিলেন। এজন্য রাছুল ﷺ মক্কা থেকে মাদিনায় হিজরত করেন।
তাহলে মুসলিমরা কেন একই কাজ করে না? কাফিরদেরকে দেশ ছেড়ে দাও। তোমার আপত্তি অন্যান্যদের মতোই যারা বলে যে , আমরা কাফিরদের জন্য দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছি!
আচ্ছা, হ্যাঁ, কাফিরদেরকে দিয়ে দাও, তারা শাসন করুক এবং (তোমরা অন্য মুসলিম রাষ্ট্রে হিজরত করে) তাদেরকে তাড়ানোর প্রস্তুতি নেও।
শায়খ রাহিমাহুল্লাহঃ-
আর রাসূল ﷺ এটাই করেছেন। মক্কা থেকে মাদিনায় সাহাবীদের সাথে হিজরত করে রাসূল ﷺ কি করেছিলেন তারা মক্কা পুনরুদ্ধারের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছিলেন এবং এভাবেই তারা সেখানে জয়ী হয়েছিলেন।তারপর রাসূল ﷺ আবার মুসলিমদেরকে একত্রিত করলেন শহরটি উদ্ধারের জন্য যে শহর থেকে তাদেরকে কাফিরদের কারণে ছেড়ে দিতে হয়েছিল।
আল্লহর রাছুল ﷺ কে মক্কা বিজয়ের অনুমতি দেওয়ার পর তিনি ﷺ বলেছিলেন, “মক্কা বিজয়ের পর আর কোনো হিজরত নেই।”
অতএব, নিজেকে ‘বিচারক’ হিসেবে ভেবো না, যদিও তুমি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী হও। তুমি অল্প ইলম (জ্ঞান) অর্জন করেছো। এজন্য আমরা তাদেরকে (ফিলিস্তিনিদেরকে) বলি না যে, তারা ডাকাতি বা হত্যার ভয়ে পালিয়ে যায়, বরং বলি তারা আল্লহর প্রতি ভয়ের জন্য পালিয়ে যায়।
আর যদি কেউ ইসরাইলে ধ্বংসাত্মক মিসাইল পাঠাতে চায়, তাহলে ফিলিস্তিনিরা নিজেরাও ইহুদিদের সাথে নিজেদেরকে ধ্বংস করবে এবং ক্ষতিগ্রস্থ হবে। কিন্তু যদি ফিলিস্তিনিরা ইসরাইল ছেড়ে চলে যায় তাহলে ইসরাইলের উপর সব ধরনের বোমা ফেলতে
হবে।
▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂■◇■▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂
[ফাতওয়া আল-আলবানী, পৃষ্ঠা ১৮]
☆বঙ্গানুবাদ: খান ইসফার বিন তারিক
[বি.দ্র.: ইংরেজী থেকে বাংলায় অনুবাদ]
