Friday, July 31, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরবিংশ শতাব্দীর কিংবদন্তি মুসলিম চিন্তানায়কের বিদায় হয়েছিল যেদিন

বিংশ শতাব্দীর কিংবদন্তি মুসলিম চিন্তানায়কের বিদায় হয়েছিল যেদিন

সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভি (রহ.) গত শতকে মুসলিম বিশ্বের অন্যতম সংস্কারক ও পথপ্রদর্শক আলেম। ঔপনিবেশিক শাসনের প্রভাব ও পশ্চিমা সংস্কৃতির স্রোতের বিপরীতে মুসলিম বিশ্বে বুদ্ধিবৃত্তিক জাগরণে তাঁর ভূমিকা অনস্বীকার্য।

আরব বিশ্বের খ্যাতিমান আলেম সাইয়েদ কুতুব শহীদ (রহ.) তাঁর সম্পর্কে বলেছেন, ‘লেখকের কলমে বড় বেদনাময় চিত্র ফুটে উঠেছে। নেতৃত্ব থেকে তাদের দূরে নিক্ষিপ্ত হওয়ার চিত্র। যে অধঃপতন একদিকে ছিল আত্মিক, অন্যদিকে তেমনি বাহ্যিক।…লেখক মুসলমানের এই আত্মিক ও বাহ্যিক অধঃপতনের কারণগুলো বর্ণনা করেছেন। তা হলো ধর্মীয় অনুশাসনের মৌলিকত্ব থেকে দূরে সরে আসার ও নেতৃত্বহারা হওয়ার কারণে কী দুর্যোগ ও দুঃসময় নেমে এসেছিল তাদের ওপর।’ (মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কী হারাল? ভূমিকা দ্রষ্টব্য)

জন্ম ও বেড়ে ওঠা : সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভি (রহ.) ৫ ডিসেম্বর ১৯১৩ সালে ভারতের রায়বেরলি শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা আবদুল হাই ও মা খায়রুন নিসা উভয়ে ছিলেন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নাতি হাসান (রা.)-এর বংশধর। মায়ের কাছেই তিনি কোরআন তিলাওয়াত ও আরবি-উর্দু ভাষার প্রাথমিক শিক্ষা নেন। ১৯৩০ সালে দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামার শিক্ষক ড. তাকিউদ্দিন হিলালির কাছে আরবি ভাষা ও সাহিত্যের সর্বোচ্চ শিক্ষা সমাপন করেন। ১৯২৭ সালে তিনি লখনউ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং উর্দু ভাষা ও সাহিত্যে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯২৮ থেকে ১৯৩০ সাল পর্যন্ত তিনি ইংরেজি ভাষা অধ্যয়ন করেন। এ ছাড়া তিনি দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামার বরণ্যে শিক্ষকদের কাছ থেকে হাদিস ও তাফসির শাস্ত্রের পাঠ লাভ করেন।

কর্মজীবন : ১৯৩৪ সালে তিনি দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামার শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৫১ সালে নদওয়াতুল উলামার তৎকালীন শিক্ষা বিভাগের পরিচালক সাইয়েদ সুলাইমান নদভির অনুরোধে তিনি শিক্ষা বিভাগের উপপরিচালকের পদ গ্রহণ করেন এবং ১৯৫৪ সালে সুলাইমান নদভির ইন্তেকাল হলে তিনি শিক্ষা বিভাগের পরিচালক নির্বাচিত হন। ১৯৬৫ সালে বড় ভাই আব্দুল আলী আল হাসানির মৃত্যুর পর তিনি নদওয়াতুল উলামার মহাসচিব নির্বাচিত হন। ১৯৫৫ সালে তিনি আরবি পত্রিকা আল-বাস এবং ১৯৫৯ সালে আর-রায়িদের সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৫৯ সালে তিনি লখনউতে ইসলামিক গবেষণা ও প্রকাশনা সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৮৪ সালে তিনি বিশ্ব ইসলামী সাহিত্য সংগঠনের মহাপরিচালক নির্বাচিত হন।

সাহিত্য সাধনা : ১৯৩১ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে মিসরের আল মানার পত্রিকায় তাঁর সর্বপ্রথম প্রবন্ধ ছাপা হয়। ১৯৩৮ সালে উর্দু ভাষায় ‘সিরাতে আহমাদ শহিদ’ নামে তাঁর সর্বপ্রথম বই প্রকাশিত হয়। ‘আরকানে আরবাআ’, ‘প্রাচ্যের উপহার’, ‘ঈমান যখন জাগল’, ‘সভ্যতা সংস্কৃতিতে মুসলমানের অবদান’, ‘ভারতীয় সভ্যতা-সংস্কৃতি মুসলমানের অবদান’ তাঁর উল্লেখযোগ্য বই। এ ছাড়া তাঁর রচিত ‘মুখতারাত মিন আদাবিল আরব’, ‘কাসানুন নাবিয়্যিন’ ও ‘আল-কিরাতুর রাশিদাহ’ ভারতীয় উপমহাদেশের মাদরাসাগুলোতে পাঠ্য।

পুরস্কার ও সম্মাননা : ১৯৮০ সালে আবুল হাসান আলী নদভি (রহ.) তাঁর ‘মা যা খাসিরাল আলামু বিনহিতাতিল মুসলিমিন’ (মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কী হারাল?)-এর জন্য মুসলিম বিশ্বের নোবেল হিসেবে খ্যাত কিং ফয়সাল ইন্টারন্যাশনাল পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৯৯ সালে সাত খণ্ডে রচিত ‘তারিখে দাওয়াত ওয়া আজিমত’ (সংগ্রামী সাধকদের ইতিহাস)-এর জন্য অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক সেন্টারের পক্ষ থেকে তাঁকে সুলতান ব্রুনেই অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। ১৯৯৯ সালে সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভি (রহ.) দুবাই কর্তৃক বর্ষসেরা আন্তর্জাতিক ইসলামী ব্যক্তিত্ব হিসেবে নির্বাচিত হন। পুরস্কার হিসেবে পাওয়া তাঁর জীবনের সব অর্থই তিনি দাতব্য কাজে ব্যয় করেন।

মৃত্যু : বিংশ শতাব্দীর কিংবদন্তি আলেম সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভি (রহ.) ৩১ ডিসেম্বর ১৯৯৯ শুক্রবার জুমার আগে ইন্তেকাল করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। রায়ব্রেলিতেই তাঁকে দাফন করা হয়।

শায়খ আলী তানতাবি (রহ.) তাঁর অবদান সম্পর্কে লেখেন, ‘আবুল হাসান তাঁর ছাত্রদের হৃদয়ে ইসলামের জন্য অসংখ্য দুর্গ গড়ে তুলেছেন, যে দুর্গ পাথরের চেয়েও শক্তিশালী। তিনি নেককার আলেম ও একনিষ্ঠ দ্বিন প্রচারকদের একটি ছোট দলও তৈরি করেছেন।’ (আল মুসলিমুনা ফিল হিন্দ, ভূমিকা)

তথ্যঋণ : আল্লামা সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভি (রহ.)জীবন ও কর্ম

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

four + 11 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য